‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেব?’ রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানকে হুমকি ট্রাম্পের

যা জানা জরুরি
- নভেম্বরের ভোটের পরে চুক্তির আশা; নিজের সাফল্য বোঝাতে পাক প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার…
- তবে একই সঙ্গে জানালেন, তাঁর বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে আমেরিকার চুক্তি হবে।
- সেই সমঝোতা হতে পারে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নভেম্বরের ভোটের পরে চুক্তির আশা; নিজের সাফল্য বোঝাতে পাক প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে জানালেন, তাঁর বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে আমেরিকার চুক্তি হবে। সেই সমঝোতা হতে পারে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরে। নিজের কূটনৈতিক সাফল্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে পাকিস্তান, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার নেতাদের মুখে শোনা প্রশংসাও তুলে ধরলেন তিনি।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরে সাধারণ সভার ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তৃতার পাঁচটি উল্লেখযোগ্য বক্তব্য—
১. ‘আমি কি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেব?’
ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা অথবা সে দেশের শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া—এই দুই সম্ভাবনাকে সামনে রাখেন ট্রাম্প। তাঁর প্রশ্ন, “ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনও চুক্তি হবে, যার ফলে তারা দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারবে, আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি মহান একটি দেশ তৈরি করতে পারবে? নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেব?”
এর পরেও হুমকির সুর বজায় রেখে তিনি প্রশ্ন করেন, তাঁদের কি “নরকে ঠেলে দেব, যেখানে বেঁচে থাকার কোনও সুযোগ থাকবে না, ভবিষ্যতে গৌরব অর্জনের কোনও আশা থাকবে না, থাকবে না পরবর্তী প্রজন্মের কোনও ভবিষ্যৎ?”
তা সত্ত্বেও ট্রাম্প বলেন, তাঁর বিশ্বাস, ইরান শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রাজি হবে। পরে তিনি জানান, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই সেই সমঝোতা হবে বলে আশা করছেন।
২. ‘ইরানকে কখনও পরমাণু অস্ত্র পেতে দেব না’
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপের অন্যতম প্রধান যুক্তি হিসেবে সে দেশকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার কথা ফের সামনে আনেন ট্রাম্প। বলেন, “আমি কখনও ইরানকে পরমাণু অস্ত্র পেতে দেব না।”
তাঁর বক্তব্য, সামরিক অভিযানের পথে যাওয়ার আগে ওয়াশিংটন আলোচনার চেষ্টা করেছিল। রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধের ফলে ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে পারেনি—ভাষণে এই যুক্তি তুলে ধরতে পারেন ট্রাম্প।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে এই বক্তব্য ট্রাম্পের দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা প্রয়োজন; স্বাধীন ভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।
৩. ‘অন্যেরা কথা বলেছেন, আমি কাজ করেছি’
অন্য নেতাদের সঙ্গে নিজের কাজের তুলনা টানতেও ভাষণকে ব্যবহার করেন ট্রাম্প। বলেন, “অন্যেরা যখন কথা বলেছেন, আমি কাজ করেছি। অন্যেরা যখন শান্তির কথা বলেছেন, আমি শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি। অন্যেরা যখন বিপদ উপেক্ষা করেছেন, আমি তার মোকাবিলা করেছি।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিপদকে বাড়তে না দিয়ে সরাসরি তার মোকাবিলা করার বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ তাঁর ইরান নীতি।
৪. ‘মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি করত ইরান’
ইরানকে আঞ্চলিক আগ্রাসী শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বলেন, “ওরা মধ্যপ্রাচ্যে দাদাগিরি করত, কিন্তু এখন আর তা করতে পারে না।”
ইরানকে “সন্ত্রাসের এক নম্বর মদতদাতা” বলেও অভিহিত করেন তিনি। তেহরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের বিরোধিতার কথা আবারও জানান। ইরান ও সে দেশের সরকার সম্পর্কে এগুলি ট্রাম্পের নিজস্ব মূল্যায়ন।
৫. পাকিস্তান, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার নেতাদের প্রশংসা
নিজের দাবি অনুযায়ী একের পর এক কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে পাকিস্তান, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার নেতাদের প্রশংসাও উদ্ধৃত করেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, চমৎকার মানুষ, বলেছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, সম্ভবত তার চেয়েও অনেক বেশি।”
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভকে উদ্ধৃত করে ট্রাম্প বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছ’মাসে অলৌকিক কাজ করে দেখিয়েছেন।” ট্রাম্পের কথায়, “এ একেবারেই অলৌকিক ঘটনা, যা সম্ভব বলে কেউ ভাবেনি।”
আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সমঝোতার প্রসঙ্গে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের বক্তব্যও তুলে ধরেন তিনি। ট্রাম্পের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, পাশিনিয়ান বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং শান্তির প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকার ছাড়া এই সাফল্য কোনও ভাবেই সম্ভব হত না।”
পাক প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসার প্রসঙ্গে ট্রাম্প ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতিতে মধ্যস্থতা করার নিজের দাবির কথাই বোঝাচ্ছিলেন। ভারত অবশ্য ধারাবাহিক ভাবে জানিয়ে এসেছে, ওই সংঘর্ষবিরতিতে কোনও তৃতীয় দেশ মধ্যস্থতা করেনি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



