আগরতলা পুরনিগম নির্বাচনের জন্য ৫১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৯টিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। বুধবার দলের রাজ্য সভাপতি আশিস কুমার সাহার স্বাক্ষরিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় ৩০ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থীর নাম নেই। ওই দুই ওয়ার্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আশিস কুমার সাহা বলেন, সব দিক বিবেচনা করেই ৪৯টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সিপিআইএম আগরতলা পুরনিগমের ২৬টি ওয়ার্ডে প্রার্থী ঘোষণার আগে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি। সে কারণেই কংগ্রেসকে ৪৯টি আসনে প্রার্থী দিতে হয়েছে। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনও জানান, দুই দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনও সমঝোতা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, ৩০ অক্টোবর আগরতলায় ইন্ডিয়া জোটের যৌথ মিছিলের পর কংগ্রেস যৌথভাবে লড়াইয়ের বিষয়ে আলোচনার আশা করেছিল। কিন্তু সিপিআইএম কংগ্রেসের সঙ্গে কথা না বলেই প্রার্থী ঘোষণা করে মনোনয়ন জমা দিয়েছে।
সাহা আরও দাবি করেন, শাসক দল বিজেপির কর্মীরা কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মনোনয়ন জমা না দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলে খবর রয়েছে। তাঁর কথায়, “যা-ই হোক, আমরা নির্বাচনে লড়ব।” কয়েকটি নগর পঞ্চায়েত ও পুরপরিষদে কংগ্রেস প্রার্থীরা ইতিমধ্যে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, বাকি আসনের মনোনয়ন বৃহস্পতিবার জমা পড়বে।
কংগ্রেসের এই পদক্ষেপের পর সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক ও বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বিজেপিকে হারাতে কংগ্রেস-সহ সব বিজেপি-বিরোধী শক্তির একজোট হয়ে লড়া উচিত। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার রাতে তিনি সুদীপ রায় বর্মন ও আশিস কুমার সাহার সঙ্গে কথা বলেছেন। বামফ্রন্ট ২৬টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়েছিল, বাকি আসন ইন্ডিয়া জোটের অধীনে কংগ্রেসের জন্য ছেড়ে রেখেছিল। তাঁর কথায়, “কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে। বামেরা বিজেপিকে একতরফা সুবিধা দিতে চায় না।”
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী আগরতলা পুরনিগম-সহ ২১টি পুর সংস্থায় ২৭ নভেম্বর ভোট হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ নভেম্বর, বাছাই ৭ নভেম্বর এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। ভোটগণনা ২ ডিসেম্বর। ফলে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য দলগুলির হাতে সময় খুব বেশি নেই।
আগরতলা পুরনিগমের ৫১টি ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রায় পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করলেও বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে বিরোধী শিবিরে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মনোনয়ন জমার শেষ দিনের আগে কোনও সমঝোতা হয় কি না, সেদিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।