দীপাবলি ও কালীপুজোর আগের দিনই কলকাতার বাতাসের গুণমান আশঙ্কাজনক স্তরে নেমে এল। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (CPCB) এবং একাধিক লাইভ এয়ার কোয়ালিটি ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার কলকাতায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ১৬৫ থেকে ১৭০-এর ঘর স্পর্শ করেছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য 'অস্বাস্থ্যকর' (Unhealthy) বলে চিহ্নিত। এই দূষণের মাত্রা দেশের প্রধান আটটি মেট্রো শহরের মধ্যে কলকাতাকে দ্বিতীয় স্থানে বসিয়েছে, যেখানে দিল্লির স্থান এখনও শীর্ষে (৩৬৩-৩৬৪)।

অন্যান্য মেট্রো শহরের তুলনায় যেমন হায়দরাবাদ (১৬৮), পুনে (১৫৬), মুম্বই (১৫১), আহমেদাবাদ (১৩২), চেন্নাই (১২০) এবং বেঙ্গালুরুর (৯৩) তুলনায় কলকাতার বায়ুদূষণ ইতিমধ্যেই বেশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দীপাবলি ও কালীপুজোর বাজির ধোঁয়া এবং মরশুম বদলের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পুজোর পরের দিনগুলিতে শহরের বায়ুর গুণমান আরও বিপজ্জনক বা ‘খারাপ’ (Poor - AQI ২০০ ছাড়িয়ে) পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। গত বছরও উৎসব-পরবর্তী সময়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এলাকায় AQI ১৮৬ এবং হাওড়ার বেলুরে ৩৬৪ স্পর্শ করেছিল।

এই পরিস্থিতিতে শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা প্রবীণ নাগরিক ও শিশুদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ফোর্টিস হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডঃ জয়দীপ ঘোষের মতে, আতশবাজির ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম ধূলিকণা প্রবীণদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। অ্যাজমা বা সিওপিডি (COPD) রোগীদের জন্য ইনহেলার সাথে রাখা এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শিশুবিশেষজ্ঞ ডঃ রিতিকা ঘোষ দস্তিদার শিশুদের বাজি পোড়ানো ভিড় এড়িয়ে চলতে এবং দরজা-জানালা বন্ধ রেখে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।