Table of Contents
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের বলি হয়েছেন ১৬ জন ভারতীয় নাগরিক। আহত আরও ৭৫ জন। সংসদে এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়েছেন উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিক, শ্রমিক এবং অন্যান্য প্রবাসী। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের জেরে একাধিক ভারতীয় হতাহত হয়েছেন।
আহতদের চিকিৎসা, নজরে দূতাবাস
নিহত ১৬ জনের পাশাপাশি আহত ৭৫ জনের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। সংশ্লিষ্ট ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাঁদের পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে। প্রয়োজন হলে আহতদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে সংসদে জানিয়েছে সরকার।
শুধু আহতদের চিকিৎসাই নয়, নিহতদের পরিবারগুলিকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে দূতাবাসগুলিকে সক্রিয় রাখা হয়েছে।
কয়েক লক্ষ ভারতীয়কে ফিরিয়েছে ভারত
সংঘাত শুরু হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বড় আকারের উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে ভারত। সরকারি উদ্যোগে কয়েক লক্ষ ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়েছে।
ইরান, ইজরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। এই যোগাযোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এর আগে সংসদে বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক রুট এবং প্রবাসী ভারতীয়দের জীবন-জীবিকার উপরও। উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজে আটকে জাহাজ, উদ্বেগে নাবিকদের পরিবার
যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়েছিল। সেই জাহাজগুলিতে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনা এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রয়োজন অনুযায়ী ভারতীয় দূতাবাসগুলিতে অতিরিক্ত জনবল এবং জরুরি সহায়তাও পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী উদ্ধার ও প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
এর আগে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছিল, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে ১৩ জন ভারতীয় নিহত এবং তিনজন নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তী ঘটনায় আরও প্রাণহানির জেরে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে।
সংঘাতের আগুন যতই পশ্চিম এশিয়ায় ছড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে ভারতীয় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। কেন্দ্রের বক্তব্য, পরিস্থিতি যতটা কঠিনই হোক, যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফেরানোই এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।