Home সংস্কৃতি ও বিনোদন মাইলস ডেভিসের গানে পুণর্জন্ম রবার্ট গ্লাসপারের

মাইলস ডেভিসের গানে পুণর্জন্ম রবার্ট গ্লাসপারের

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
9 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • তিন ঘণ্টার পডকাস্টে মাইলস ডেভিসের ভল্টে প্রথম প্রবেশের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন রবার্ট গ্লাসপার।
  • অসমাপ্ত রেকর্ডিং ও বাতিল পরীক্ষামূলক কাজেও তিনি খুঁজে পান ডেভিসের নির্ভীক শিল্পীসত্তা।
  • গ্লাসপারের মতে, একই পথে বারবার না হাঁটার সাহসই ছিল ডেভিসের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।
  • সেই অভিজ্ঞতা তাঁর নিজের সঙ্গীতচিন্তা ও সৃষ্টির দৃষ্টিভঙ্গিকেও বদলে দিয়েছে।

জ্যাজের ইতিহাসে মাইলস ডেভিস কেবল একজন কিংবদন্তি নন, তিনি এক অনবরত পরিবর্তনের প্রতীক। আর সেই পরিবর্তনের স্পর্শই যেন নতুন করে অনুভব করলেন সমকালীন জ্যাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পিয়ানোবাদক, সুরকার ও প্রযোজক রবার্ট গ্লাসপার। সম্প্রতি Go with Elmo Lovano পডকাস্টে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরেছেন মাইলস ডেভিসের ব্যক্তিগত সংরক্ষণাগারে প্রথম প্রবেশের স্মৃতি। কথোপকথন দীর্ঘ হলেও একঘেয়ে নয়; বরং প্রতিটি মুহূর্তে ফুটে ওঠে শিল্প, সৃজনশীলতা ও উত্তরাধিকারের গভীর দর্শন।

গ্লাসপার জানান, মাইলস ডেভিসের ভল্টে প্রবেশ করার আগে তাঁর মনে ছিল প্রবল উত্তেজনা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বিস্মিত হন অন্য এক কারণে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু ঐতিহাসিক রেকর্ডিং বা দুর্লভ সঙ্গীতের ভাণ্ডার নয়। বরং অসমাপ্ত সুর, বাতিল হয়ে যাওয়া পরীক্ষামূলক কাজ এবং অপ্রকাশিত ধারণাগুলির মধ্যেও তিনি খুঁজে পেয়েছেন এক অদম্য মানসিকতা—নিজেকে কখনও পুনরাবৃত্তি না করার সাহস। অনেকেই হয়তো এমন একটি সংরক্ষণাগারকে শ্রদ্ধা, ঐতিহ্য কিংবা ইতিহাসের প্রতীক হিসেবে দেখবেন। কিন্তু গ্লাসপারের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল নির্ভীকতা। তিনি উপলব্ধি করেন, মাইলস ডেভিস কখনও পরিচিত সাফল্যের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাননি। প্রতিবারই তিনি নতুন পথ খুঁজেছেন, নতুন ভাষা তৈরি করেছেন, এমনকি ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিও গ্রহণ করেছেন।

মাইলস ডেভিসের এই সংরক্ষণাগার পরিচালনা করছে তাঁর এস্টেট। সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে অসংখ্য রেকর্ডিং, নোট, অসমাপ্ত প্রকল্প এবং নানা পরীক্ষামূলক কাজ। গ্লাসপারের ভাষায়, এই সবকিছু মিলিয়ে যেন একজন শিল্পীর চিন্তার বিবর্তনের জীবন্ত দলিল। সেখানে শুধু সফল সৃষ্টি নয়, রয়েছে অনুসন্ধান, দ্বিধা, ভুল এবং নতুন সম্ভাবনারও চিহ্ন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর নিজের সৃষ্টিশীলতাকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে জানান গ্লাসপার। তিনি উপলব্ধি করেছেন, একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিজের স্বরকে বারবার নতুনভাবে আবিষ্কার করা। জনপ্রিয়তার সূত্র ধরে একই ধরনের কাজ করে যাওয়া সহজ, কিন্তু প্রকৃত শিল্পী সেই সীমা ভেঙে এগিয়ে যান। মাইলস ডেভিস সেই সাহসেরই এক অনন্য উদাহরণ।

পডকাস্টটি শুনতে শুনতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এটি কেবল একজন ভক্তের মুখে তাঁর প্রিয় শিল্পীর প্রশংসা নয়। বরং এক অস্থির, অনুসন্ধিৎসু শিল্পীমনের সঙ্গে আরেক শিল্পীমনের নীরব সংলাপ। সময়ের ব্যবধান সেখানে তুচ্ছ হয়ে যায়। ১৯৯১ সালে ৬৫ বছর বয়সে মাইলস ডেভিসের মৃত্যু হলেও তাঁর সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি আজও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। রবার্ট গ্লাসপারের কথায় যেন আবারও প্রমাণিত হয়, একজন মহান শিল্পীর প্রকৃত উত্তরাধিকার তাঁর পুরস্কার, বিক্রির সংখ্যা বা খ্যাতি নয়। তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হলো সেই সাহস, যা পরবর্তী প্রজন্মকে নতুন পথ খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করে। আর মাইলস ডেভিসের ভল্টে দাঁড়িয়ে গ্লাসপার যেন সেই সাহসেরই স্পন্দন অনুভব করেছিলেন—যা তাঁকে নিজের শিল্পীজীবনকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles