ত্রিপুরা সরকার ১৬ নভেম্বর থেকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর সুস্থ শৈশব, সুস্থ কৈশোর অভিযান’-এর নবম দফা শুরু করতে চলেছে। কর্মসূচি চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। রাজ্যের ১ থেকে ১৯ বছর বয়সি ১০ লক্ষ ৩০ হাজার ৬৮৪ জন শিশু-কিশোরকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

দুই পর্যায়ে অভিযান

প্রথম পর্যায়ে, ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বর, স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, কলেজ, আইটিআই এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে। ২৪ থেকে ৩০ নভেম্বর বিশেষ শিবির ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশু-কিশোরদের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। চা-বাগান, ইটভাটা, বস্তি, অনাথ আশ্রম এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিবির করা হবে।

রক্তাল্পতা শনাক্ত ও প্রতিরোধে আয়রন-ফলিক অ্যাসিড দেওয়া, কৃমিনাশক ও ভিটামিন এ কর্মসূচি, টিকাকরণ এবং হাম-রুবেলা প্রতিরোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৈশোরকালীন গর্ভধারণ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নবজাতকের যত্ন এবং শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানো নিয়েও সচেতনতা তৈরি করা হবে।

অভিযানটি ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত’ কর্মসূচির সঙ্গেও চালানো হবে। প্রস্তুতি বৈঠকে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আগের দফার অভিজ্ঞতা

এই অভিযান রাজ্যে নতুন নয়। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর চলা সপ্তম দফায় ১১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮৩ জন শিশু-কিশোরকে পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারের দাবি অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশ পূরণ হয়েছিল। ওই দফায় আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন এ, ওআরএস প্যাকেট বিতরণ, কিশোর-কিশোরীদের জন্য ধনুষ্টঙ্কার ও ডিপথেরিয়ার টিকা এবং নিউমোনিয়া নিয়ে সচেতনতার কর্মসূচি ছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে অষ্টম দফা শুরু হয়, যার লক্ষ্য ছিল ১০ লক্ষেরও বেশি শিশু-কিশোর।

প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের কাছে পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই কর্মসূচির অন্যতম বড় পরীক্ষা।