পশ্চিমবঙ্গের পুলিশে ২৭,৫৫৬টি পদে নিয়োগের জন্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ৬,৩৪৫টি পদ মহিলাদের জন্য। শনিবার, ৭ নভেম্বর কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে নিয়োগপত্র দেওয়ার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঘোষিত পদগুলির জন্য এ পর্যন্ত ১১,৯০২ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যে আরও দু’টি ইন্ডিয়া রিজ়ার্ভ ব্যাটালিয়ন (আইআরবি) গড়ার প্রস্তাবের কথা জানান তিনি। ওই দুই ব্যাটালিয়নে নিয়োগ শুরু করতে কেন্দ্রের চূড়ান্ত অনুমোদন লাগবে।
লালবাজারের অনুষ্ঠানে কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর ও সার্জেন্ট পদে নির্বাচিত ৩০৯ জনের নিয়োগের কথা জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে ৩০৩ জনের নথি যাচাই শেষ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মহালয়ার পরদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্য পুলিশের প্রায় ১১ হাজার নবনিযুক্ত কনস্টেবলকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল। ডিসেম্বর মাসে রাজ্য পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর পদে নিয়োগপত্র দেওয়ার পালা। জানুয়ারিতে গঙ্গাসাগর মেলার আগে মিলনমেলা প্রাঙ্গণে কলকাতা পুলিশের প্রায় চার হাজার কনস্টেবলকে নিয়োগপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন আরও পুলিশ প্রয়োজন, বোঝাতে জনসংখ্যার অনুপাতে বাহিনীর আকারের হিসাব দেন শুভেন্দু। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যানে, দেশে প্রতি লক্ষ বাসিন্দার জন্য গড়ে ১৫৫ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা ১০৫। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ১১ কোটি মানুষের এই রাজ্যে পাহাড়, জঙ্গলমহল, সুন্দরবনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ আর কলকাতার মতো মহানগরে পুলিশের কাজের ধরন আলাদা। তার উপরে রয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার সীমান্ত। রাজ্যের পুলিশে প্রায় ৪৬ হাজার অনুমোদিত পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে ওই পদগুলি পূরণ করা হবে।
প্রস্তাবিত দুই ব্যাটালিয়ন সেই বাহিনীকে কোথায় সাহায্য করবে, তার ধারণা মেলে রাজ্য পুলিশের কাজের বিবরণে। আইনশৃঙ্খলার গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় পুলিশকে সাহায্য করে আইআরবি। মাওবাদী তৎপরতা মোকাবিলা, এলাকা ঘিরে তল্লাশি, পণবন্দিদের উদ্ধার এবং কনভয়ের নিরাপত্তাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বর্তমানে দুর্গাপুর ও শিলিগুড়িতে রাজ্যের দু’টি আইআরবি রয়েছে। শুভেন্দু জানান, আরও দুই ব্যাটালিয়ন গড়ার বিষয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রসচিব প্রাথমিক আলোচনায় নীতিগত সম্মতি জানিয়েছেন বলে তাঁর দাবি।
নিয়োগে এত দেরি হল কেন, তার ব্যাখ্যায় মুখ্যমন্ত্রী অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) সংরক্ষণ ঘিরে মামলার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকার কলকাতা হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করায় পুলিশ নিয়োগ পর্ষদের কাজ আটকে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার বিধানসভায় আইন সংশোধন করে এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা প্রত্যাহার করে সেই জট কাটিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। দীর্ঘ বিরতির কথা মাথায় রেখে কয়েকটি ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় দেওয়ার কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর আশ্বাস, পর্ষদ নিয়োগবিধি মেনে মেধার ভিত্তিতেই প্রার্থী বাছাই করবে। পর্ষদের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর ও সার্জেন্ট পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। আর রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছিল ২০২৪ সালে।
চলতি নিয়োগের পর আরও প্রায় সাড়ে দশ হাজার শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী কয়েক মাসে উর্দিধারী সরকারি পদে চাকরির সুযোগ বাড়বে বলেও তিনি জানান। বন, দমকল এবং আবগারি দফতরের নাম করেন শুভেন্দু।
লোকবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণের জন্য গুজরাটের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় ও অসমের একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজ্য সমঝোতাপত্র সই করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নতুন অফিসারদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ এলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদক পাচার ও মাদকের ঠেকের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাতে বলেন তিনি। জরুরি পরিষেবার জন্য কলকাতা পুলিশের আর কত গাড়ি প্রয়োজন, তার হিসাব চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকার যে লক্ষ্য স্থির করেছে, তাতে ১১২ নম্বরে সাহায্য চেয়ে ফোন করার ছয় মিনিটের মধ্যে পুলিশের সাড়া পাওয়ার কথা।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।