বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনার জেরে তীব্র অশান্তি

যা জানা জরুরি
- অভিবাসন-বিরোধী বিক্ষোভ রূপ নিল সহিংসতায়, আগুনে পুড়ল বাড়ি-গাড়ি হাইলাইটস উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর ব্যাপক সহিংসতা ছড়ায়।
- এক সুদানি আশ্রয়প্রার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা বাস, গাড়ি ও বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
অভিবাসন-বিরোধী বিক্ষোভ রূপ নিল সহিংসতায়, আগুনে পুড়ল বাড়ি-গাড়ি
হাইলাইটস
- উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর ব্যাপক সহিংসতা ছড়ায়।
- এক সুদানি আশ্রয়প্রার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা বাস, গাড়ি ও বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
- রাজনৈতিক নেতারা পরিস্থিতির জন্য উগ্র ডানপন্থী উসকানিদাতাদের দায়ী করেছেন।
- স্থানীয় অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক নৃশংস ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর অভিবাসন-বিরোধী বিক্ষোভ দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। মঙ্গলবার রাতে শহরের একাধিক এলাকায় বিক্ষোভকারীরা গাড়ি, বাস ও বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, রাস্তা অবরোধ করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে উত্তর বেলফাস্টে। একটি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে এক ব্যক্তির ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন; তাঁর চোখ, মুখ ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে পুলিশ এক ৩০ বছর বয়সি সুদানি আশ্রয়প্রার্থীকে গ্রেফতার করে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনে।
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উগ্র ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন এবং একাধিক অভিবাসন-বিরোধী প্রচারক প্রতিবাদের ডাক দেন। বিশ্বের ধনী ব্যবসায়ীদের অন্যতম Elon Musk-ও সামাজিক মাধ্যমে বিক্ষোভের সমর্থনে মন্তব্য করেন, যা বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।
মঙ্গলবার রাতে বেলফাস্টের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মানুষ রাস্তায় নামে। অনেকের মুখ ঢাকা ছিল বালাক্লাভা বা মুখোশে। পূর্ব বেলফাস্টে একটি ‘গ্লাইডার’ বাস ছিনতাই করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শ্যাঙ্কিল রোড ও নিউটাউনঅ্যাবি এলাকায় একাধিক গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। কিছু জায়গায় দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। একটি আফ্রিকান মালিকানাধীন দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে শ্যাঙ্কিল রোড এলাকায়, যেখানে একদল বিক্ষোভকারী সংখ্যালঘু জাতিগত পটভূমির একটি পরিবারের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করে। এর ফলে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার Michelle O’Neill এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “মুখোশধারী লোকেরা পরিবারের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে—এটি কাপুরুষোচিত ও ঘৃণ্য কাজ। এর সঙ্গে সম্প্রদায়ের স্বার্থের কোনও সম্পর্ক নেই।”
উত্তর বেলফাস্টের সাংসদ John Finucane ঘটনাকে “লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে বিচারমন্ত্রী Naomi Long বলেন, বিক্ষোভকারীরা আসলে সেই সম্প্রদায়গুলোকেই ধ্বংস করছে, যাদের রক্ষার দাবি তারা করছে।
পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা Jon Boutcher জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি পেয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে কোনও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তথ্য ছিল না। তিনি সাধারণ মানুষকে সামাজিক মাধ্যমের উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সুদানি ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই দোকান বন্ধ করে দেন। Belfast Islamic Centre নিরাপত্তার কারণে সন্ধ্যার নামাজও বাতিল করে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer হামলাকে “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিবাসন-বিরোধী ক্ষোভকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলি। ফলে বেলফাস্টের অশান্তি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং সামাজিক বিভাজন ও অভিবাসন-রাজনীতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনারও প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



