Table of Contents
বলিউডের অন্যতম রহস্যময় নিখোঁজের ঘটনা আজও ঘিরে রয়েছে অভিনেতা রাজ কিরণকে। বছরের পর বছর কেটে গেলেও তাঁর কোনও নিশ্চিত সন্ধান মেলেনি। এবার পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী সোমি আলি জানালেন, প্রয়াত অভিনেতা ঋষি কাপুরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই গত ১৬ বছর ধরে রাজ কিরণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমনকি নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে রাজ কিরণের সন্ধান দিতে পারলে $5,000 পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন।
রাজ কিরণ ‘কার্জ’ এবং ‘অর্থ’-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সোমির দাবি, একবার ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে ঋষি কাপুরের সঙ্গে কথা বলার সময় রাজ কিরণের রহস্যজনক অন্তর্ধান নিয়ে আলোচনা হয়। তখনই তাঁরা দু’জনে মিলে অভিনেতাকে খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেন।
২০২০ সালে ঋষি কাপুরের মৃত্যু হলেও সেই প্রতিশ্রুতি ভোলেননি সোমি।
‘১৬ বছর ধরে খুঁজছি’
সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে সোমি লেখেন, “চিন্টুজি (ঋষি কাপুর)-কে কথা দিয়েছিলাম, রাজ কিরণের খোঁজ আমি কখনও ছাড়ব না। এ নিয়ে আমার ১৬ বছর পূর্ণ হল।”
তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্য ও ঠিকানা ধরে নিউইয়র্কে একাধিক বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করেছেন তিনি। এমনই একটি অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে রাজ কিরণকে কেউ দেখেনি। তবে তাঁর ভাই গোবিন্দ, ভাবি জুডি এবং তাঁদের মেয়ে দীর্ঘ ১১ বছর সেখানে ছিলেন বলে জানতে পারেন সোমি।
রাজ কিরণের পরিবারের আরও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও করেছেন তিনি। কিন্তু তাতেও মেলেনি কোনও নিশ্চিত তথ্য।
সোমির কথায়, “শুধু চিন্টুজিকে দেওয়া কথা রাখার জন্য নয়, আমি সত্যিই জানতে চাই রাজজি নিরাপদে আছেন কি না, অথবা কোথাও জোর করে আটকে রাখা হয়েছে কি না।”
সন্ধান দিলে $5,000 পুরস্কার
এবার সাধারণ মানুষের সাহায্য চেয়েছেন সোমি। তাঁর ঘোষণা, রাজ কিরণের নির্ভরযোগ্য অবস্থান সম্পর্কে কেউ তথ্য দিতে পারলে—সেটি কোনও মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র হোক বা কোনও অ্যাপার্টমেন্ট—তাঁকে $5,000 পুরস্কার দেওয়া হবে।
সোমির আবেদন, “পুরস্কারের অঙ্ক খুব বড় নয়। কিন্তু কেউ যদি তাঁর নির্ভরযোগ্য ঠিকানা দিতে পারেন, তাঁকে $5,000 পুরস্কার দেওয়া হবে। দয়া করে সাহায্য করুন।”
পোস্টের সঙ্গে একটি চিঠির ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি। দাবি, লিঙ্কডইনের মাধ্যমে ‘জুডি’ নামে এক আত্মীয়কে সেই চিঠি পাঠিয়েছিলেন। প্রয়োজনে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে নিখোঁজ ডায়েরি করার কথাও সেখানে উল্লেখ করেছিলেন।
চিঠিতে সোমি লিখেছিলেন, তাঁর শেষ চেষ্টা হতে পারে নিউইয়র্ক পুলিশের কাছে নিখোঁজের অভিযোগ করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য $5,000 পুরস্কার ঘোষণা করা।
নিজের সঞ্চয়ও খরচ করেছেন
রাজ কিরণের সন্ধানে বছরের পর বছর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের অর্থও খরচ করেছেন সোমি। এমনকি মায়ের কাছ থেকেও টাকা ধার করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর কথায়, এই অনুসন্ধান থেকে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত লাভ নেই। শুধুমাত্র রাজ কিরণকে খুঁজে পাওয়ার আশায় নিজের সঞ্চয় এবং মায়ের কাছ থেকে ধার করা অর্থও খরচ করেছেন তিনি।
আটলান্টায় ছিলেন? উঠেছিল বিতর্ক
২০০০-এর দশকের গোড়ায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান রাজ কিরণ। এরপর তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা দাবি সামনে এসেছে।
একসময় ঋষি কাপুর জানিয়েছিলেন, রাজ কিরণের ভাই গোবিন্দ তাঁকে বলেছেন যে অভিনেতা জীবিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার একটি মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন।
কিন্তু এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন রাজ কিরণের মেয়ে ঋষিকা মহতা। Mid-Day-কে তিনি বলেছিলেন, তাঁর বাবা আটলান্টায় নেই। পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে খুঁজছে এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ও ব্যক্তিগত গোয়েন্দাদের সাহায্য নিয়েও কোনও সন্ধান মেলেনি।
ঋষিকার দাবি ছিল, রাজ কিরণ অত্যন্ত স্নেহশীল বাবা ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার আগে কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগলেও পরিবার বিষয়টি ব্যক্তিগত রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু ভুল তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তাঁকে বাধ্য হয়ে মুখ খুলতে হয়।
অবসাদের কথাও উঠেছিল
পরিচালক মহেশ ভাট-ও এক সাক্ষাৎকারে রাজ কিরণের মানসিক অবস্থার কথা বলেছিলেন। তাঁর দাবি, কাজ কমে যাওয়ার পর অভিনেতা গভীর অবসাদে ভুগছিলেন।
মহেশ ভাটের বর্ণনা অনুযায়ী, মাসিনা হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের ওয়ার্ডে রাজ কিরণের সঙ্গে দেখা করার সময় তাঁকে আগের প্রাণবন্ত মানুষটির মতো মনে হয়নি। তিনি অত্যন্ত বিষণ্ণ ছিলেন এবং কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছিল।
তবে রাজ কিরণের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এসব পুরনো দাবি কোনও নিশ্চিত উত্তর দেয়নি।
বছরের পর বছর পরিবার, ব্যক্তিগত গোয়েন্দা এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অনুসন্ধানের পরও রাজ কিরণের প্রকৃত অবস্থান আজও অজানা। তাঁর অন্তর্ধান তাই বলিউডের অন্যতম বড় অমীমাংসিত রহস্য হয়েই রয়েছে।
আর সেই রহস্যের সমাধানের আশায় ১৬ বছর ধরে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন সোমি আলি। ঋষি কাপুরকে দেওয়া একটি পুরনো প্রতিশ্রুতি থেকেই শুরু হওয়া সেই অনুসন্ধান আজ পৌঁছেছে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর নতুন আবেদনে—রাজ কিরণ কোথায়, সত্যিই যদি কেউ জানেন, তাঁকে খুঁজে পেতে সাহায্য করুন।