‘আম্বানিই কি ভারতের আসল কর্তা?’ প্রশ্ন মাস্কের

যা জানা জরুরি
- মাস্কের মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ রিলায়্যান্স জিয়োর চেয়ারম্যান আকাশ আম্বানি।
- বিতর্কে যোগ দিয়ে রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ, ‘অন্যজনকে চিনতে পারা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’ স্পেসএক্সের উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্ককে ভারতে অনুমোদন দিতে দেরি করে কেন্দ্র প্রভাবশালী…
- বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, দফতর জানিয়েছে, উপগ্রহ যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণবিধি সমস্ত সংস্থার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মাস্কের মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ রিলায়্যান্স জিয়োর চেয়ারম্যান আকাশ আম্বানি। বিতর্কে যোগ দিয়ে রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ, ‘অন্যজনকে চিনতে পারা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’
স্পেসএক্সের উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্ককে ভারতে অনুমোদন দিতে দেরি করে কেন্দ্র প্রভাবশালী ধনকুবেরদের প্রতিযোগিতা থেকে আড়াল করছে—এই অভিযোগ খারিজ করল টেলিযোগাযোগ দফতর বা ডিওটি। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, দফতর জানিয়েছে, উপগ্রহ যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণবিধি সমস্ত সংস্থার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
ইলন মাস্ক অবশ্য বৃহস্পতিবারও নিজের সমালোচনায় অনড় ছিলেন। ভারতে স্টারলিঙ্ক চালুর পক্ষে একাধিক পোস্ট তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি সরাসরি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির নাম করে প্রশ্ন তোলেন, তিনিই কি ভারতের ‘আসল কর্তা’?
মাস্ক লেখেন, ‘ভারতের যে সমস্ত এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা দুর্বল বা একেবারেই নেই, এমনকি মোবাইলের নেটওয়ার্কও নেই, সেখানে স্টারলিঙ্ক খুবই কাজে আসবে। আমেরিকা-সহ কোনও দেশেই সর্বত্র নিখুঁত পরিষেবা নেই। কিন্তু যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদের জন্য পরিষেবার এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে স্টারলিঙ্ক।’
এর পরের একটি পোস্টে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির নাম উল্লেখ করে মাস্ক প্রশ্ন করেন, ‘আম্বানিই কি ভারতের আসল কর্তা?’
তাঁর আরও প্রশ্ন, ‘স্টারলিঙ্ক ১৬৫টিরও বেশি দেশে লাইসেন্স পেয়েছে। ভারত সরকারের প্রতিটি আইন ও শর্ত মেনে চলতে পাঁচ বছর ব্যয় করেছে। তা হলে এখনও লাইসেন্স নেই কেন?’
এর আগের দিন, বুধবার, মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, ‘কয়েকজন প্রভাবশালী ধনকুবের’ ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালু হতে বাধা দিচ্ছেন। সেই অভিযোগের জবাবেই বৃহস্পতিবার বিবৃতি দেয় টেলিযোগাযোগ দফতর। ভারতী গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট ওয়ানওয়েব এবং রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থা—এই দুই সংস্থাও ডিওটির অনুমোদন পেয়েছে।
তবে দফতর জানিয়েছে, ওই দুই সংস্থার নিরাপত্তা মূল্যায়নও ‘এখনও চলছে’। সমস্ত উপগ্রহ যোগাযোগ পরিষেবা প্রদানকারীর ক্ষেত্রে একই নিয়ন্ত্রণবিধি প্রযোজ্য বলে জোর দিয়েছে কেন্দ্র।
ডিওটি বলেছে, ‘উপগ্রহ যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং তা বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে দাবি করে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা বা তার প্রয়োগ অন্যায্য কিংবা বৈষম্যমূলক—এমন বক্তব্য ভিত্তিহীন এবং ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত।’
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে স্পেসএক্সের কর্তা লরেন ড্রেয়ার আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের এই সময়ের মধ্যে ভারতে পরিষেবা চালু করার অনুমতি পেয়ে যাবে স্টারলিঙ্ক। তিনি আরও জানান, ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য এ দেশেই প্রক্রিয়াকরণের জন্য সংস্থা ইতিমধ্যে ভারতে ২০টি পরিকাঠামো কেন্দ্র গড়ে তুলেছে।
টেলিযোগাযোগ দফতরের বক্তব্য, উপগ্রহ যোগাযোগের লাইসেন্স পাওয়া প্রত্যেক সংস্থাকে পরিষেবা চালুর আগে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা শর্ত পূরণের প্রমাণ দিতে হবে।
দফতর বলেছে, ‘লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, এই ধরনের প্রত্যেক লাইসেন্সধারীকে দেখাতে হবে যে তারা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত মেনে চলছে। সমস্ত ব্যবহারকারী এবং তাঁদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিষেবাগুলি যাতে বিভিন্ন নিরাপত্তাগত প্রয়োজন পূরণ করে, সেটাই এর উদ্দেশ্য।’
স্টারলিঙ্কের নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ায় কোনও সরকারের বিরুদ্ধে মাস্কের সমাজমাধ্যম এক্সে(টুইটার) সমালোচনা এই প্রথম নয়।
গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের বিরুদ্ধেও বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। সে দেশের ‘ব্রড-বেসড ব্ল্যাক ইকনমিক এমপাওয়ারমেন্ট’ নীতি অনুযায়ী, বিদেশি টেলিযোগাযোগ সংস্থাকে লাইসেন্স পেতে হলে তার মালিকানার অন্তত ৩০ শতাংশ ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর হাতে থাকতে হবে। এই নীতির বিরুদ্ধেই সরব হন মাস্ক।
তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কৃষ্ণাঙ্গ নই—শুধু এই কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকায় স্টারলিঙ্ককে ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়ার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না।’
এদিকে, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে মাস্কের মন্তব্য নিয়ে রিলায়্যান্স জিয়োর চেয়ারম্যান আকাশ আম্বানিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



