খবর

ট্রেনে চড়ার শখে ঘরছাড়া, ফেসবুকের হাত ধরে ২১ বছর পরে মায়ের কোলে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • পনেরো বছর বয়সে ট্রেনে উঠে হারিয়ে গিয়েছিলেন রামশঙ্কর কুশওয়াহা।
  • গোয়ালিয়রের এক পুলিশকর্তার দেওয়া ছোট্ট ভিডিয়োয় তাঁকে চিনতে পারেন দাদা।
  •   অধিকাংশ মানুষের কাছে মহরাইল নেহাতই একটি ছোট, শান্ত, অনাড়ম্বর রেলস্টেশন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

পনেরো বছর বয়সে ট্রেনে উঠে হারিয়ে গিয়েছিলেন রামশঙ্কর কুশওয়াহা। গোয়ালিয়রের এক পুলিশকর্তার দেওয়া ছোট্ট ভিডিয়োয় তাঁকে চিনতে পারেন দাদা। ছত্রিশে ঘরে ফিরলেন শঙ্কর।

 

 অধিকাংশ মানুষের কাছে মহরাইল নেহাতই একটি ছোট, শান্ত, অনাড়ম্বর রেলস্টেশন। চোখের পলকে পেরিয়ে গেলে আলাদা করে মনে রাখার কিছু নেই। পূর্ব-মধ্য রেলের সকরি–ঝঞ্ঝারপুর–লৌকাহা বাজার শাখার এই স্টেশনটিই কিন্তু রামশঙ্কর কুশওয়াহার বড় আপন। এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটত তাঁর, ট্রেনের স্বপ্ন দেখতে দেখতে। কখন একটা ট্রেনে চড়ার সুযোগ মিলবে, সেই অপেক্ষা। পরের স্টেশন পর্যন্ত যেতে পারলেই বা মন্দ কী! মধুবনির মহেশপুরা গ্রামে তাঁদের বাড়ি যে এখান থেকে মাত্র চারশো মিটার দূরে।

এই স্টেশন থেকেই একদিন একটি ট্রেনে উঠে পড়েছিল পনেরো বছরের শঙ্কর। ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিল হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে, মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে। সেই যাত্রাই তাকে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখল একুশ বছর।

গত ৭ সেপ্টেম্বর পরিবারের সঙ্গে আবার মিলিত হয়েছেন শঙ্কর। বয়স এখন ছত্রিশ। তাঁর ঘরে ফেরার পথ খুলে দিয়েছে গোয়ালিয়রের ডেপুটি পুলিশ সুপার সন্তোষ পটেলের ফেসবুকে দেওয়া একটি ভিডিয়ো। রাজ্য সরকার পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্র ‘আশ্রম স্বর্গ সদন’-এ গিয়ে ভিডিয়োটি তুলেছিলেন পটেল। সেখানেই আট বছর ধরে থাকছিলেন শঙ্কর। ভিডিয়োয় দেখা যায়, মাথায় মুরেঠা বাঁধা এক ব্যক্তি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন—‘বিহারের আনন্দনগরের শঙ্কর কুশওয়াহা’। উত্তর ভারতের কৃষকদের মাথায় জড়ানো চেনা কাপড়টির নামই মুরেঠা।

সন্তোষ পটেল বলেন, “ওঁর হাসিটা আমাকে টেনেছিল। সেই হাসির কথাই আমি ফেসবুকে লিখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত ওই পোস্ট থেকেই ওঁর খোঁজ মিলল। আমার দেওয়া একটি ভিডিয়ো একজন মানুষকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছে—এতে আমি ভীষণ আনন্দিত।”

২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, জন্মাষ্টমীর দিন, ফেসবুকে ভিডিয়োটি চোখে পড়ে শঙ্করের বড়দা ললিতের। ললিত শাস্ত্রী পুজোআচ্চা করেন, পাশাপাশি মোটরবাইকের যন্ত্রাংশের ব্যবসা চালান। তাঁর কথায়, “হাত কাঁপছিল। সেই অবস্থাতেই সন্তোষ পটেলের পোস্টে দেওয়া নম্বরে ফোন করলাম।”

ট্রেনে চড়ার নেশা শঙ্করের ছোটবেলা থেকেই। বাবা রাজেন্দ্র জানান, মাঝেমধ্যেই কোনও লোকাল ট্রেনে উঠে পড়ত ছেলে। ঘণ্টাখানেক বা দু’ঘণ্টা বাদে আবার ফিরে আসত।

কিন্তু ২০০৫ সালের ৬ ডিসেম্বরের যাত্রাটি তাঁকে দু’দশকেরও বেশি সময়ের জন্য পরিবার থেকে আলাদা করে দিল। সেদিন ছিল বিবাহ পঞ্চমী। রাম-সীতার বিবাহোৎসব ঘিরে মহেশপুরা সরগরম। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সাধুসন্ন্যাসীরা এসেছিলেন।

শঙ্কর বলেন, “অযোধ্যার এক সাধু জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে যাব কি না। আমি জানতে চাইলাম, কী করে যাবেন। তিনি বললেন, ‘ট্রেনে’।”

সঙ্গে এক প্রস্থ বাড়তি জামাকাপড় নেওয়ার কথাও ভাবেননি শঙ্কর। বেরিয়ে পড়েছিলেন অযোধ্যার উদ্দেশে। তার পর কী হয়েছিল, আজও স্পষ্ট নয়। একের পর এক ট্রেনযাত্রার মধ্যে সব যেন ঝাপসা হয়ে গিয়েছে। পুলিশ এবং পরিবারের ধারণা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। কোথায় আছেন, কোথায় ফিরতে হবে—বুঝে উঠতে পারেননি।

বড়দা ললিত বলেন, “ও বারবার ‘ঝঞ্ঝারপুর’ আর ‘ঝাড়খণ্ড’ গুলিয়ে ফেলত। বুঝতেই পারত না, একটা মধুবনির একটি ব্লক, আর অন্যটা বিহারের দক্ষিণে গোটা একটা রাজ্য।”

২০১৮ সালে গোয়ালিয়র রেলস্টেশনে শঙ্করকে খুঁজে পান আশ্রম স্বর্গ সদনের কর্মীরা।

শঙ্কর স্বীকার করেন, “কী করে, কবে গোয়ালিয়রে পৌঁছেছিলাম, পরিষ্কার মনে নেই। মনে আছে, বহু বছর গোয়ালিয়র স্টেশনের আশপাশে থাকতাম। প্ল্যাটফর্মে কিংবা খোলা জায়গায় ঘুমোতাম। ভিক্ষা করতে ভাল লাগত না। পথচলতি মানুষ বা দোকানদারেরা খাবার দিলে খেতাম। রাস্তার ধারের ধাবায় টুকটাক কাজও করতাম।”

আশ্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পবন সূর্যবংশী বলেন, “সুস্থ হয়ে ওঠা পর্যন্ত ওঁকে চিকিৎসার মধ্যে রাখা হয়েছিল। দিল্লিতে এক ভাই থাকেন বলেও জানিয়েছিলেন। পরে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, তিনি ওঁর দাদা লল্লন কুশওয়াহা।”

শঙ্করের একুশ বছরের এই দুর্ভোগ বিহার এবং উত্তর ভারতের সংলগ্ন রাজ্যগুলির একটি বৃহত্তর সমস্যার কথাও মনে করিয়ে দেয়। বড় বড় রেলপথ ধরে হারিয়ে যান বহু মানুষ। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, বাড়ি ছেড়ে পালানো ছেলেমেয়ে এবং যাঁদের বোঝার বা মনে রাখার অসুবিধা রয়েছে, তাঁরা কখনও বাড়ি থেকে কয়েকশো, কখনও কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়ে পৌঁছন।

বিহার রেল পুলিশের কাছ থেকে সংগৃহীত বিহার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে গোটা রাজ্যে ১৬,৫৫৯ জন শিশুর নিখোঁজ হওয়ার খবর নথিভুক্ত হয়েছিল। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও কম—৭,২১৯ জন—উদ্ধার হয় বা ফিরে আসে। ২০২৫ সালে বিহারে ১৪,৬৯৯ জন শিশুর নিখোঁজ হওয়ার খবর নথিভুক্ত হয়। রাজ্য তাদের মধ্যে ৭,৭৭২ জনের খোঁজ পায়।

নিখোঁজ মানুষকে খুঁজে পেতে সামাজিক মাধ্যম কতটা সাহায্য করেছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে রেল পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশ প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। নাগরিকদের জন্য ‘খোয়া-পায়া’ পোর্টাল, ‘ট্র্যাকচাইল্ড’ এবং জাতীয় তথ্যভান্ডারের পাশাপাশি কখনও কখনও কাজে লাগানো হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমও।

মহেশপুরায় কুশওয়াহা পরিবারের সাদামাটা মাটির বাড়িতে তখন নতুন করে আশা জাগছে। এত বছর আগে ঘর ছেড়ে যাওয়া সেই ছোট ভাই-ই কি ভিডিয়োর মানুষটি?

সত্তর বছরের মা লক্ষ্মীদেবীর কিন্তু চিনতে অসুবিধা হয়নি। সেই মুহূর্তের কথা মনে করে বললেন, “আমি বললাম, ‘আরে, এ তো শঙ্কর, আমার ছেলে!’ বিবাহ পঞ্চমীতে হারিয়ে গিয়েছিল ছেলে। জন্মাষ্টমীতে, কৃষ্ণের জন্মদিনে, তার খোঁজ পেলাম। আমাদের কাছে এ যেন শঙ্করের নতুন করে জন্ম হল।”

কিন্তু ঘরে ফেরার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল প্রশাসনিক নিয়মকানুন। শঙ্করের কোনও পরিচয়পত্র ছিল না। কখনও স্কুলে পড়েননি। পরিবার তাঁকে রামশঙ্কর বলে ডাকলেও সরকারি কাগজে তাঁর অস্তিত্বই ছিল না। গ্রামের মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বোঝাতে হয়েছে। বিস্তারিত যাচাইয়ের পরে স্থানীয় ঝঞ্ঝারপুর থানার আধিকারিকেরা তাঁর পরিচয়সংক্রান্ত সরকারি শংসাপত্রে সই করেন।

এরপর দাদা লল্লন কুশওয়াহা এবং তুতো ভাই সঞ্জীব কুমার গোয়ালিয়রের ট্রেনে ওঠেন। তাঁদের দেখামাত্র চিনতে পারেন শঙ্কর।

মা লক্ষ্মীদেবী বলেন, “ও কোথায় আছে জানার পরেই বড় ছেলে ললিতকে বলেছিলাম, প্রতিটি খবর আমাকে জানাতে হবে। ভিডিয়োয় কথা বলার ব্যবস্থাও করতে বলেছিলাম। যখন কথা হলো, শঙ্কর কেঁদে ফেলল।”

গোয়ালিয়র থেকে আবার ট্রেনে চড়লেন শঙ্কর। এবার গন্তব্য নিজের বাড়ি। পটনায় দাদা যখন তাঁর জন্য প্যান্ট আর জামা কিনছিলেন, তখন ছোট্ট একটি আবদার করলেন তিনি। একটি টুপি চাই। মাথার সামনের পাতলা হয়ে যাওয়া চুল ঢাকবেন।

মধুবনিতে জাতীয় সড়কের ধারে কানহৌলি চকে তাঁকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছিলেন প্রায় পাঁচশো মানুষ। মিথিলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাগ’ মাথায় পরিয়ে, হলুদ কাপড় দিয়ে তাঁকে বরণ করা হো। গ্রামের মানুষ সঙ্গে চললেন, শঙ্কর হেঁটে ফিরলেন বাড়িতে। সেখানে অপেক্ষায় আনন্দে ভেসে যাওয়া মা-বাবা। আর তাঁর প্রিয় খাবার—‘বচকা’ ও ‘বড়ি’।

পঁচাত্তর বছরের বাবা রাজেন্দ্র কুশওয়াহা বলেন, “বহু বছর ধরে ছেলেদের গুনতে গিয়ে দুইয়ের পর আর এগোতাম না। এখন আবার বলতে পারি, আমাদের তিন ছেলে—ললিত, লল্লন আর শঙ্কর।”

বাড়ি ফিরে উঠোনে খাটিয়ায় মায়ের পাশে বসে নিচু গলায় গল্প করেন শঙ্কর। তাঁর চলে যাওয়ার পর অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। মা-বাবার বয়স হয়েছে। লল্লন এখন দিল্লিতে একটি কারখানায় গাড়ি চালান। ললিত সংস্কৃতে স্নাতকোত্তর হয়েছেন। বাড়ির একটি ঘর ভরা শংসাপত্র আর স্মারকে—বেশির ভাগই ললিতের।

মা লক্ষ্মী বলেন, “ছোট ছেলে বলে শঙ্কর সব সময় খুব আদরের ছিল। স্কুলে যেতে চাইত না। দু’বার ভর্তি করিয়েও লাভ হয়নি। তারপর আর জোর করিনি।”

বিয়ে করতে চান কি না জানতে চাইলে একবার তাকান শঙ্কর। মুখে লাজুক হাসি ফুটে ওঠে। মাথা নিচু করে সরে যান নিজের নিরাপদ আশ্রয়ে—‘ললিত ভাইয়া’র ঘরে।

হারিয়ে যাওয়ার পর কয়েক বছর তাঁকে খুঁজেছিল পরিবার। তবে সেই খোঁজ বিহারের বাইরে যায়নি। থানায় আনুষ্ঠানিক ভাবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগও জানানো হয়নি। তখনও তাঁদের বিশ্বাস ছিল, কোনও একদিন ট্রেনে চড়ে ঘরে ফিরে আসবে ছেলে। বছর গড়াতে গড়াতে সেই আশাও ফিকে হয়ে যায়।

হারিয়ে যাওয়া বছরগুলি আজও পরিবারের মধ্যে এক বিরাট শূন্যতা হয়ে রয়ে গিয়েছে। শঙ্করের স্মৃতি এখনও অস্পষ্ট। ফলে কোথায় কী ভাবে কেটেছে এতগুলি বছর, সে কথা আপনজনদের জানাতে পারেন না। অযোধ্যায় প্রথম কয়েক দিনের কিছু স্মৃতিই তুলনায় বেশি মনে আছে।

তিনি বলেন, “অযোধ্যা ছাড়ার পরে পটনার একটা মন্দিরে কিছুদিন কাটিয়েছিলাম। খাবারের বিনিময়ে মেঝে পরিষ্কার করতাম। কীর্তনে যোগ দিতাম। এ ভাবেই সময় কাটত।”

তাঁর ফিরে আসায় আনন্দ শুধু পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক রামকুমার মাহাতো বলেন, “এত বছর পরে কাউকে এ ভাবে ফিরে আসতে কখনও দেখিনি। গোটা গ্রামের মনে আশা জাগিয়েছে এই ঘটনা। এখন আমাদের নজর দিতে হবে, কী ভাবে শঙ্করকে কোনও অর্থপূর্ণ কাজে ব্যস্ত রাখা যায়।”

পরিবারও তাই ভাবছে। ললিত বলেন, “শঙ্করের গায়ে জোর আছে। পরিশ্রম করতে পারে। গবাদি পশুপালনের কাজ ভালই করতে পারবে। আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে। তবে আগে ও একটু থিতু হোক। এখন সবচেয়ে জরুরি, ও যেন আবার কোনও ট্রেনে উঠে অজানার উদ্দেশে চলে না যায় ।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles