হাইলাইটস:

  • রামমন্দির অনুদান সংগ্রহে অনিয়মের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দলকে (এসআইটি) আরও ১৫ দিন সময় দিল উত্তরপ্রদেশ সরকার।
  • তদন্তের নতুন সময়সীমা ১৫ জুলাই পর্যন্ত।
  • শুধু গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্ত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক গাফিলতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকও খতিয়ে দেখা হবে।
  • মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অনুমোদনের পর তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
  • অনুদানের বাক্স থেকে ব্যাঙ্কে টাকা জমা পড়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখবে এসআইটি।

বাংলাস্ফিয়ার: রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত আরও গভীরে পৌঁছতে চলেছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-কে আরও ১৫ দিনের সময় দিয়েছে। ফলে তদন্তের নতুন সময়সীমা দাঁড়াল ১৫ জুলাই। সরকারের বক্তব্য, এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ বাকি রয়েছে। তাই তাড়াহুড়ো করে রিপোর্ট জমা না দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করতে হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইটি শুধু ইতিমধ্যে গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের ভূমিকাই খতিয়ে দেখবে না। তদন্তের মূল লক্ষ্য এখন এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা—এত বড় আর্থিক অনিয়ম আদৌ কীভাবে সম্ভব হল? কোথায় কোথায় নিরাপত্তা ও নজরদারির ঘাটতি ছিল? কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা, দায়িত্বে অবহেলা বা নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে কি এই অর্থ তছরুপের সুযোগ তৈরি হয়েছিল? সেই সব দিকও বিশদে খতিয়ে দেখা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এসআইটির সময় বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। এরপরই তদন্তকারী দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে। এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, “তদন্তের পরিধি আগের তুলনায় অনেক বড় হয়েছে। তাই আরও সময় প্রয়োজন ছিল।”

তিন সদস্যের এসআইটির নেতৃত্বে রয়েছেন লখনউ বিভাগের কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্ত। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন লখনউ রেঞ্জের মহাপরিদর্শক কিরণ এস এবং অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব নীল রতন। খুব শীঘ্রই তাঁরা আবার অযোধ্যায় গিয়ে তদন্ত শুরু করবেন। এবার তাঁদের প্রধান লক্ষ্য হবে অনুদানের বাক্স থেকে নগদ অর্থ বের করা, সেই অর্থ গণনা, সংরক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্কে জমা পড়ার পুরো প্রক্রিয়া খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা।

তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, প্রতিটি ধাপে দায়িত্বে কারা ছিলেন, কীভাবে দায়িত্ব বণ্টন হয়েছিল এবং কোথাও কোনও নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না। বিশেষ করে নগদ অর্থ পরিবহণ, হিসাব রক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার সময় কোনও অসঙ্গতি বা ফাঁকফোকর ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মী, আধিকারিক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার প্রতিনিধিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এর আগে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ ওঠে, অনুদানের অর্থ সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, বিষয়টি শুধুমাত্র কয়েকজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

এসআইটির অন্যতম দায়িত্ব এখন এই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা যে, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অনিয়ম চলছিল কি না। যদি তা হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে কেন তা আসেনি? নিয়মিত নিরীক্ষা, আর্থিক তদারকি এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের আওতায় এসেছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, তদন্তে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা বা পক্ষপাত দেখানো হবে না। যে স্তরেই গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলবে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ এই ঘটনা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গেও জড়িত। ফলে তদন্তে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অনুদান জমা পড়ে। সেই অর্থের নিরাপদ সংরক্ষণ, নির্ভুল হিসাব এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা অপরিহার্য। যদি বর্তমান তদন্তে প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রমাণ মেলে, তাহলে ভবিষ্যতে অনুদান পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হতে পারে।

আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে এসআইটির চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ার কথা। সেই রিপোর্টে শুধু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা-ই নয়; ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রুখতে কী কী কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়েও সুপারিশ থাকতে পারে। এখন নজর সেই রিপোর্টের দিকেই, কারণ সেটিই স্পষ্ট করবে এই অনিয়ম কেবল কয়েকজনের অপরাধ ছিল, নাকি গোটা ব্যবস্থার কোথাও গভীর ত্রুটি লুকিয়ে রয়েছে।