ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলায় বিএসএফ কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় ন’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ছ’জন পুরুষ ও তিন জন মহিলা রয়েছেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, সোমবার সকাল ন’টা নাগাদ কালামচৌড়া থানা এলাকার আশাবাড়ি গ্রামে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আশাবাড়ি সীমান্ত চৌকির (বিওপি) কাছে বিএসএফের ৪৯তম ব্যাটালিয়নের সদস্যেরা চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালান। পুলিশ সূত্রে খবর, চোরাচালানের সন্দেহে এক ভারতীয় যুবককে আটক করা হলেও তিনি পালিয়ে গ্রামে ফিরে যান। গ্রামবাসীদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, বিএসএফ কর্মীরা তাঁকে মারধর করেছেন। এর পরই স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করেন। অভিযোগ, বিএসএফের একটি গাড়ি সেখানে পৌঁছলে বড় সংখ্যক পুরুষ ও মহিলা গাড়িটি ঘিরে ধরে লাঠি নিয়ে কর্মীদের উপর হামলা চালান।
হামলায় এক কোম্পানি কমান্ডার-সহ বিএসএফের তিন কর্মী আহত হন। তাঁদের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলাকারীদের একজনও আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিএসএফের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ, হামলাকারীরা এক কর্মীর সার্ভিস রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিএসএফ ও গ্রামবাসী, দু’পক্ষের অভিযোগই পুলিশ নথিভুক্ত করেছে। হামলা, অস্ত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ধৃতদের দোষী বলা যায় না।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।