পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে ফের হামলার শিকার হল একটি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ। বৃহস্পতিবার ওমানের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় ‘এমটি জালবীর’ (MT Jalveer) নামে একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর সামনে এসেছে। জাহাজটিতে অন্তত ২০ জন ভারতীয় নাবিক ও কর্মী রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ওমানের শিনাস বন্দরের কাছাকাছি এলাকায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে জাহাজ থেকে ঘন ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছে, যা হামলার জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই ওমান প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, শিনাস বন্দরের নিকটে একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে একটি ঘটনার খবর তাদের কাছে পৌঁছেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক সূত্রের দাবি, জাহাজটিতে আগুন লেগে ইঞ্জিন রুম ও ফানেল অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বিস্ফোরণ বা হামলার প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও সরকারি স্তরে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে যেসব রুট দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল ও পণ্য পরিবহণ হয়।
এর আগেও ওই অঞ্চলে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘সেত্তেবেলো’ নামের একটি জাহাজে হামলার ঘটনায় ২১ জন ভারতীয় কর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই ভারত সরকার সমুদ্রপথে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।
‘এমটি জালবীর’-এর ঘটনাকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, হামলার নেপথ্যে কারা এবং এর প্রভাব আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের ওপর কতটা পড়তে পারে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
9