স্কুল জীবনের বন্ধুত্বকে আমরা সাধারণত চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব হিসেবেই জানি। যেখানে উঁচু নিচু ভেদাভেদ থাকে না, বন্ধুত্বকে ছাপিয়েও আত্মীয়তা হয়ে ওঠে যে সম্পর্ক। কিন্তু, ক্ষমতা এবং অর্থের দম্ভ যে সহপাঠীকে পর্যন্ত বাধ্য করে স্যর সম্বোধনে তার নজির বোধহয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খবর প্রকাশ্যে না আসলে জানাই হত না। দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত একই স্কুলে একই সঙ্গে পড়াশুনো করেন সুমিত – অভিষেক। এরপর অভিষেক দিল্লি চলে যান এমবিএ করতে, অন্যদিকে আর্থিক সংগতি কম হওয়ায় সুমিত বাধ্য হন কলকাতার কলেজ থেকেই এমবিএ করতে। এরপর তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর, বিশেষত, দলে অভিষেকের প্রভাব বিস্তারের সময় থেকেই অভিষেক এবং তাঁর সমস্ত নৈতিক বা অনৈতিক কাজকর্মের দেখভাল করতেন এই সুমিত। এবং সেই সূত্রে একদা স্কুলের সহপাঠীকে স্যর বলেই ডাকতে হত সুমিত কে।
সেই সুমিত রায়, যার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে প্রতারণা ও জমি দুর্নীতি মামলার অভিযোগে। শালবনি থানাতে সুমিতের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি ও জমি প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করা হয়।সূত্রের খবর সুমিতের শেষ টাওয়ার লোকেশন দেখা যায় অভিষেকের কালীঘাট পটুয়াপাড়ার বাড়িতেই। তার পরেই শনিবার রাত তিনটে নাগাদ অভিষেকের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। বারবার ডাকাডাকি করে সাড়া না পাওয়া গেলে অবশেষে দরজার বাইরের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পায়নি সুমিত কে। এরপর সকাল আটটা নাগাদ অভিষেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় পুলিশ। এমনকি সুমিতের নিজের বাড়ি বা শ্বশুড়বাড়িতেও খোঁজ না মেলাতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হল সুমিতের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে রবিবার সাড়ে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সিআইডি জেলার মুখোমুখি হয়েছেন অভিষেক। জানা গিয়েছে দলের বিধায়ক কুনাল ঘোষ এবং অভিষেককে মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হয়। আবার সোমবারে অভিষেককে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তলব করা হয়েছে, সেখানেও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এর জেরার মুখে পড়তে হয়েছে অভিষেককে।
