Home খবর ‘সংসদ চলো’ ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লি, লাঠিচার্জের অভিযোগ

‘সংসদ চলো’ ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লি, লাঠিচার্জের অভিযোগ

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
73 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে জন্তর-মন্তরে উত্তেজনা।
  • বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি।
  • অনুমতি ছাড়াই মিছিলের অভিযোগ দিল্লি পুলিশের।
  • পুলিশের দাবি, জন্তর-মন্তরে জড়ো হয়েছিলেন অন্তত ৮ হাজার মানুষ।
  • সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা।

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। সোমবার সকালে জন্তর-মন্তর থেকে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি শুরু হতেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং বহু আন্দোলনকারী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।

দিল্লি পুলিশের দাবি, সকাল থেকেই জন্তর-মন্তরে প্রায় ৮ হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। আগেই জানানো হয়েছিল, সংসদের দিকে মিছিল করার অনুমতি নেই। বর্ষাকালীন অধিবেশন চলায় সংসদ ভবন ও তার আশপাশে কড়া নিরাপত্তা এবং একাধিক বিধিনিষেধ জারি ছিল। সেই নির্দেশ অমান্য করেই মিছিল এগোতে শুরু করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা ঘিরেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতেও পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তির দৃশ্য দেখা গিয়েছে। যদিও সেই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের বক্তব্য, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন নতুন দিল্লি জেলায় কঠোর নিরাপত্তা বিধি কার্যকর রয়েছে। পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সংসদমুখী মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলেই পুলিশ অযথা বলপ্রয়োগ করেছে। সিজেপির দাবি, তাদের আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ অহিংস ও গণতান্ত্রিক। তবুও প্রশাসন শক্তি প্রয়োগ করে তা দমনের চেষ্টা করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পুলিশের বাধায় আন্দোলন থামবে না।

এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। টানা অনশনের জেরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার ভোরে তাঁকে জন্তর-মন্তর থেকে সাফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পুলিশের দাবি, দিল্লি হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওয়াংচুক হাসপাতালে থাকলেও আন্দোলনের গতি থামেনি। তাঁর অনুপস্থিতিতেই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। পাশাপাশি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অনশনও অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না।

সোমবারের সংঘর্ষের পর জন্তর-মন্তর, সংসদ ভবন এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থানে সাময়িক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতির উপর প্রশাসন কড়া নজর রাখছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles