খবর

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়ায় রাজস্থান মন্ত্রিসভার সায়, বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • জয়পুর: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি বিলের খসড়ায় অনুমোদন দিল রাজস্থান মন্ত্রিসভা।
  • বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়।
  • এর ফলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের পথে এগোনো দেশের পঞ্চম রাজ্য হতে চলেছে রাজস্থান।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

জয়পুর: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি বিলের খসড়ায় অনুমোদন দিল রাজস্থান মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। এর ফলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের পথে এগোনো দেশের পঞ্চম রাজ্য হতে চলেছে রাজস্থান। আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিলটি পেশ করা হবে।

উপমুখ্যমন্ত্রী প্রেমচাঁদ বৈরওয়া জানিয়েছেন, বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, খোরপোশ এবং একত্রবাসের সম্পর্ককে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর মধ্যে আনাই প্রস্তাবিত বিধির উদ্দেশ্য। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে খসড়াটি তৈরি হয়েছে।

সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী জোগারাম প্যাটেল জানান, প্রস্তাবিত আইনে বিয়ের ৬০ দিনের মধ্যে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিজস্ব রীতি ও প্রথা মেনে বিয়ে করতে পারবেন। তবে প্রত্যেকটি বিয়েই নথিভুক্ত করতে হবে। বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিয়ে নথিভুক্ত না করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। সরকারি নোটিস পাওয়ার পরেও নথিভুক্তি না করলে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা হবে। অবশ্য নথিভুক্তিতে ব্যর্থতা বা বিলম্বের কারণে কোনও বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে না।

বিয়ে বা বিবাহবিচ্ছেদ নথিভুক্তির আবেদন পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নথিভুক্তিকারী আধিকারিককে শংসাপত্র দিতে হবে। আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে লিখিতভাবে তার কারণ জানানো বাধ্যতামূলক। প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে নথিভুক্তিকারী মহাধ্যক্ষের কাছে আবেদন করা যাবে। সেই আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

একত্রবাসের সম্পর্ক শুরু এবং শেষ—দুই ক্ষেত্রেই লিখিতভাবে জানানোর বা নথিভুক্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে সম্পর্কে থাকা উভয় ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত হবে।

খসড়ায় ছেলে ও মেয়েকে সম্পত্তির সমান উত্তরাধিকার দেওয়া হয়েছে। কোনও ব্যক্তি উইল না করে মারা গেলে নির্দিষ্ট অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাঁর সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হবে। প্রথম শ্রেণিতে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, মৃত সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী ও সন্তান এবং বাবা-মাকে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে সৎ বাবা-মা, ভাইবোন, মৃত ভাইবোনের পরিবার এবং পিতৃকুল ও মাতৃকুলের দাদা-দাদী ও নানা-নানী থাকবেন। কোনও বৈধ উত্তরাধিকারী না থাকলে দায়দায়িত্ব-সহ সম্পত্তি সরকারের হাতে যাবে। মাতৃগর্ভে থাকা সন্তানও পূর্ণ উত্তরাধিকারের অধিকার পাবে।

তবে তফসিলি জনজাতির উপরে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। সংবিধানে সুরক্ষিত প্রথাগত অধিকার রয়েছে—এমন জনগোষ্ঠীকেও ছাড় দেওয়া হবে।

কংগ্রেস ইউসিসি নিয়ে শুনানি বয়কট করেছিল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরার অভিযোগ, স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুরবস্থা, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।

একই বৈঠকে ২৯ প্রজাতির গাছ রক্ষায় ‘রাজস্থান বৃক্ষ সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদিত হয়েছে। অরণ্যের বাইরের জমিতে বেআইনিভাবে গাছ কাটলে এক বছরের কারাদণ্ড, এক লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles