কাগজে হাসপাতাল, বরাদ্দ ১৪.৬২ লাখ: মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্য দফতরে অসংগতি

যা জানা জরুরি
- হাসপাতালের অস্তিত্ব নেই, অথচ সরকারি নথিতে তার জন্য চিকিৎসার সরঞ্জাম ও আসবাবের তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে।
- সংশ্লিষ্ট জেলার জন্য ছাড়াও হয়েছে ১৪.৬২ লাখ টাকা।
- মধ্যপ্রদেশের গুনায় এমনই এক ঘটনায় প্রশ্নের মুখে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হাসপাতালের অস্তিত্ব নেই, অথচ সরকারি নথিতে তার জন্য চিকিৎসার সরঞ্জাম ও আসবাবের তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জন্য ছাড়াও হয়েছে ১৪.৬২ লাখ টাকা। মধ্যপ্রদেশের গুনায় এমনই এক ঘটনায় প্রশ্নের মুখে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। রাজপুর নামে একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার বা সিএইচসি দেখিয়ে কেনাকাটার পরিকল্পনা করা হলেও জেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁদের জেলায় এই নামে কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রই নেই।
ঘটনার সূত্র ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা। জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাশিক্ষা অধিকর্তার দফতরের হাসপাতাল প্রশাসন শাখা থেকে জেলাভিত্তিক তালিকা পাঠানো হয়েছিল। উপ-অধিকর্তার স্বাক্ষরিত নির্দেশের সঙ্গে থাকা ‘ক্যাটেগরি সি’ তালিকায় গুনার অধীনে রাজপুর সিএইচসির নাম রয়েছে। অর্থাৎ, প্রশাসনিক কাগজপত্রে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে সরঞ্জাম পাওয়ার উপযুক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকা রাজ্য দফতর থেকে জেলায় পৌঁছতেই বাস্তবের সঙ্গে নথির অমিল ধরা পড়ে।
বরাদ্দের অঙ্কটি ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৫৫২ টাকা। তবে এই অর্থ নিয়ে প্রকাশিত খবরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোনও কোনও প্রতিবেদনে পুরো অর্থই রাজপুরের অস্তিত্বহীন কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিবরণ অনুযায়ী, বাজেটের নথিতে অর্থটি গুনার মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য আধিকারিকের নামে জেলাভিত্তিক বরাদ্দ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে গুনার মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজকুমার ঋষিশ্বর জানিয়েছেন, ওই টাকা গোটা জেলার জন্য। ফলে সম্পূর্ণ ১৪.৬২ লাখ টাকা শুধু কাগুজে হাসপাতালটির পিছনেই খরচ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর প্রমাণ এখনও নেই। নিশ্চিত অসংগতিটি হল, সরকারি সরঞ্জাম বণ্টনের তালিকায় এমন একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম ঢুকেছে, যার অস্তিত্ব জেলা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছেন। অর্থ বরাদ্দ, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং চূড়ান্ত ব্যয়—এই তিনটির হিসাব তাই আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ঋষিশ্বর বিষয়টি জানিয়ে রাজ্য দফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের নির্দেশ চেয়েছেন। এখানেই উঠছে প্রশাসনিক যাচাইয়ের প্রশ্ন। একটি কেন্দ্রের জন্য কত সরঞ্জাম প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে হলে সেখানে কী আছে, কী নেই এবং প্রতিষ্ঠানটি কোথায় চলছে, তার তথ্য থাকা দরকার। প্রকাশিত বিবরণে রাজপুরের ক্ষেত্রে সেই মূল্যায়নের নথি পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রটির নাম কে তালিকায় তুললেন এবং কোন তথ্যের ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হল, সেটিই এখন অনুসন্ধানের বিষয়।
স্বাস্থ্য দফতরের প্রবীণ উপ-অধিকর্তা নীতিন পটেল জানিয়েছেন, জেলার চিঠি থেকেই বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে; কীভাবে ঘটনাটি ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্যপরিকাঠামোর পুরনো ঘাটতি। ২০২৪ সালের সিএজি রিপোর্টে, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে, গ্রামীণ এলাকায় ৬০৪টি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের প্রয়োজনের বিপরীতে ৩৫৫টি থাকার কথা বলা হয়েছে। ঘাটতি ছিল ২৪৯টি, অর্থাৎ প্রায় ৪১ শতাংশ। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল ২,৪০৪টি, পাওয়া গিয়েছিল ১,২৫৭টি। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন এবং বাস্তব সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান ধরা পড়ে। এগুলি অবশ্য পুরনো নিরীক্ষার হিসাব, বর্তমান পরিস্থিতির পরিসংখ্যান নয়।
সিএজি আরও জানিয়েছিল, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২৭টি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, ৫৪টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৩৬টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হয়েছিল। প্রয়োজনের তুলনায় ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনার নথিও নিরীক্ষায় পাওয়া যায়নি। এই পটভূমিতে রাজপুরের ঘটনা স্বাস্থ্যপরিকল্পনার তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য, সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করে।
এখন প্রয়োজন মূল অনুমোদন, জেলা থেকে পাঠানো চাহিদা, ক্রয়ের নির্দেশ এবং অর্থব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা। নাম নথিভুক্ত করার ভুল, যাচাইয়ের ব্যর্থতা, নাকি ইচ্ছাকৃত অনিয়ম—তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি ভুলটি সংশোধন করে প্রকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে বরাদ্দ ও সরঞ্জাম পৌঁছেছে কি না, সেটিও জানানো জরুরি। মানুষের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত অর্থের গন্তব্য সম্পর্কে অস্পষ্টতা দূর করার দায়িত্ব স্বাস্থ্য দফতরেরই। জেলার আপত্তি ওঠার পর সেই জবাবদিহির প্রয়োজন এখন আরও বেড়ে গিয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



