হাইলাইটস
- ইরানের অভিযোগের পর ভ্রমণ-নিয়মে আংশিক শিথিলতা আনল মার্কিন প্রশাসন।
- এবার মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচের দু’দিন আগে সিয়াটলে পৌঁছতে পারবে ইরান দল।
- আগের দুই ম্যাচে খেলার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
- কোচ আমির ঘালেনোয়ি ইরানকে বিশ্বকাপের “সবচেয়ে নিপীড়িত” দল বলে মন্তব্য করেছিলেন।
- অধিনায়ক মেহদি তারেমি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিকে “বিপর্যয়” বলে বর্ণনা করেন।
- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে দলের যাতায়াত ব্যবস্থায়।
বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরান জাতীয় ফুটবল দলের ওপর আরোপিত কড়াকড়ি নিয়ে বিতর্কের জেরে কিছুটা নরম অবস্থান নিল যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর (DHS)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ইরান দলকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
ইরান দল এতদিন অভিযোগ করে আসছিল যে বিশ্বকাপ আয়োজকদের আরোপিত বিধিনিষেধ তাদের প্রস্তুতি ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দলটি বিশ্ব ফুটবল সংস্থা FIFA-র কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোরও পরিকল্পনা করেছিল।
বর্তমানে ইরান দল মেক্সিকোতে অনুশীলন করছে। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচের ক্ষেত্রে তাদের ম্যাচের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই আবার মেক্সিকোয় ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
মঙ্গলবার DHS জানিয়েছে, ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ইরান দল ম্যাচের দু’দিন পূর্বেই শহরে পৌঁছতে পারবে। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার দিন সন্ধ্যাতেই তাদের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে।
DHS-এর এক মুখপাত্র বলেন, “প্রেসিডেন্ট চান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকুক মাঠের খেলা। সেই সঙ্গে স্টেডিয়াম, বেস ক্যাম্প এবং অনুশীলন কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ইরানের কড়া ভ্রমণসূচি দলটিকে প্রতিযোগিতামূলক দিক থেকে অসুবিধায় ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ যাতায়াতের কারণে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের সময় কমে যাচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ ‘জি’-র প্রথম ম্যাচের পর ইরানের প্রধান কোচ Amir Ghalenoei ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আমরাই এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিপীড়িত দল।” একই সুরে দলের অধিনায়ক Mehdi Taremi সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহকে “একটি দুর্যোগ” বলে উল্লেখ করেছিলেন।
দুটি ম্যাচেই ড্র করা ইরান এখন নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে রয়েছে। মিশরকে হারাতে পারলে তাদের পরের রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত হবে। এমনকি ড্র করলেও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকতে পারে।
এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান ঘটাতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপে ইরান দলের অংশগ্রহণ এবং তাদের ওপর আরোপিত বিশেষ বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।