Home খবর বাঁকিপুরে ধাক্কা, আত্মসমালোচনায় বিজেপি

বাঁকিপুরে ধাক্কা, আত্মসমালোচনায় বিজেপি

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
19 views 3 minutes read
A+A-
Reset

‘প্রত্যাশিত সমর্থন পাইনি’, হার মেনে নিতীন নবীনের বার্তা—দুই কেন্দ্রের ফল খতিয়ে দেখার আশ্বাস

বাঁকিপুর ও দাতিয়া বিধানসভা উপনির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে এবার আত্মসমালোচনার পথে হাঁটার বার্তা দিল বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতীন নবীন জানালেন, জনগণের রায়কে বিনয়ের সঙ্গে মেনে নিয়ে দুই কেন্দ্রের ফলাফল গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে দল।

একই সঙ্গে গুজরাতের মঞ্জলপুর আসনে জয়ের জন্য ভোটার ও দলীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ নিতীন নবীন লিখেছেন, তিনটি বিধানসভা উপনির্বাচনে জনগণের দেওয়া রায় বিজেপি সাদরে গ্রহণ করছে। মঞ্জলপুরে দলকে জয়ী করার জন্য ভোটারদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কর্মী ও পদাধিকারীদের অভিনন্দনও জানান তিনি।

তবে বাঁকিপুর ও দাতিয়ার ফল নিয়ে তাঁর সুর ছিল স্পষ্টতই আত্মসমালোচনামূলক।

নবীন বলেন, “বাঁকিপুর ও দাতিয়ায় আমরা প্রত্যাশিত জনসমর্থন পাইনি। এই দুই কেন্দ্রের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা ও আত্মসমালোচনা করা হবে।”

শুধু পর্যালোচনাতেই থেমে না থেকে নতুন উদ্যমে আবার মানুষের কাছে যাওয়ার কথাও বলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তাঁর বার্তা, আরও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করবে দল।

বাঁকিপুরে বড় ধাক্কা

বাঁকিপুরের হার বিজেপির কাছে নিঃসন্দেহে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

দীর্ঘদিন ধরেই আসনটি বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। ১৯৯৫ সাল থেকে এই কেন্দ্র দলের দখলে ছিল। নিতীন নবীন নিজেও টানা চারবার এখান থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে বাঁকিপুর শুধু বিজেপির একটি আসন নয়, নবীনের নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটিও ছিল।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। দল তাঁর জায়গায় নীরজ কুমারকে প্রার্থী করে।

কিন্তু ফল এল উল্টো।

জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর ১৯,৩২৪ ভোটের ব্যবধানে নীরজ কুমারকে হারিয়ে বিজেপির বহু বছরের দুর্গে বড়সড় ধাক্কা দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিহারে বিজেপির অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরাজয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই ফলকে।

দাতিয়ায় অন্য হিসাব

দাতিয়ার ফল অবশ্য কিছুটা আলাদা ভাবে দেখছেন নিতীন নবীন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, দাতিয়ায় কংগ্রেস মূলত নিজেদের আগের আসনটি ধরে রাখতে পেরেছে। বরং আগের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় বিজেপির ভোট সেখানে প্রায় ১,৭০০ বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থাৎ দাতিয়ার পরাজয়কে বিজেপি নেতৃত্ব একেবারে ভোটব্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার ছবি হিসেবে দেখাতে চাইছে না।

মধ্যপ্রদেশে দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন নবীন। তাঁর দাবি, গত বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের ২৯টি লোকসভা আসনের সবকটিই বিজেপি জিতেছে—স্বাধীনতার পর যা প্রথমবার ঘটেছে।

এর পাশাপাশি বুধনি বিধানসভা উপনির্বাচনে জয় ধরে রাখা এবং অমরওয়াড়া আসন কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

‘রায় মেনে নিচ্ছি’

নবীনের বক্তব্যে তাই একদিকে হার স্বীকার, অন্যদিকে দলের সামগ্রিক নির্বাচনী সাফল্যের কথা তুলে ধরে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা—দুই সুরই দেখা গেছে।

তিনি বলেন, বিজেপি তাদের বক্তব্য মানুষের সামনে রেখেছে, কংগ্রেসও নিজেদের বক্তব্য রেখেছে। শেষ পর্যন্ত জনগণ যে রায় দিয়েছেন, বিজেপি তা বিনয়ের সঙ্গে মেনে নিচ্ছে।

তাঁর আশ্বাস, আগামী নির্বাচনে আরও শক্তিশালী হয়ে মানুষের কাছে ফিরবে দল।

এবার নজর বাঁকিপুরে

তবে বিজেপির জন্য আসল প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে বাঁকিপুরকে ঘিরে।

যে আসন দীর্ঘদিন ধরে দলের ‘নিরাপদ দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানেই প্রশান্ত কিশোরের কাছে বড় ব্যবধানে হার। শুধু আসন হারানো নয়, নিতীন নবীনের নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটিতেই এই ফল হওয়ায় এর প্রতীকী গুরুত্বও যথেষ্ট।

দলীয় সভাপতি নিজেই যখন ফলাফলকে ‘প্রত্যাশিত নয়’ বলে স্বীকার করছেন এবং আত্মসমালোচনার কথা বলছেন, তখন বিজেপির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসবে একাধিক প্রশ্ন—কোথায় ভুল হল, কোন ভোট সরে গেল এবং কেন সেই ভোট ফেরানো গেল না?

বাঁকিপুরের এই ধাক্কা তাই আপাতত একটি উপনির্বাচনের ফল। কিন্তু বিজেপির কাছে এর শিক্ষা যে তার চেয়ে অনেক বড়, তা নিতীন নবীনের বক্তব্যেই স্পষ্ট।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles