হাইলাইটস

  • পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ১২৫ বছরের পুরনো গুরুদ্বার ভেঙে ফেলার অভিযোগ।
  • ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করল ভারত।
  • দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি নয়াদিল্লির।
  • স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ।
  • সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে পাকিস্তান।

বাংলাস্ফিয়ার: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রায় ১২৫ বছরের পুরনো একটি শিখ ধর্মীয় উপাসনালয় ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বুধবার বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করে ইসলামাবাদের কাছে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

অভিযোগ, লাহোর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ফরুকাবাদ শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক গুরুদ্বার সিং সভা গত ২৫ জুন গভীর রাতে ভাঙচুরের শিকার হয়। পাকিস্তানি প্রশাসনের দাবি, শুধুমাত্র গুরুদ্বারের গম্বুজটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, গোটা স্থাপনাটিই প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই পরস্পরবিরোধী দাবিকে ঘিরে ঘটনাটি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ফরুকাবাদের ঐতিহাসিক গুরুদ্বার ধ্বংসের খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি জানান, ভারত এই ঘটনাকে কড়া ভাষায় নিন্দা করছে। তাঁর বক্তব্য, একটি পবিত্র শিখ ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে এই ধরনের হামলা শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতেই আঘাত নয়, বরং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়।

ভারত আরও অভিযোগ করেছে, ঘটনাটির পর স্থানীয় প্রশাসন এবং পাকিস্তানের ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ইটিপিবি)-এর তরফে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষণ এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি। এই নিষ্ক্রিয়তাকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, শুধুমাত্র ঘটনার তদন্ত ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ভারতের মতে, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থানগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বহুদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। অতীতেও মন্দির, গুরুদ্বার এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর বা দখলের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ফরুকাবাদের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলেই মনে করছে নয়াদিল্লি।

গুরুদ্বার সিং সভা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় স্থাপনা বলে পরিচিত। দেশভাগের আগে এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিখ সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। দেশভাগের পর অধিকাংশ শিখ ভারতে চলে এলেও গুরুদ্বারটি ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রয়ে গিয়েছিল। ফলে এর ধ্বংস শুধু একটি স্থাপনার ক্ষতি নয়, উপমহাদেশের যৌথ ঐতিহ্যেরও অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদদের একাংশ।

ভারত আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এই ঘটনার দিকে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। পাকিস্তানের উচিত সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। প্রশাসনের তরফে সীমিত ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হলেও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না। ফলে কীভাবে এবং কারা এই ভাঙচুর চালাল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ভারতের দাবি, কেবল তদন্তের আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে জরুরি। দোষীদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মীয় স্থাপনার পুনর্নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই পাকিস্তান তার সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে পারে। এই ঘটনার জেরে দুই দেশের সম্পর্কের সংবেদনশীল একটি বিষয়—সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ—আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল।