হাইলাইটস
- বিশ্বকাপকে ঘিরে বিভিন্ন দেশে বিশেষ সরকারি ব্যবস্থা।
- জার্মানিকে হারানোর পর ইকুয়েডর ও পরে প্যারাগুয়েতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা।
- অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ উপলক্ষে সিডনিতে সারারাত চলবে মেট্রো।
- ইংল্যান্ডের ম্যাচের রাতে ভোর ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে পানশালা।
- স্কুলে দেরিতে যাওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষক ও সমর্থকদের একাংশ।
বিশ্বকাপ এখন এমন এক উন্মাদনায় পৌঁছেছে যে, কাজের সময়সূচি, কারফিউ কিংবা ট্রেনের নির্ধারিত সময়—সবই যেন ফুটবলের কাছে গৌণ হয়ে উঠছে। বিশ্বের নানা দেশের সরকার সমর্থকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একের পর এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কোথাও ঘোষণা করা হচ্ছে জাতীয় ছুটি, কোথাও আবার সারারাত গণপরিবহন চালানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ব্রিটেনে তো ইংল্যান্ডের ম্যাচ উপলক্ষে পানশালা খোলা রাখার সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারানোর পর ইকুয়েডরে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট Daniel Noboa একটি জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, জাতীয় ফুটবল দল পুরো দেশের মানুষকে “অপরিসীম আনন্দ” উপহার দিয়েছে।
এর কয়েক দিনের মধ্যেই আরও বড় চমক দেখায় প্যারাগুয়ে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে তারা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেয় ইউরোপের শক্তিধর দলটিকে। এরপর প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট Santiago Peña-ও একটি জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বার্তা ছিল, “আজ গোটা দেশ উদ্যাপন করছে।”
বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আরও নানা দেশে নিয়মে শিথিলতা আনা হচ্ছে। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিভিন্ন দেশের দর্শকদের গভীর রাত বা ভোরে খেলা দেখতে হচ্ছে। সেই বাস্তবতা মেনেই নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা।
শনিবার ভোর ৪টায় অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ থাকায় Sydney শহরে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। John Graham বলেন, সিডনির বড় বড় আয়োজনের মতো বিশ্বকাপের ম্যাচ উপলক্ষেও অতিরিক্ত গণপরিবহন চালু থাকবে।
অন্যদিকে ব্রিটেনে King Charles III স্কটল্যান্ডের পুরুষদের দল ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় ১৫ জুন সেখানে বিশেষ সরকারি ছুটির অনুমোদন দেন।
এদিকে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচকে সামনে রেখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer ঘোষণা করেছেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী রাত ১১টায় পানশালা বন্ধ হবে না। সেদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত সেগুলো খোলা রাখা যাবে, যাতে সমর্থকেরা একসঙ্গে খেলা দেখতে পারেন। তিনি বলেন, “পানশালায় বসে খেলা দেখার পরিকল্পনা থাকলে সেটি দারুণ ব্যাপার। এতে পানশালাগুলোরও উপকার হবে।”
ইংল্যান্ডের অনেক শিক্ষক এবং ফুটবলপ্রেমী মনে করছেন, ম্যাচের পরদিন সোমবার স্কুলগুলো দেরিতে শুরু করার সুযোগ রাখা উচিত। ব্রিটেনের জাতীয় শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি Daniel Kebede বিবিসিকে বলেন, সোমবার যদি উপস্থিতির হার কিছুটা কমেও যায়, তাহলে সে জন্য স্কুলগুলোকে যেন শাস্তি না দেওয়া হয়।
ইংল্যান্ডের কোচ Thomas Tuchel-ও অভিভাবকদের উদ্দেশে রসিকতার সুরে বলেন, “স্কুলে না যাওয়ার একটা অজুহাত লিখে দিন। ওদের ফুটবল দেখতে দিন।”
তবে এতটা এগোতে রাজি নয় ব্রিটিশ সরকার। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী Bridget Phillipson বলেন, সন্তানদের কখন ঘুমাতে যাবে, সে বিষয়ে তিনি অভিভাবকদের নির্দেশ দিতে চান না। তবে তাঁর অনুরোধ, “সোমবার যেন শিশুরা স্কুলে যায়, সেটাই আমরা চাই।”