হাইলাইটস
- যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের ইজরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষ শুরু।
- দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত, এক ডজনের বেশি আহত।
- ইজরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ ৫০টিরও বেশি রকেট ও প্রজেক্টাইল ছুড়েছে।
- হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে নতুন ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা মেনে নেবে না।
- লেবাননের সেনাবাহিনীর এক সদস্য ইজরায়েলি হামলায় নিহত।
- পরিস্থিতির জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত।
বাংলাস্ফিয়ার: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার যে নতুন উদ্যোগ শুক্রবার নেওয়া হয়েছিল, তা কার্যত এক দিনের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে। শনিবার দক্ষিণ লেবাননে ফের ব্যাপক ইজরায়েলি বিমান ও গোলাবর্ষণ এবং তার পাল্টা হিসেবে হিজবুল্লাহর হামলায় অঞ্চলটি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইজরায়েলি হামলায় অন্তত সাত জন নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হন। দক্ষিণ লেবাননের একাধিক শহর ও গ্রামে বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহ রাতভর দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইজরায়েলি বাহিনীর দিকে ৫০টিরও বেশি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করে। এর জবাব হিসেবেই তারা হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা নাবাতিয়েহ শহরের উপরে অবস্থিত কৌশলগত পাহাড়ি অঞ্চল আলি আল-তাহেরের দিকে অগ্রসর হওয়া ইজরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে এই এলাকাটি সংঘর্ষের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি “প্রতিশ্রুতিবদ্ধ” থাকলেও ইজরায়েল যদি নতুন ভূখণ্ড দখল বা দখলদারি বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে তা সহ্য করা হবে না।
ইজরায়েল অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত “নিরাপত্তা অঞ্চল”-এ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। মার্চ মাস থেকে ইজরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভেতরে ছয় মাইলেরও বেশি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
ফলে বর্তমান পরিস্থিতি প্রকৃত যুদ্ধবিরতির চেয়ে বরং পুরনো “হামলার বদলে হামলা” নীতির প্রত্যাবর্তন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দুই পক্ষই নিজেদের হামলাকে বৈধ বলে দাবি করায় যে কোনও ছোট সংঘর্ষ বড় আকারের যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
এই অচলাবস্থার আন্তর্জাতিক প্রভাবও গভীর। লেবাননে সংঘর্ষ বন্ধ রাখা আমেরিকা-ইরান সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনী ঘোষণা করে যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তেহরানের দাবি, ইজরায়েলের অব্যাহত হামলাই এই সিদ্ধান্তের কারণ।
অর্থাৎ লেবাননের পরিস্থিতি এখন শুধু স্থানীয় সংঘর্ষের প্রশ্ন নয়; এটি আমেরিকা, ইরান, ইজরায়েল এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শনিবার নিহতদের মধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনীর এক সদস্যও রয়েছেন। লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেছে, দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার যে কোনও প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে ইজরায়েল।
এই ভাষা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মার্কিন সমর্থিত লেবাননের সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ইজরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষের পক্ষ নয়। তবু গত কয়েক মাসে বহুবার ইজরায়েলি হামলার মধ্যে পড়ে তাদের সদস্যরা নিহত হয়েছেন।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওই ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কার্যত ভেঙে পড়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—লেবাননের এই নতুন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ কি আবারও বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘর্ষের আগুন জ্বালিয়ে দেবে, নাকি কূটনীতি শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে? বর্তমানে সেই উত্তর কারও কাছেই স্পষ্ট নয়।