হাইলাইটস
- পেশাদার কর (Professional Tax) ছাড়ের সীমা মাসিক ১০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে।
- মাসে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়কারী কর্মী ও ক্ষুদ্র উপার্জনকারীরা এই করের আওতার বাইরে থাকবেন।
- নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের হাতে বেশি অর্থ রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
- অসংগঠিত ক্ষেত্র, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কম বেতনের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
রাজ্য বাজেটে সাধারণ চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। পেশাদার কর বা প্রফেশনাল ট্যাক্সের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা দ্বিগুণ করে মাসিক ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে যাঁদের মাসিক আয় ২০ হাজার টাকা বা তার কম, তাঁদের আর এই কর দিতে হবে না।
এতদিন পর্যন্ত মাসিক ১০,০০০ টাকার বেশি আয় হলেই পেশাদার করের আওতায় আসতে হতো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই সীমা বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করায় বিপুল সংখ্যক কর্মচারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্বনিযুক্ত ব্যক্তি এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা সরাসরি সুবিধা পাবেন।সরকারের বক্তব্য, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কমানো জরুরি হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কর্মজীবী মানুষের হাতে প্রতি মাসে কিছুটা হলেও অতিরিক্ত অর্থ থাকবে, যা তাঁদের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সাহায্য করবে।অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই ধরনের কর ছাড় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। যখন মানুষের হাতে বেশি অর্থ থাকে, তখন বাজারে খরচও বাড়ে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে খুচরো ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর।বিশেষ করে ছোট দোকানদার, টিউটর, স্বনিযুক্ত কর্মী, ক্ষুদ্র পরিষেবা প্রদানকারী এবং কম বেতনের কর্মচারীরা এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি লাভবান হবেন। বহু ক্ষেত্রে পেশাদার করের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সেটিও একটি অতিরিক্ত বোঝা ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই চাপ অনেকটাই কমবে।রাজ্য সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ সামাজিক সুরক্ষা ও কর কাঠামোকে আরও জনমুখী করার প্রচেষ্টার অংশ। একদিকে যেমন রাজস্ব সংগ্রহের ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।সব মিলিয়ে, পেশাদার করের করমুক্ত সীমা মাসিক ২০ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্তকে বাজেটের অন্যতম জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবেন এবং তাঁদের হাতে বাড়তি অর্থ থাকার সুযোগ তৈরি হবে।