নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্না এক জন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের অধীনে কাজ করবেন। ২৮ জুলাইয়ের একটি নির্দেশে তদারকির এই স্তরটি তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাতে আপত্তি জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব টি ভি সোমনাথনকে চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। তিন মাস পর, বুধবার, দায়িত্ব বণ্টনের নতুন নির্দেশ জারি করল কমিশন।

২৮ জুলাইয়ের নির্দেশে তৎকালীন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের হাত থেকে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির (আইসিটি) দায়িত্ব সরিয়ে সীমা খান্নাকে দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশের অর্থ দাঁড়াত, খান্না সরাসরি কমিশনের কাছেই জবাবদিহি করবেন। বুধবারের নির্দেশে কার্যত আগের ব্যবস্থাই ফিরল।

কী নিয়ে আপত্তি ছিল দুই কমিশনারের

২৯ জুলাই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি লিখে জানান, সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই আগের দিনের নির্দেশটি জারি করেছিলেন।

এত দিন ওই নির্দেশ সংশোধন করা হয়নি। তবে কমিশনের বক্তব্য, দুই কমিশনার আপত্তি তোলায় নির্দেশটি কখনও কার্যকর হয়নি। অগস্টে সঞ্জয় কুমার কমিশন ছাড়ার পর ‘লিঙ্ক অফিসার’ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন গর্গ। খান্না তাঁর মাধ্যমেই কমিশনের কাছে ফাইল পাঠিয়ে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার কমিশন সূত্রে বলা হয়, “কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টনের নির্দেশ জারি হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল কার অধীনে কাজ করবেন, সেই ব্যবস্থায় কোনও বদল হয়নি। তিনি বরাবরই ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পদমর্যাদার এক জন আধিকারিকের অধীনে কাজ করেছেন।”

সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানায়, জুলাইয়ের নির্দেশ কার্যকর হয়নি

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠি দেওয়ার খবর ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদনও জমা পড়ে। ২৬ অক্টোবর শীর্ষ আদালতে কমিশন জানায়, ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশটি জারি করেছিলেন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার আধিকারিক মণীশ গর্গ। পাল্টা হলফনামায় কমিশন বলেছে, “দুই নির্বাচন কমিশনার ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই যৌথভাবে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশ কখনও কার্যকর করা হয়নি।”