Home খবর টেলিগ্রাম নিষিদ্ধে ক্ষোভ ডুরভের, নিট প্রশ্নফাঁস রুখতে ‘ভুল পথ’ বললেন প্রতিষ্ঠাতা

টেলিগ্রাম নিষিদ্ধে ক্ষোভ ডুরভের, নিট প্রশ্নফাঁস রুখতে ‘ভুল পথ’ বললেন প্রতিষ্ঠাতা

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
8 views 2 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: ভারতে রি-নিট (Re-NEET)-এর আগে টেলিগ্রাম অ্যাপ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হলেন টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল ডুরভ। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে তিনি বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে নয়, বরং কোটি কোটি সাধারণ ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে গিয়েছে। ডুরভের দাবি, প্রশ্নফাঁসের মূল উৎস ছিল অভ্যন্তরীণ ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্র, কোনও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম নয়।

ডুরভের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এক সপ্তাহের জন্য টেলিগ্রাম বন্ধ রাখে এই অভিযোগে যে কিছু ব্যবহারকারী নিট-ইউজি পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র অ্যাপটির মাধ্যমে ছড়িয়েছিল। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, কয়েকজন অপরাধীর কর্মকাণ্ডের জন্য কেন ১৫ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীকে ভুগতে হবে?

এক্সে করা পোস্টে ডুরভ লেখেন, “ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক টেলিগ্রামকে এক সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করেছে কারণ কিছু ব্যবহারকারী পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র শেয়ার করেছিলেন। এতে ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ ব্যবহারকারী শাস্তি পেলেন, কিন্তু প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নয়।”

প্ল্যাটফর্ম নয়, মূল উৎস খোঁজার দাবি

ডুরভের এই মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, কোনও প্ল্যাটফর্মকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই বেশি কার্যকর হতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশেরও মত, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম সাধারণত একটি মাধ্যম মাত্র। যদি প্রশ্নপত্র আগে থেকেই বাইরে চলে আসে, তাহলে তার মূল উৎস খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনও প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দিলেও সেই তথ্য অন্য অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ডুরভও কার্যত সেই যুক্তিই তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, টেলিগ্রাম বন্ধ করার ফলে ফাঁস হওয়া তথ্য অন্য প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে, কিন্তু সমস্যার মূল কারণ অমীমাংসিতই থেকে গেছে। অর্থাৎ, প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে যারা ছিল, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে কেবল যোগাযোগের মাধ্যমকে দোষারোপ করা হয়েছে।

সরকারের অবস্থান

অন্যদিকে সরকারের অবস্থান হল, নিট-ইউজি-এর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সর্বভারতীয় পরীক্ষার সততা বজায় রাখা জরুরি। লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ এই পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সামান্য আশঙ্কাও প্রশাসনের কাছে গুরুতর বিষয়। সেই কারণেই জরুরি ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি মহলের দাবি।

ভারতে নিট-ইউজি পরীক্ষা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বারবার বিতর্কের মুখে পড়েছে। প্রশ্নফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষার্থী, মূল্যায়ন সংক্রান্ত অভিযোগ এবং পরীক্ষার নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এর ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার পরীক্ষা চলাকালীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নজরদারি বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে।

ডিজিটাল স্বাধীনতার প্রশ্ন

তবে নাগরিক অধিকারকর্মী এবং ডিজিটাল স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীরা মনে করেন, কোনও অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মকে সামগ্রিকভাবে নিষিদ্ধ করা একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে। তাঁদের মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ, ব্যবসা, শিক্ষা এবং তথ্য আদান-প্রদানের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিতর্ক ডিজিটাল অধিকার, তথ্যপ্রযুক্তি নীতি ও সাইবার নিরাপত্তা মহলেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

টেলিগ্রাম বর্তমানে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সংবাদকর্মী থেকে শুরু করে অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই অ্যাপ ব্যবহার করেন। ফলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

ডুরভের মন্তব্য নতুন করে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে — ডিজিটাল যুগে অপরাধ দমনের জন্য কি পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া উচিত, নাকি প্রযুক্তির সাহায্যে নির্দিষ্ট অপরাধীদের চিহ্নিত করাই বেশি কার্যকর পথ? নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের মধ্যেই সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ভারত।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles