ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্তফা দিলেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। এই নিয়ে চার জন বিচারপতি সরে দাঁড়ালেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে প্রায় ৩৮ লক্ষ আপিলের শুনানির দায়িত্ব যে ১৯টি ট্রাইব্যুনালের, তাদের কাজকর্ম নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল।

ট্রাইব্যুনালের কাজের পদ্ধতি নিয়ে আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি বসু। তিনি বলেছিলেন, “এ ভাবে লক্ষ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি করা একটু কঠিন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যখন এই ব্যবস্থা হয়েছে, তখন কাজটা করতেই হবে।”

কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বিঠলরাও ঘুগের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বিচারপতি বসু। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি সংক্রান্ত কমিশনের চেয়ারম্যান পদেও নিয়োগ করেছে।

এসআইআরে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে পশ্চিমবঙ্গে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। প্রতিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টের এক জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে। এঁদের মধ্যে প্রথম ইস্তফা দেন হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম, ২০২৬ সালের মে মাসে। পরে সরে দাঁড়ান প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ ও ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাড়ি থেকে জোকার এসআইআর ট্রাইব্যুনালে যাতায়াতে অনেকটা সময় লেগে যায় বলে আগেই জানিয়েছিলেন বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়। তবে পদত্যাগের সময় চার জনই ব্যক্তিগত কারণের কথা বলেছেন।

আপিলের নিষ্পত্তি যে গতিতে হচ্ছে, তা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা অসন্তোষ জানিয়েছেন। ১১ অগস্টের একটি বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, অধিকাংশ বিচারপতির অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশনের ইসিআইনেট (ECINET) পোর্টাল যে ভাবে কাজ করার কথা, সে ভাবে কাজ করছিল না।

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর চলে। এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়ে। সংশোধন শুরুর আগে রাজ্যে যত ভোটারের নাম তালিকায় ছিল, এই সংখ্যা তার প্রায় ১৩ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে নির্বাচন কমিশনের জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’র কারণে যে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল, তাঁদের মধ্যে ২২ লক্ষ সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন। অন্য দিকে, এসআইআরে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আপিল জমা পড়েছে। দুই ধরনের আপিল মিলিয়ে ট্রাইব্যুনালগুলিতে বিচারাধীন আপিলের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লক্ষ।