হাইলাইটস
- মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় অস্থিরতার ইঙ্গিত।
- উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)-র ৯ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৪ জন দিল্লিতে পৌঁছেছেন।
- দাবি, তাঁরা একনাথ শিন্ডে শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
- পরিস্থিতি সামাল দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন অরবিন্দ সাওয়ান্ত।
- শিন্ডে গোষ্ঠীর দাবি, শেষ পর্যন্ত ৭ জন সাংসদও দল ছাড়তে পারেন।
- শিন্ডের বিদ্রোহের চার বছর পূর্তির ঠিক আগে নতুন রাজনৈতিক সংকটে উদ্ধব শিবির।
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও বড় ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে শিবসেনার ঐতিহাসিক বিভাজনের চার বছর পূর্তির আগেই এবার উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)-র সংসদীয় দলে ফাটলের জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের একাধিক সাংসদ দিল্লিতে পৌঁছনোর পর রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, তাঁরা কি শিন্ডে শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন?
সূত্রের খবর, শিবসেনা (ইউবিটি)-র মোট ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে অন্তত ৪ জন ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গিয়েছেন। একই সময়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ও শিবসেনা নেতা Eknath Shinde-ও গভীর রাতে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন। ফলে রাজনৈতিক জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
শিন্ডে শিবিরের নেতাদের দাবি, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাঁদের বক্তব্য, শেষ পর্যন্ত ইউবিটির ৯ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জনই উদ্ধব ঠাকরের দল ছেড়ে শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে উদ্ধবের পাশে কেবল দু’জন সাংসদ— Arvind Sawant এবং Anil Desai— থেকে যেতে পারেন।
এই সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছে উদ্ধব শিবির। দলের প্রবীণ সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত লোকসভার স্পিকার Om Birla-কে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন, কোনও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে যেন শিবসেনা (ইউবিটি)-র সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। তিনি স্পিকারকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, দলবিরোধী কার্যকলাপের মাধ্যমে যদি কোনও সাংসদ আলাদা গোষ্ঠী তৈরির চেষ্টা করেন, তবে তা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু সাংসদ সংখ্যার প্রশ্ন নয়, বরং উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্যও বড় পরীক্ষা। ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহের ফলে শিবসেনা কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। পরে নির্বাচন কমিশন শিন্ডে গোষ্ঠীকেই ‘আসল’ শিবসেনা এবং দলের ঐতিহ্যবাহী ‘ধনুক-তীর’ প্রতীক ব্যবহারের অধিকার দেয়। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার লোকসভায় দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দিল্লিতে পৌঁছনো সাংসদরা বুধবার সকালে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা একটি চিঠি জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কেউ দলত্যাগের কথা ঘোষণা করেননি, তবু তাঁদের দিল্লি সফর এবং শিন্ডের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিন্ডে জোট ক্ষমতায় থাকার ফলে বহু সাংসদ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন। রাজ্যে আগামী দিনে স্থানীয় সংস্থা নির্বাচন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার প্রবণতাও এই সম্ভাব্য ভাঙনের পিছনে কাজ করতে পারে।
অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরের অনুগামীরা দাবি করছেন, দলকে দুর্বল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই জল্পনা ছড়ানো হচ্ছে। তাঁদের মতে, অধিকাংশ সাংসদ এখনও উদ্ধবের নেতৃত্বের প্রতিই অনুগত এবং শেষ পর্যন্ত বড় কোনও ভাঙন ঘটবে না।
তবে বাস্তবতা হল, শিন্ডের বিদ্রোহের চার বছর পূর্তির প্রাক্কালে শিবসেনার ইতিহাস যেন আবারও নিজেকে পুনরাবৃত্তি করার পথে। যদি সত্যিই একাধিক সাংসদ দলবদল করেন, তাহলে তা শুধু উদ্ধব ঠাকরের জন্য নয়, মহারাষ্ট্রের বিরোধী রাজনীতির জন্যও বড় ধাক্কা হয়ে উঠবে। আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই স্পষ্ট করবে, এটি নিছক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি শিবসেনা (ইউবিটি)-র ভিত আরও একবার কেঁপে ওঠার সূচনা।