International

গুপ্তচরেই গলদ!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • সিআইএ-র গভীর ছদ্মবেশে পরিচালিত গুপ্তচর কর্মসূচি।
  • বাইরে থেকে যার পরিচয় রহস্যে মোড়া, ভিতরে নাকি তার ছবিটা একেবারেই অন্য রকম—অব্যবস্থা, অর্থের অপচয়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর ক্ষমতার টানাপড়েন।
  • সেই অন্দরমহল নিয়েই এবার ব্যঙ্গের তির ছুড়েছেন সিআইএ-র এক প্রাক্তন অফিসার।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

সিআইএ-র গভীর ছদ্মবেশে পরিচালিত গুপ্তচর কর্মসূচি। বাইরে থেকে যার পরিচয় রহস্যে মোড়া, ভিতরে নাকি তার ছবিটা একেবারেই অন্য রকম—অব্যবস্থা, অর্থের অপচয়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর ক্ষমতার টানাপড়েন। সেই অন্দরমহল নিয়েই এবার ব্যঙ্গের তির ছুড়েছেন সিআইএ-র এক প্রাক্তন অফিসার। তাঁর অস্ত্র একটি উপন্যাস—‘দ্য পিক্‌ল ফ্যাক্টরি’।

প্রথম প্রকাশের অনুমতি চাওয়ার ১২ বছর পর, জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রকাশিত হয়েছে বইটি। লেখক নিজের আসল পরিচয় এখনও গোপন রেখেছেন। স্যাম আর. অয়কেন ছদ্মনামে প্রকাশিত এই বই আনুষ্ঠানিক ভাবে কল্পকাহিনি। কিন্তু সিআইএ-র প্রাক্তন কর্মকর্তাদের মতে, এর পাতায় পাতায় সংস্থার গভীর ছদ্মবেশে পরিচালিত অভিযানের বাস্তব অভিজ্ঞতার ছাপ এতটাই স্পষ্ট যে কাল্পনিক আবরণের আড়ালটুকু খুব পাতলা।

অয়কেন ছিলেন সিআইএ-র ‘ননঅফিশিয়াল কভার’ বা এনওসি অফিসার। এই অফিসাররা বিদেশে নিজেদের মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন না। ব্যবসায়ী, পরামর্শদাতা বা অন্য কোনও বেসরকারি পেশাজীবীর পরিচয়ে কাজ করেন। ফলে তাঁদের সঙ্গে মার্কিন সরকারের প্রকাশ্য যোগসূত্র থাকে না, কূটনৈতিক দায়মুক্তির সুরক্ষাও থাকে না।

এই কাজের ঝুঁকি যেমন বেশি, গোপনীয়তাও তেমনই কড়া। এনওসি কর্মসূচির অন্দরমহল সম্পর্কে খুব কম তথ্যই প্রকাশ্যে আসে। অয়কেনের বই সেই বন্ধ দরজায় খানিকটা ফাঁক তৈরি করেছে।

১২ বছরের অপেক্ষা

বইটির প্রকাশের পথ অবশ্য মোটেই মসৃণ ছিল না।

২০১৪ সালে অয়কেন প্রথম পাণ্ডুলিপি জমা দিলে সিআইএ প্রকাশের অনুমতি দেয়নি। সংস্থার ‘প্রিপাবলিকেশন ক্লাসিফিকেশন রিভিউ বোর্ড’-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রাক্তন কর্মীদের এমন লেখা প্রকাশের আগে পর্যালোচনার জন্য জমা দিতে হয়, যার সঙ্গে তাঁদের গোয়েন্দা সংস্থায় কাজের কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে। গোপন তথ্য থাকলে তা বাদ দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।

কিন্তু অয়কেনের দাবি, তাঁর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও অনেক দূর গিয়েছিল।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়ার পর বছরের পর বছর তাঁকে বলা হয়েছিল, তিনি একটি শব্দও প্রকাশ করতে পারবেন না। তাঁর মতে, সেটি সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে স্বীকৃত অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।

২০১৭ সালে সিআইএ-র তৎকালীন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেরো পার্ক সেই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন। কিন্তু অয়কেনের দাবি, তার পরেও বইয়ের অর্ধেকের বেশি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রতিটি কাটছাঁটের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই চালান।

পার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করেননি। সিআইএ-র এক মুখপাত্রও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের গোড়ায় বইটি প্রকাশের চূড়ান্ত অনুমতি পায়।

বইয়ের বাইরেও যুদ্ধ

‘দ্য পিক্‌ল ফ্যাক্টরি’-কে ঘিরে অয়কেনের দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে ২০১৫ সালে। সে সময় ‘ম্যাক চার্লস’ ছদ্মনামে তিনি ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার মার্কিন জেলা আদালতে সিআইএ-র বিরুদ্ধে আড়াই কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন।

অভিযোগ ছিল, সিআইএ-র কর্মকর্তারা ষড়যন্ত্র করে তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। কারণ, আর এক গভীর ছদ্মবেশে কর্মরত অফিসারের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক তাঁরা মেনে নিতে পারেননি। ওই অফিসার তাঁর চেয়ে ২০ বছরের ছোট ছিলেন এবং তাঁদের বাগ্‌দানও হয়েছিল।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে অয়কেনকে সিআইএ থেকে বরখাস্ত করা হয়। তাঁর দাবি ছিল, বইটির প্রকাশ আটকে দেওয়াও সেই বৃহত্তর প্রতিহিংসামূলক অভিযানের অংশ।

২০১৬ সালের মার্চে প্রক্রিয়াগত কারণে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

তবে সেই লড়াইয়ের আর একটি ফল রয়ে যায়—‘দ্য পিক্‌ল ফ্যাক্টরি’।

৯/১১-র পর বদলে গেল খেলা

বইটির সবচেয়ে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ অবশ্য ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, গোটা ব্যবস্থাকে ঘিরে।

এনওসি কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা একাধিক প্রাক্তন শীর্ষকর্তাকে বইটিতে বিদ্রূপ করা হয়েছে। তাঁদের নাম ও জীবনী সামান্য বদলে কাল্পনিক চরিত্র তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি উঠে এসেছে ৯/১১-র পর এনওসি কর্মসূচি ব্যাপক ভাবে বাড়ানোর জন্য কংগ্রেসের কাছ থেকে বিপুল অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা এবং সেই অর্থের একটি অংশ সম্ভবত অন্য খাতে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ।

অয়কেনের এক প্রাক্তন সহকর্মীর ভাষায়, ৯/১১-পরবর্তী এনওসি সম্প্রসারণ ছিল “চরম বিপর্যয়”। তাঁর অভিযোগ, সেখানে ফলাফলের চেয়ে খরচের হিসাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। স্পর্শকাতর গোয়েন্দা অভিযান নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি।

ওই প্রাক্তন কর্মকর্তার মতে, অয়কেনের কর্মজীবন সিআইএ-র দুই ভিন্ন যুগকে ছুঁয়েছিল। এক দিকে ছিল ২০০১ সালের আগের সময়—নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী গভীর ছদ্মবেশের অভিযান। অন্য দিকে ৯/১১-র পরের দ্রুত ফুলে-ফেঁপে ওঠা কর্মসূচি—যেখানে তুলনামূলক কম বয়সি এবং অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এনওসি অফিসারদের তড়িঘড়ি মাঠে নামানো হচ্ছিল।

এই সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নতুন এনওসি-দের বিভিন্ন দলকে বিদেশের প্রায় এক ডজন গোপন ‘প্ল্যাটফর্ম’ বা পরিচালনাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। ২০০৮ সালের মধ্যে প্রায় সব ক’টিই ব্যর্থ হয়ে বন্ধ হয়ে যায়।

হার্ভার্ড থেকে গুপ্তচরবৃত্তি

ওয়াশিংটন পোস্টের পর্যালোচনা করা গোপনীয়তার শ্রেণিবিন্যাস থেকে মুক্ত নথি অনুযায়ী, অয়কেন ১৯৯৬ সালে সিআইএ-তে যোগ দেন। ফরাসি ভাষায় দক্ষ এই কর্মকর্তা হার্ভার্ড ল স্কুলের স্নাতক। সিআইএ-তে যাওয়ার আগে তিনি অভিজাত আইন সংস্থা কোভিংটন অ্যান্ড বার্লিংয়ে কাজ করতেন।

১৯৯৯ সালে তাঁকে বিদেশে ২০ বছর গভীর ছদ্মবেশে কাজ করার একটি দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়। এনওসি অফিসারদের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ মেয়াদের নিয়োগ ছিল অস্বাভাবিক। প্রকাশযোগ্য নথি থেকে ইঙ্গিত মেলে, তাঁর কর্মস্থল ছিল ইউরোপের কোনও একটি জায়গায়।

তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সেই দায়িত্বের অবসান ঘটে। কেন, তা প্রকাশযোগ্য নথিতে স্পষ্ট নয়। সিআইএ-র এক প্রাক্তন কর্মকর্তা জানান, প্রতিগোয়েন্দা কার্যক্রম-সংক্রান্ত একটি সমস্যার কারণে অভিযানটি বন্ধ করা হয়েছিল এবং অয়কেনের কাজের মানের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল না।

এর পর তাঁকে সিআইএ-র শিক্ষানবিশদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পরে এনওসি কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত পদেও তাঁকে বেছে নেওয়া হয়। নথিতে তাঁকে ‘কিউআরএন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাক্তন সহকর্মীদের মতে, এর অর্থ ‘কুইক রিঅ্যাকশন এনওসি’। এই বিশেষ দল বিদেশে অত্যন্ত স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বা আড়িপাতার অভিযান চালাত। প্রয়োজনে তারা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশের পাসপোর্টও ব্যবহার করত।

আদালতের নথি অনুযায়ী, অয়কেন পরে কিউআরএন প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন। ওই সময় তিনি নিজের দলের এনওসি অপারেশনস অফিসার-সহ ৮০ জনেরও বেশি অধস্তন কর্মীকে তত্ত্বাবধান করতেন।

অভিযোগ বনাম অয়কেন

সিআইএ থেকে অয়কেনের বিদায় অবশ্য মোটেই শান্তিপূর্ণ ছিল না।

তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তারা তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, অধস্তনদের সঙ্গে অনুপযুক্ত প্রেমের সম্পর্ক, পরিচালনাগত দায়িত্বে অনুপস্থিতি এবং অধস্তনদের ভয় দেখিয়ে হেনস্তার অভিযোগ আনেন। গোয়েন্দা কাজে নতুন সূত্র নিয়োগে তাঁর সাফল্য নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল।

ওয়াশিংটন পোস্টের দেখা একটি প্রকাশযোগ্য অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপিতে বলা হয়, তাঁর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে এমন আচরণগত সমস্যার ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছিল, যাতে কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা হারায়।

অয়কেন অবশ্য অভিযোগগুলি জোরালো ভাবে অস্বীকার করেন।

এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ভাষায়, “একপাল বুনো কুকুরের মতো ওরা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।”

তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন নিয়েও তদন্ত হয়েছিল। ২০০৯ সালের একটি আংশিক প্রকাশযোগ্য ইমেলে এনওসি কর্মসূচির দায়িত্ব নিতে চলা এক কর্মকর্তা গভীর ছদ্মবেশে অফিসার মোতায়েনের ক্ষেত্রে “ঢিলেঢালা পদ্ধতি”-র তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই অয়কেনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চান।

‘গুপ্তচর নয়, হিসাবরক্ষক!’

অয়কেনের নিজের অভিযোগ আরও বিস্তৃত। তাঁর মতে, গভীর ছদ্মবেশে পরিচালিত সিআইএ-র কর্মসূচি পুরনো নিয়মকানুনে আটকে রয়েছে এবং সেখানে সংস্কার জরুরি।

তিনি বলেন, সিআইএ-তে এমন এক ধরনের ম্যানেজার রয়েছেন, যাঁরা এনওসি অফিসারদের ঝুঁকি নেওয়া গুপ্তচরের বদলে “সর্বক্ষণের হিসাবরক্ষক” বানাতে চান। অথচ তাঁর অভিযোগ, সেই ম্যানেজাররাই নিজেরা বিপুল অর্থ অপচয় করেন এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠরা কোটি কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে সরে গেলেও তাঁরা চোখ বুজে থাকেন।

২০২৬ সালের মে মাসে সিআইএ-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ডেভিড জে. রাশকে সরকারি অর্থ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। অত্যন্ত গোপন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কর্মসূচিতে কাজ করা রাশের বিরুদ্ধে প্রায় চার কোটি ডলার মূল্যের সোনার বাট চুরির অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনাই যেন অয়কেনের অভিযোগকে আরও নাটকীয় প্রেক্ষাপট দিয়েছে—যদিও তাঁর উপন্যাসের কাহিনি ও রাশের বিরুদ্ধে অভিযোগকে এক করে দেখার কারণ নেই।

‘দ্য পিক্‌ল ফ্যাক্টরি’ তাই নিছক গুপ্তচর কাহিনি নয়। কল্পকাহিনির আড়ালে এটি সিআইএ-র গভীর ছদ্মবেশে পরিচালিত কর্মসূচির কাঠামো, আমলাতন্ত্র এবং তার ভিতরের টানাপড়েন নিয়ে এক প্রাক্তন কর্মকর্তার তীব্র ব্যঙ্গ।

অয়কেনের নিজের ভাষায়, সিআইএ কতটা মাঝারি মানে নেমে গিয়েছে, বাইরের মানুষের পক্ষে তা বোঝা প্রায় অসম্ভব। আর সেই ছবিটা তুলে ধরতে তাঁর মতে, “উপন্যাসের বিস্তারই দরকার ছিল।”

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles