সাহসে স্যালুট স্মিতকে

যা জানা জরুরি
- আকাশে সহকর্মীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েও হাল ছাড়েননি ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার।
- বরং ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে অন্যদের বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি।
- তাঁর সেই ‘অসাধারণ সাহস’-কে সম্মান জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি সভায় প্রস্তাব পেশ করেছেন তিন আইনপ্রণেতা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আকাশে সহকর্মীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েও হাল ছাড়েননি ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার। বরং ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে অন্যদের বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর সেই ‘অসাধারণ সাহস’-কে সম্মান জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি সভায় প্রস্তাব পেশ করেছেন তিন আইনপ্রণেতা। একই সঙ্গে বিপদের মুহূর্তে এগিয়ে আসা অন্য পাইলট, বিমানকর্মী ও যাত্রীদের ভূমিকাকেও কুর্নিশ জানানো হয়েছে প্রস্তাবে।
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ডেমোক্র্যাট সদস্য জশ গটহাইমার এবং রিপাবলিকান সদস্য মাইকেল ম্যাককল ও ডন বেকন এইচ. রেস. ১৬১২ নম্বর প্রস্তাবটি পেশ করেন। প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে প্রতিনিধি সভার বিদেশবিষয়ক কমিটিতে। অর্থাৎ, এটি এখনও প্রতিনিধি সভায় চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়নি; আপাতত রয়েছে কমিটির বিবেচনায়। দুই দলের আইনপ্রণেতাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসায় উদ্যোগটির দ্বিদলীয় চরিত্রও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর উড়ান। বিমানে ছিলেন প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী। তাঁদের অধিকাংশই ইজরায়েলি নাগরিক; ছিলেন চার জন মার্কিন নাগরিক এবং ২৭ জন শিশুও।
উড়ানের মাঝপথে আচমকাই ককপিটে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, বিমানের ফার্স্ট অফিসার জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাখা কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিতের ওপর হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রস্তাবের বিবরণ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি নীচে নেমে যায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকশো প্রাণ ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়ে।
গুরুতর আহত হয়েও লড়াই থামাননি স্মিত। অবশিষ্ট শক্তি দিয়ে তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। আর সেই সিদ্ধান্তই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা ককপিটে ঢুকে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। একই সময়ে বিমানকর্মী ও যাত্রীরা মিলে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। প্রাণে বেঁচে যান বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও কর্মী।
মার্কিন প্রস্তাবে তাই শুধু স্মিতের সাহসিকতাই নয়, পুরো ঘটনার সময় যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের ভূমিকাকেও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ককপিট নিরাপদ করা থেকে শুরু করে বিমানটিকে নিরাপদে মাটিতে নামানো—প্রতিটি ধাপে যাত্রী, বিমানকর্মী ও পাইলটদের সম্মিলিত প্রতিরোধের প্রশংসা করা হয়েছে। স্মিত এবং ঘটনায় আহত অন্যদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতাও কামনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, তাঁদের তদন্তে সহ-পাইলটের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টার বিষয়টি উঠে এসেছে। হামলার পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরব ও আমিরশাহি সরকারকে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে সম্পূর্ণ অবহিত রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।
এখনও আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন স্মিত। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। পরিবার, চিকিৎসক এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ভয়াবহ বিপদের মুহূর্তে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছিলেন স্মিত। তাঁর সেই কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই অন্যদের এগিয়ে আসার পথ তৈরি করে। সেই সাহস এবং সম্মিলিত প্রতিরোধের স্বীকৃতিই এবার জায়গা পেল মার্কিন প্রতিনিধি সভার প্রস্তাবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



