খবর

যাদবপুরে আগুন এখনও

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • সংঘর্ষের পাঁচ দিন পরও থামেনি উত্তেজনা, ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল-লিখন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর কলকাতা: সংঘর্ষের পাঁচ দিন পরেও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরল না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সোমবার দিনভর পৃথক মিছিল, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সর্বপক্ষীয় বৈঠক এবং কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় কার্যত দুর্গে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।
  • এর মধ্যেই কলা বিভাগের ছাত্রাবাসে কথিত ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল-লিখন ও ছবি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

সংঘর্ষের পাঁচ দিন পরও থামেনি উত্তেজনা, ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল-লিখন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: সংঘর্ষের পাঁচ দিন পরেও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরল না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার দিনভর পৃথক মিছিল, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সর্বপক্ষীয় বৈঠক এবং কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় কার্যত দুর্গে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। এর মধ্যেই কলা বিভাগের ছাত্রাবাসে কথিত ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল-লিখন ও ছবি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর দফতরের অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন পড়ুয়ার কাছ থেকে ভিডিয়ো ও ছবি এসেছে। সেখানে কলা বিভাগের ছাত্রাবাসের দেওয়ালে আপত্তিকর, হিংসাত্মক এবং ‘দেশবিরোধী’ বার্তা ও ছবি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রধান সচিবকে ছাত্রাবাসে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সত্যি হলে দেওয়াল-লিখন মুছে ফেলা, দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জ্ঞানচর্চা ও জাতি গঠনের জায়গা। সেখানে ভারতবিরোধী প্রচার বরদাস্ত করা হবে না। শিক্ষাঙ্গনে ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপের’ বিরুদ্ধে তাঁর সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি নেবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিহত মাওবাদী নেতা মল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজিকে সমর্থন করে লেখা স্লোগানের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এ সংক্রান্ত নথি ও ভিডিয়ো সরকারের হাতে এসেছে। ‘কিষেণজি লাল সেলাম’-এর মতো স্লোগান বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে দেওয়াল-লিখনকে সরকার ‘দেশবিরোধী’ বললেই তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে আইনত অপরাধ হয়ে যায় না। কী লেখা হয়েছে, কারা লিখেছেন, তার উদ্দেশ্য কী এবং কোনও নির্দিষ্ট আইনের কোন ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না—তদন্তে তারই উত্তর মিলবে। যাদবপুরে দেওয়াল-লিখন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির অন্যতম মাধ্যম। ফলে এই তদন্তের সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসনের প্রশ্নও জড়িয়ে পড়তে পারে।

কী থেকে শুরু সংঘর্ষ?

গত ১৯ আগস্ট রাতে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র সংসদের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে গোলমালের সূত্রপাত। ছাত্র সংসদ বর্তমানে কার্যকর নয়—এই যুক্তিতে সভার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে তাদের বচসা দ্রুত হাতাহাতি, ইট-পাথর ছোড়া, পতাকা ও প্রচারসামগ্রী পোড়ানো এবং ভাঙচুরে গড়ায়। কয়েক জন পড়ুয়া আহত হন। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকানোর অভিযোগ তোলে।

পরদিন সেই উত্তেজনা ক্যাম্পাসের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। চার নম্বর প্রবেশদ্বারে নন্দলাল বসুর নকশা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক প্রতীকের লোহার বেষ্টনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাম ছাত্র সংগঠনগুলি এর জন্য এবিভিপিকে দায়ী করলেও সংগঠনটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পরে প্রতীকটি মেরামত করে ফের বসানো হয়।

সোমবার এসএফআই ও এবিভিপির পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বার ও সংলগ্ন এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে পড়ুয়াদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষক, পড়ুয়া, কর্মী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সর্বপক্ষীয় বৈঠক ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আপত্তি তুলে এবিভিপির সদস্যেরা মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। কয়েকটি সংগঠন নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় আপাতত স্থায়ী সমাধানের পথও স্পষ্ট হয়নি।

দুই তদন্ত, এক ক্যাম্পাস

১৯ ও ২০ আগস্টের হিংসা ও ভাঙচুরের তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথমে অধ্যাপক শুভশঙ্কর সরকারকে কমিটির প্রধান করা হলেও দিল্লিতে থাকার কারণে তদন্ত চালানো কঠিন হবে জানিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। পরে কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়কে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট কমিটির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা।

অর্থাৎ, একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তদন্ত, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল-লিখনের সত্যতা যাচাই—দুই প্রক্রিয়াই এখন পাশাপাশি চলবে।

হিংসা আপাতত থেমেছে, কিন্তু যাদবপুরে উত্তাপ কাটেনি। ছাত্র রাজনীতির সংঘর্ষ এখন জাতীয়তাবাদ বনাম মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসনের বৃহত্তর বিতর্কে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরলেও অবিশ্বাসের দেওয়ালটি এখনও অটুট।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles