শর্তের জালে হলিউড

যা জানা জরুরি
- হলিউডে বড় সংযুক্তির খবর মানেই তারকা, ছবির বিশাল ভাণ্ডার আর কয়েক হাজার কোটি ডলারের অঙ্ক।
- কিন্তু প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সের ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণের সর্বশেষ মোড়ে আলোচনার কেন্দ্রে অন্য কিছু—বছরে কত ছবি তৈরি ও মুক্তি পাবে, ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা কী সহায়তা…
- ২১ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার নেতৃত্বে ১২টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতা সেই প্রশ্নগুলির বেশ কিছুটা লিখিত শর্তে বেঁধে দিয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হলিউডে বড় সংযুক্তির খবর মানেই তারকা, ছবির বিশাল ভাণ্ডার আর কয়েক হাজার কোটি ডলারের অঙ্ক। কিন্তু প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সের ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণের সর্বশেষ মোড়ে আলোচনার কেন্দ্রে অন্য কিছু—বছরে কত ছবি তৈরি ও মুক্তি পাবে, ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা কী সহায়তা পাবেন, আর দর্শকের হাতে পছন্দের সুযোগ কতটা থাকবে।
২১ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার নেতৃত্বে ১২টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতা সেই প্রশ্নগুলির বেশ কিছুটা লিখিত শর্তে বেঁধে দিয়েছে।
তবে সমঝোতা হয়েছে মানেই অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ—এমনটা বলা যাবে না। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রকাশিত বিবৃতিতে আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষার কথা রয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া নথিটির শিরোনামও ‘প্রস্তাবিত সম্মতিনির্ভর আদেশ’। অর্থাৎ এই মুহূর্তে নিশ্চিত খবর হল, সংযুক্তির বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যগুলির মামলাটি মেটানোর পথ তৈরি হয়েছে; আইনি ও বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার সব ধাপ এখনও শেষ হয়নি।
বছরে কত ছবি?
প্রস্তাবিত শর্তের কেন্দ্রে রয়েছে প্রেক্ষাগৃহে ছবি মুক্তি।
সম্মিলিত প্রতিষ্ঠানকে প্রথম দুই বছরে প্রতি বছর অন্তত ৩০টি এবং পরের তিন বছরে ৩২টি ছবি মুক্তি দিতে হবে। প্রথম পর্যায়ে অন্তত ২০টি, পরের পর্যায়ে ২১টি ছবির বিস্তৃত মুক্তিও বাধ্যতামূলক।
নথি অনুযায়ী, ‘বিস্তৃত মুক্তি’ বলতে অন্তত ২,০০০টি পর্দায় ছবি দেখানো বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কয়েকটি হলে নামমাত্র প্রদর্শন করে বড় মুক্তির হিসাব পূরণ করার সুযোগ নেই।
প্রতি বছর অন্তত চারটি স্বাধীন ছবিও রাখতে হবে। তবে এখানে ‘স্বাধীন’ শব্দটির সংজ্ঞা চুক্তিতেই নির্ধারিত। মৌলিক চিত্রনাট্যভিত্তিক কাজ অথবা নির্দিষ্ট বড় স্টুডিয়োর বাইরের প্রযোজকের কাছ থেকে আসা ছবি এই শ্রেণিতে পড়তে পারে।
তাই এই শর্তকে বছরে চারটি স্বল্পবাজেটের শিল্পছবির নিশ্চয়তা হিসেবে পড়া ঠিক হবে না। বাস্তবে কোন কোন ছবি এই সংজ্ঞার আওতায় পড়ছে, সেটিই বলে দেবে শর্তটির প্রভাব কতটা।
শর্ত ভাঙলে জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে। ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার ঘাটতি থাকা প্রতিটি ছবির জন্য ৩ কোটি ডলার দিতে হবে। পাশাপাশি মিরাম্যাক্স স্টুডিয়ো বিক্রির বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। এই অর্থের একটি অংশ শ্রমিক সংগঠন-সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও অবসর তহবিল এবং প্রতিযোগিতা আইন প্রয়োগের তহবিলে যাওয়ার কথা।
অর্থাৎ ছবি মুক্তির প্রতিশ্রুতি শুধু কর্পোরেট ঘোষণায় আটকে থাকছে না; তার সঙ্গে আর্থিক দায়ও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
কাজ হারালে কী হবে?
সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণে পাঁচ বছরে অন্তত অতিরিক্ত ১৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের অঙ্গীকার রয়েছে। হিসাবের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের দেশীয় ব্যয়।
সংযুক্তির ফলে স্থানচ্যুত কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য থাকবে ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ ডলারের তহবিল। স্বাধীন ছবি কেনার জন্য পৃথক তহবিলে প্রতি বছর আরও ৫০ লক্ষ ডলার দেওয়ার কথাও রয়েছে।
তবে এই অর্থ বরাদ্দকে চাকরি অক্ষুণ্ণ থাকার প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বরং সংযুক্তির পরে কাজ হারানো বা পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়া কর্মীদের জন্য একটি সুরক্ষা-ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা হিসেবে এর গুরুত্ব।
দর্শকের জন্যও শর্ত
দর্শকের পছন্দের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে।
দুই প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কেবল চ্যানেলগুলির দরকষাকষি পাঁচ বছর আলাদাভাবে চালাতে হবে। প্লুটো টিভির মতো বিনামূল্যের স্ট্রিমিং পরিষেবা বজায় রাখার অঙ্গীকারও রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও আলাদা সুরক্ষা রাখা হয়েছে। সিএনএন ও সিবিএসের সংবাদসম্পাদনার স্বাধীনতা দেখার জন্য একটি বোর্ড এবং সামগ্রিকভাবে সমঝোতার শর্তগুলি মানা হচ্ছে কি না, তা নজরদারির জন্য স্বাধীন পর্যবেক্ষক রাখার কথা বলা হয়েছে।
মামলা মিটলেই আপত্তি মেটে না
সব পক্ষ অবশ্য এতে সন্তুষ্ট নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে লেখকদের সংগঠন রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা জানিয়েছে, তারা নিজেদের পৃথক মামলা মিটিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সংযুক্তি শিল্পের ক্ষতি করতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে সরে আসেনি। অঙ্গরাজ্যগুলি মামলা থেকে সরে যাওয়ার পরে একা দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বাস্তবতাও তাদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
অতএব মামলা মিটিয়ে নেওয়া আর সংযুক্তিকে সমর্থন করা—দুটি এক কথা নয়।
আসল পরীক্ষা পর্দার বাইরে
এই সমঝোতার তাৎপর্য শুধু বছরে কতগুলি ছবি মুক্তি পাবে, তার অঙ্কে নেই। বড় প্রশ্নটি ক্ষমতার ভারসাম্যে।
দুটি সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা এক হয়ে গেলে লেখক, অভিনেতা কিংবা প্রযুক্তিকর্মীদের সামনে কাজের বাজারে দরকষাকষির সুযোগ কমতে পারে। বছরে ৩০ বা ৩২টি ছবি সেই উদ্বেগের আংশিক উত্তর হতে পারে, কিন্তু পুরো ছবিটা নয়। ছবির বাজেট, কর্মসংস্থানের মেয়াদ, বেতন এবং চুক্তির শর্তও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে কর্মী-সহায়তা তহবিল মানেই চাকরি বাঁচার নিশ্চয়তা নয়। পাঁচ বছরের বাধ্যবাধকতা শেষ হলে কী হবে, সেটিও এখনও বড় প্রশ্ন।
তাই এখন নজর থাকবে সংখ্যাগুলির উপর—কত ছবি সত্যিই হলে এল, কতটা নির্মাণ যুক্তরাষ্ট্রে হল, কত কর্মী প্রশিক্ষণ বা আর্থিক সহায়তা পেলেন। হলিউডের এই বিশাল সংযুক্তির সাফল্য শেষ পর্যন্ত কর্পোরেট ঘোষণায় নয়, এই ছোট ছোট যাচাইযোগ্য ফলাফলের মধ্যেই ধরা পড়বে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



