হাইলাইটস
- ওডিশার রায়গড়া জেলায় ছেলেধরা সন্দেহে এক তরুণী ও তাঁর সহকর্মীর উপর হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা।
- আক্রান্ত তরুণী দিল্লির বাসিন্দা এবং একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছিলেন।
- গুগল ম্যাপ দেখে পথ খুঁজতে গিয়ে তাঁরা স্থানীয়দের সন্দেহের মুখে পড়েন।
- গুজব ছড়িয়ে পড়তেই জনতা তাঁদের ধাওয়া করে, স্কুটার দুর্ঘটনার পর শুরু হয় মারধর।
- ঘটনায় অন্তত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে কয়েকজন নাবালকও রয়েছে।
ওডিশার রায়গড়া জেলায় এক ভয়াবহ গণপিটুনির ঘটনা ফের সামনে এনে দিল গুজব ও জনতার উন্মত্ততার বিপজ্জনক দিক। একটি স্বনামধন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে কাজ করা ২২ বছরের এক তরুণী ইন্টার্ন এবং তাঁর সহকর্মীকে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে স্থানীয় জনতা নির্মমভাবে মারধর করে। অভিযোগ, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজবের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গত ১৬ জুনের এই ঘটনায় আক্রান্ত তরুণী, যিনি দিল্লির বাসিন্দা, এবং তাঁর সহকর্মী, যিনি গুজরাটের সুরত থেকে এসেছিলেন, একটি ফেলোশিপ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই এলাকায় কাজ করছিলেন। স্থানীয় ভূগোল সম্পর্কে অপরিচিত হওয়ায় তাঁরা স্কুটারে করে গুগল ম্যাপের সাহায্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি এলাকায় শিশু অপহরণকারীদের নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই আতঙ্কের পরিবেশেই কিছু গ্রামবাসী ওই দুই ইন্টার্নকে সন্দেহ করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে গুজব দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একটি বড় দল তাঁদের ধাওয়া করে।
প্রাণভয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁদের স্কুটার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এরপরই শুরু হয় গণহিংসা। তরুণী অভিযোগ করেছেন, তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং দু’জনকেই মারধর করা হয়। ঘটনার অভিঘাতে তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে। তদন্ত শুরু করে পুলিশ ইতিমধ্যেই অন্তত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন নাবালকও রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং গ্রামীণ এলাকায় গুজব, ভুয়ো তথ্য এবং সামাজিক আতঙ্ক কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে সহিংসতার রূপ নিতে পারে, তার উদ্বেগজনক উদাহরণ। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘ছেলেধরা’ গুজবকে কেন্দ্র করে একাধিক গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরে দেখা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগের ভিত্তি ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে ভুয়ো খবর ও গুজবের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দ্রুত তথ্যপ্রচার এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। না হলে নিরীহ মানুষকে সন্দেহের বশে টার্গেট করার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
রায়গড়ার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, গুজবের চেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র খুব কমই আছে। আর যখন সেই গুজব জনতার হাতে পৌঁছে যায়, তখন তার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।