Home সংস্কৃতি ও বিনোদন ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ তারকার মেলা, কৌতুকের খরা—শেষ ভরসা সিজিআই গরিলা!

‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ তারকার মেলা, কৌতুকের খরা—শেষ ভরসা সিজিআই গরিলা!

Authored By Shibangi Bose
13 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • অসংখ্য তারকা নিয়ে তৈরি ছবিও বাঁচাতে পারেনি দুর্বল চিত্রনাট্য।
  • আত্মবিদ্রূপ ও বলিউড-ব্যঙ্গের কয়েকটি মুহূর্ত ছাড়া হাসির জোর প্রায় নেই।
  • পুরনো ধাঁচের কৌতুক, নারী-চরিত্রের উপস্থাপনা ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত নিয়ে প্রশ্ন।
  • সমালোচকের রায়: ৫-এর মধ্যে ২ তারা।

ক্রেডিট তালিকা পড়া শেষ করেছেন? এবার ছবির কথায় আসা যাক। প্রথম দৃশ্য থেকেই নির্মাতাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট। আগের ‘ওয়েলকাম’ ছবিগুলোকেও ম্লান করে দেওয়ার মতো বিশাল তারকাবাহিনী, নেতৃত্বে কৌতুকের ধারায় ফিরে আসা অক্ষয় কুমার, এমন একটি গল্প যেখানে যা খুশি তাই ঘটতে পারে, দু-একজন নায়িকা যাঁদের কাজ মূলত সৌন্দর্য প্রদর্শন ও অবাক হওয়া, আর সবশেষে দর্শককে চমকে দিতে একটি সিজিআই গরিলা।

এর বাইরে বলার মতো গল্প প্রায় নেই। এক ধনী ব্যক্তি কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছে করেই একটি ব্যর্থ ছবি বানাতে চান। সেই সূত্রে একদল মানুষ জঙ্গলে গিয়ে পড়ে, যেখানে সিনেমার খলনায়কই বাস্তবের অপরাধীতে পরিণত হয়। এরপর শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। সমস্যা হল, এমন নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ কৌতুকনির্ভর ছবিকে সফল করতে হলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উন্মত্ত গতিতে হাসি ধরে রাখতে হয়। একসময় যেমন পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান করতেন। কিন্তু ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ বারবার থেমে যায়, দর্শককে ভাবার সময় দেয়—আর সেখানেই ছবির ছন্দ ভেঙে পড়ে।

ছবির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তার চিত্রনাট্য। এটি যথেষ্ট আত্মসচেতন বা বুদ্ধিদীপ্ত নয়। কেবল বলিউডকে ব্যঙ্গ করার কয়েকটি দৃশ্যে ছবি প্রাণ ফিরে পায়। সেখানে অক্ষয় কুমারের দীর্ঘ ব্যর্থতার পর আবার কৌতুকে প্রত্যাবর্তন, হিসাব গোপন করতে মরিয়া প্রযোজক, কিংবা তারকাদের বিলাসবহুল ভ্যানিটির প্রতি আসক্তি—এসব নিয়ে মজার খোঁচা রয়েছে। পুরনো জনপ্রিয় ছবির ভক্তদের জন্যও রয়েছে নানা চমক। সুনীল শেঠিপরেশ রাওয়াল-সহ ‘হেরা ফেরি’-র পরিচিত মুখ, রবীনা ট্যান্ডন-এর উপস্থিতি, জ্যাকি শ্রফ-এর খলচরিত্র—সবই অতীতের স্মৃতি উসকে দেয়। কোথাও ‘শোলে’, কোথাও ‘করণ অর্জুন’, আবার কোথাও সাম্প্রতিক বলিউড চরিত্রের অনুকরণ—এমন বহু ইঙ্গিত ছড়িয়ে রয়েছে।

তবে সচেতন দর্শক সহজেই বুঝবেন, ছবিটি অনেকটাই ২০০৮ সালের হলিউড ছবি Tropic Thunder-এর ভারতীয় রূপান্তরের মতো। সেখানে যেমন যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও তারকাপূজাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছিল, এখানেও বলিউডের তারকা সংস্কৃতি নিয়ে একই ধরনের প্রচেষ্টা দেখা যায়। কিন্তু ব্যঙ্গের ধার খুবই ভোঁতা। বলিউডের স্পর্শকাতর অহমকে আঘাত করার সাহস ছবি দেখাতে পারেনি। এর বদলে প্রতিবন্ধকতাকে হাসির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফরিদা জলাল-এর তোতলামিকে কৌতুক বানানো হয়েছে, যা অস্বস্তিকর। বিশাল অভিনেতা-সমাবেশের মধ্যেও আরশাদ ওয়ার্সি-র মতো দক্ষ শিল্পীরাও করার মতো তেমন কিছু পাননি। নারী চরিত্রদের পরিচয় করানোর সময় ক্যামেরার দৃষ্টিভঙ্গিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে আচমকাই দেশপ্রেমের সুর প্রবল হয়ে ওঠে। সন্ত্রাসবাদবিরোধী বার্তা, সীমান্ত-রাজনীতি, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এক কন্যাশিশুর কাহিনি—এসব যোগ করে ছবি অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক রং পায়। এমনকি উচ্চমানের উর্দু ভাষাকেও হাস্যরসের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সমালোচকের কাছে মোটেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। শেষে পর্দায় এক অজ্ঞাত সমালোচকের দেওয়া এক-তারকা রেটিং দেখিয়ে ছবিটিকে সুপারহিট ঘোষণা করা হয়। সেটি আত্মবিদ্রূপ, নাকি দর্শকের সঙ্গে রসিকতা—তা বোঝা কঠিন। কিন্তু পুরনো ধাঁচের থাপ্পড়, থুতু কিংবা শরীরকেন্দ্রিক হাস্যরস এখন আর নতুন কিছু নয়।

মাঝে মাঝে মাথা খাটাতে হয় না—এমন বিনোদনেরও প্রয়োজন আছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে দর্শককে বিরক্ত করা যাবে। ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সেই সীমারেখাই অতিক্রম করেছে।

রেটিং: ★★☆☆☆ (৫-এর মধ্যে ২ তারা)

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles