প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের পরে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হলেন মাসআর্টের সচিব ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। টালা প্রত্যয়ের প্রাক্তন পুজোকর্তা হিসেবে পরিচিত ধ্রুবজ্যোতির নাম এই মামলার এফআইআরেও ছিল।

তদন্তের কেন্দ্রে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং নির্বাচিত মণ্ডপে বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির হিসাব। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে পাস বিক্রি করেছিল মাসআর্ট। সেই আয়োজনের অনুমতি, পাস বিক্রি থেকে আয় এবং বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়া অর্থের হিসাব খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধ্রুবজ্যোতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই লেনদেন সম্পর্কে আরও তথ্য পেতে চাইছে পুলিশ।

মাসআর্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কার কী ভূমিকা ছিল, তা-ও তদন্তের বিষয়। ইডির তথ্য উল্লেখ করে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থার সভাপতি ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং সচিব ধ্রুবজ্যোতি। সহসভাপতি সায়ন্তন মিত্র ও কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।

ইউনেস্কোর সঙ্গে মাসআর্টের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে তথ্য চেয়েছিল কলকাতা পুলিশ। পুলিশ সূত্রের দাবি, ইউনেস্কো রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের কথা স্বীকার করলেও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য কোনও সংস্থা বা দফতরের সঙ্গে চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে। পাস বিক্রির সময় কী দাবি করা হয়েছিল এবং তার ভিত্তি কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই মামলায় গত ২৮ অক্টোবর ইন্দ্রনীলকে গ্রেপ্তার করেছিল কলকাতা পুলিশ। সে দিন ইডির দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়েছিলেন গায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী। সেখানকার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

ধ্রুবজ্যোতির গ্রেপ্তারির পর পাস বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে অর্থ আদায় ও ব্যয়ের ধারাবাহিক হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তবে তাঁর বা তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলিতে পাওয়া যায়নি। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলি এখনও বিচারাধীন।