Table of Contents
একজন মানুষ নানা কারণে—আইন এড়াতে, যুদ্ধ থেকে বাঁচতে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য, গার্হস্থ্য নির্যাতন থেকে পালিয়ে, বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে—লুকিয়ে থাকতে পারে। তবে “কীভাবে লুকিয়ে থাকা যায়” সে বিষয়ে ব্যবহারিক নির্দেশনা দেওয়া নিরাপদ নয়। তার বদলে বিষয়টিকে ধারণাগতভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।
সাধারণভাবে একজন মানুষ কয়েকটি উপায়ে সমাজের চোখের আড়ালে চলে যেতে পারে—
১. ভৌগোলিক লুকিয়ে থাকা
দূরবর্তী গ্রাম, পাহাড়, জঙ্গল, মরুভূমি বা কম জনবহুল এলাকায় বসবাস।
২. সামাজিক লুকিয়ে থাকা
মানুষের ভিড়ের মধ্যেই থেকে নিজেকে গুরুত্বহীন বা অদৃশ্য করে রাখা। অনেক সময় কেউ বড় শহরে বসবাস করেও নজরে পড়েন না।
৩. পরিচয় গোপন রাখা
নিজের অতীত, পেশা, পারিবারিক সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করা। (অবশ্যই আইনসঙ্গত সীমার মধ্যে।)
৪. ডিজিটাল অদৃশ্যতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন উপস্থিতি বা প্রকাশ্য ডিজিটাল কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলা।
৫. প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্ছিন্নতা
সমাজের মূলধারার প্রতিষ্ঠান—রাজনীতি, সংগঠন, ক্লাব, সামাজিক নেটওয়ার্ক—থেকে দূরে থাকা।
৬. মনস্তাত্ত্বিক লুকিয়ে থাকা
অনেক মানুষ শারীরিকভাবে সামনে থাকেন, কিন্তু নিজের চিন্তা, অনুভূতি বা প্রকৃত ব্যক্তিত্ব কাউকে প্রকাশ করেন না। এক অর্থে এটিও এক ধরনের আত্মগোপন।
৭. সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আড়ালে থাকা
ইতিহাসে দেখা গেছে, কিছু মানুষ আশ্রম, মঠ, ধর্মীয় সম্প্রদায় বা যাযাবর গোষ্ঠীর মধ্যে মিশে গিয়ে দীর্ঘদিন অদৃশ্য থেকেছেন।
৮. সাক্ষী-সুরক্ষা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা
অনেক দেশে হুমকির মুখে থাকা সাক্ষীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচি থাকে, যেখানে তাদের পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখা হয়।
মজার বিষয় হলো, সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে কঠিন হয় সবসময় জঙ্গলে নয়, বরং জনসমুদ্রের মধ্যে। কোটি মানুষের শহরে একজন সাধারণ, নজরকাড়া নয় এমন মানুষকে শনাক্ত করা প্রায়ই প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাউকে খোঁজার চেয়েও কঠিন হতে পারে।
আপনি কি এই প্রশ্নটি মনোবিজ্ঞান, গোয়েন্দাবিদ্যা, ইতিহাস, নাকি সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে জানতে চাইছেন? তাহলে সেই দিকটি নিয়ে আরও বিস্তারিত বলতে পারি।
পলাতকপুরাণ (প্রথম কিস্তি)
ক্ষমতা গেল, নেতা গেল কোথায়?
রাজনীতির ইতিহাসে অনেক আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে। সাম্রাজ্য উঠেছে, সাম্রাজ্য পড়েছে। রাজা পালিয়েছে, সেনাপতি আত্মসমর্পণ করেছে। কিন্তু “ক্ষমতাচ্যুত নেতা” নামক প্রাণীটির মতো দ্রুত রূপান্তরিত জীববৈজ্ঞানিক বিস্ময় পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি আছে বলে বিজ্ঞান এখনও প্রমাণ করতে পারেনি।
মাত্র কয়েক মাস আগেও যাঁদের দেখে থানার ওসি সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, বিডিও ঘাম মুছতেন, ঠিকাদার কাঁপতেন, পাড়ার মানুষ রাস্তার ধারে সরে যেতেন, তাঁদের অনেককেই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ যেন এক রহস্য।
কোথায় গেলেন তাঁরা?
কেউ বলছেন, তাঁরা “জনসংযোগে” বেরিয়েছেন।
কেউ বলছেন, তাঁরা “আত্মসমীক্ষা” করছেন।
কেউ বলছেন, তাঁরা “দলের পুনর্গঠন” নিয়ে ব্যস্ত।
কিন্তু জনগণ নিষ্ঠুর। জনগণ প্রশ্ন করে। জনগণ দেখতে পাচ্ছে, জনসংযোগের সেই মহান কর্মসূচি প্রধানত বাড়ির পিছনের দরজা, আত্মীয়ের ফ্ল্যাট, শ্যালকের গ্যারাজ, বন্ধুর রিসর্ট এবং উকিলের চেম্বারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।
একসময় যাঁরা প্রতিদিন দশটি মাইক আর কুড়িটি ব্যানারের মধ্যে ঘুমোতেন, আজ তাঁরা মোবাইল ফোনের রিংটোন শুনলেই চমকে উঠছেন।
কার ফোন?
সাংবাদিক?
পুলিশ?
নাকি আরও ভয়ঙ্কর—নিজের দলেরই কেউ?
রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, বিরোধী দল যতটা বিপজ্জনক, ক্ষমতা হারানোর পর নিজের দলের মানুষ তার চেয়েও বিপজ্জনক।
কারণ বিরোধী দল অন্তত প্রকাশ্যে আক্রমণ করে। নিজের দলের লোক হাসিমুখে চা খাওয়ায়, তারপর প্রয়োজনমতো সাক্ষী হয়ে যায়।
ফলে রাজ্যের নানা প্রান্তে আজ এক নতুন শিল্পের জন্ম হয়েছে—আত্মগোপন শিল্প।
এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিদ্যা।
সাধারণ মানুষ আত্মগোপন করতে পারে না।
সাধারণ মানুষ অফিসে যায়, বাজারে যায়, বাস ধরে, ট্রেনে ওঠে। তাকে খুঁজে পাওয়া খুব সহজ।
কিন্তু অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মী জানেন, কীভাবে একই সঙ্গে চার জায়গায় থাকার গুজব ছড়াতে হয়।
সকালে খবর বেরোবে তিনি দিল্লিতে।
দুপুরে খবর বেরোবে তিনি পুরীতে।
বিকেলে শোনা যাবে তিনি নেপালে।
আর রাতে দেখা যাবে তিনি আসলে শ্বশুরবাড়ির ছাদের ঘরে বসে টিভিতে নিজের খবরই দেখছেন।
এ এক উচ্চতর বিজ্ঞান।
এই বিজ্ঞানের প্রথম সূত্র হল—কখনও নিজের অবস্থান সম্পর্কে সত্য কথা বলা যাবে না।
“দাদা কোথায়?”
“জানি না।”
“কখন ফিরবেন?”
“বলতে পারব না।”
“ফোন ধরছেন না কেন?”
“নেটওয়ার্ক নেই।”
আজকাল আশ্চর্যজনকভাবে সবচেয়ে বেশি নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখা যাচ্ছে সেই সব মানুষের, যাঁরা একসময় দিনে তিরিশবার ফেসবুক লাইভ করতেন।
আরও মজার বিষয় হল, আত্মগোপনের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের আধ্যাত্মিক উন্নতিও ঘটেছে।
যাঁরা গত দশ বছর ধরে মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বার—কোথাও বিশেষ যাননি, তাঁরা এখন হঠাৎ অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ হয়ে উঠেছেন।
কারণ তাঁরা আবিষ্কার করেছেন, পৃথিবীতে দুটি জায়গায় সাংবাদিক সাধারণত কম যায়।
এক, গভীর জঙ্গল।
দুই, দীর্ঘ ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
ফলে নানা আশ্রমে, নানা তীর্থস্থানে, নানা ধর্মীয় শিবিরে হঠাৎ ভিড় বেড়ে গেছে।
সন্ন্যাসীরাও অবাক।
যে মানুষটি গত পনেরো বছরে ঈশ্বরের নাম নেননি, তিনি হঠাৎ সকাল-সন্ধ্যা ঘণ্টা বাজাচ্ছেন কেন?
এর উত্তর ঈশ্বরও জানেন না।
অবশ্য আত্মগোপনের সবচেয়ে বড় সংকট হল চেনা মানুষ।
কারণ পৃথিবীতে সিসিটিভির চেয়েও শক্তিশালী প্রযুক্তি হল পাড়ার কাকিমা।
তিনি সব দেখেন।
সব জানেন।
সব মনে রাখেন।
যে নেতা গত তিন মাস ধরে “বিদেশে চিকিৎসাধীন” বলে প্রচার করছেন, তাঁকে যদি একদিন বাজারে কাতলা মাছ কিনতে দেখা যায়, তবে সেই খবর পাঁচ মিনিটে গোটা জেলায় ছড়িয়ে পড়বে।
কোনও গোয়েন্দা সংস্থা এত দ্রুত কাজ করতে পারে না।
ফলে আজকাল অনেকেই নিজের বাড়ির আশেপাশেও বেরোতে সাহস পাচ্ছেন না।
একসময় যাঁরা শত শত মোটরবাইকের মিছিল নিয়ে ঘুরতেন, তাঁরা এখন সন্ধ্যার পর জানালার ফাঁক দিয়ে রাস্তা দেখেন।
কেউ আসছে না তো?
কেউ খোঁজ করছে না তো?
কেউ ছবি তুলছে না তো?
ক্ষমতা বড় বিচিত্র জিনিস।
ক্ষমতায় থাকলে মানুষ মনে করে এই অবস্থাই চিরস্থায়ী।
পুলিশ চিরকাল স্যালুট করবে।
কর্মীরা চিরকাল জয়ধ্বনি দেবে।
প্রতিপক্ষ চিরকাল ভয় পাবে।
কিন্তু ইতিহাসের নির্মম অভ্যাস হল, সে কাউকে স্থায়ী আসন দেয় না।
আজ যিনি শিকারি, কাল তিনিই শিকার।
আজ যিনি খোঁজ করছেন, কাল তাঁকেই খোঁজা হবে।
আর তখনই শুরু হয় মহান আত্মগোপনযুগ।
সেই যুগের কাহিনি এখনও শেষ হয়নি।
বরং এখন
পলাতকপুরাণ (দ্বিতীয় কিস্তি)
আত্মগোপন শিল্পের স্বর্ণযুগ: নেতা যখন ছদ্মবেশী নাগরিক
রাজ্যের রাজনৈতিক অভিধানে গত কয়েক মাসে একটি শব্দের ব্যবহার আশ্চর্যজনকভাবে বেড়ে গেছে।
শব্দটি হল—“নিরুদ্দেশ”।
এটি অবশ্য নিছক নিরুদ্দেশ নয়। বাংলা ভাষার পুরনো “নিরুদ্দেশ” শব্দের সঙ্গে আধুনিক রাজনৈতিক বাস্তবতার মিশ্রণে এক নতুন প্রজাতির জন্ম হয়েছে। এর নাম—কৌশলগত নিরুদ্দেশতা।
এই অবস্থায় ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীতেই থাকেন, খান, ঘুমোন, চা খান, মোবাইলে ক্রিকেট দেখেন, মাঝে মাঝে বিরিয়ানিও খান; কিন্তু জনসাধারণের কাছে তিনি অস্তিত্বহীন।
কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার ভাষায় বলতে গেলে, তিনি একই সঙ্গে আছেন এবং নেই।
তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না।
কেউ বলছে তিনি উত্তরবঙ্গে।
কেউ বলছে তিনি ভুবনেশ্বরে।
কেউ বলছে তিনি বিদেশে।
এবং এই সব খবরের উৎস সাধারণত সেই ব্যক্তির নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত।
কারণ আত্মগোপনের দ্বিতীয় সূত্র হল—গুজবকে কাজ করতে দাও।
একসময় রাজনৈতিক নেতাদের কাজ ছিল সংবাদ তৈরি করা।
এখন অনেকের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজের অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করা।
কোথায় আছেন?
কেন নেই?
কবে ফিরবেন?
এসব প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই।
প্রশ্ন যত বাড়বে, উত্তর তত কমবে।
এটাই আধুনিক আত্মগোপন তত্ত্ব।
তবে এই তত্ত্বের সবচেয়ে মজার দিক হল, যারা একসময় জনগণের সামনে না এসে থাকতে পারতেন না, তাঁরাই এখন জনগণকে এড়িয়ে চলছেন।
কখনও তাঁদের জন্মদিনে পঞ্চাশ ফুটের কাট-আউট উঠত।
এখন তাঁরা নিজের ছবিই দেখতে ভয় পান।
কখনও তাঁরা সাংবাদিকদের ডেকে ডেকে বক্তব্য দিতেন।
এখন সাংবাদিকের ফোন এলে মোবাইলের দিকে এমনভাবে তাকান যেন ওটা কোনও বিস্ফোরক যন্ত্র।
ফোন বেজে উঠল।
সবাই চুপ।
ঘরের মধ্যে চাপা উত্তেজনা।
কে ফোন করেছে?
একজন সাহস করে স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
তারপর স্বস্তির নিঃশ্বাস।
“উফ! সাংবাদিক নয়। ব্যাংকের লোন অফার।”
ঘরে আবার প্রাণ ফিরল।
রাজনৈতিক বিজ্ঞানীরা হয়তো একদিন এই সময়টাকে বিশেষভাবে অধ্যয়ন করবেন।
কারণ ক্ষমতা হারানোর পর মানুষের আচরণে যে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে, তা প্রায় বিবর্তনের গতিকেও হার মানায়।
একসময় যাঁদের চলাফেরা ছিল মন্ত্রিসভার বৈঠকের মতো জাঁকজমকপূর্ণ, তাঁরা এখন বিড়ালের মতো নিঃশব্দে যাতায়াত করেন।
কেউ রাতের অন্ধকারে বেরোন।
কেউ গাড়ি বদলান।
কেউ রুট বদলান।
কেউ আত্মীয় বদলান।
কেউ আবার এত বেশি জায়গায় লুকোন যে শেষ পর্যন্ত নিজেই ভুলে যান কোথায় আছেন।
এই অবস্থায় পারিবারিক জীবনেও নানা সমস্যা দেখা দেয়।
অনেক বাড়িতেই এখন এক অদ্ভুত সংলাপ শোনা যায়।
“দাদা বাড়িতে আছেন?”
“না।”
“কখন ফিরবেন?”
“জানি না।”
“কাল ছিলেন?”
“মনে নেই।”
“আপনি কি নিশ্চিত উনি এখানে থাকেন?”
“এই প্রশ্নের উত্তর আমি আমার উকিলের সঙ্গে আলোচনা করে দেব।”
আত্মগোপন দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবারের সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ নিতে হয়।
কারণ হঠাৎ কোনও প্রতিবেশী, সাংবাদিক বা তদন্তকারী এসে পড়তে পারেন।
তখন মুখের ভাব ঠিক রাখতে হবে।
চোখে বিস্ময় রাখতে হবে।
গলায় নির্দোষিতা রাখতে হবে।
এবং সব প্রশ্নের উত্তরে এমন কিছু বলতে হবে যাতে কিছুই বলা না হয়।
এটাকে বলা হয় উন্নত রাজনৈতিক যোগব্যায়াম।
তবে আত্মগোপনেরও সমস্যা আছে।
মানুষ যতই লুকোতে চায়, তার অভ্যাস তাকে ধরিয়ে দেয়।
একজন মানুষ যদি বিশ বছর ধরে প্রতিদিন পঞ্চাশ জনকে নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তাহলে হঠাৎ করে সম্পূর্ণ নীরব জীবনযাপন তাঁর পক্ষে সহজ নয়।
কিছুদিন পর তাঁর মনে হয়, কাউকে ধমক দিতে ইচ্ছে করছে।
কাউকে নির্দেশ দিতে ইচ্ছে করছে।
কাউকে ফোন করে বলতে ইচ্ছে করছে, “ব্যবস্থা কর।”
কিন্তু তখনই মনে পড়ে যায়, এখন ব্যবস্থা করার চেয়ে ব্যবস্থা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ফলে আবার নীরবতা।
আবার আত্মসংযম।
আবার জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরের পৃথিবী দেখা।
এদিকে সাধারণ মানুষেরও কৌতূহল কম নয়।
যাঁদের একসময় সর্বত্র দেখা যেত, তাঁদের হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই লোকের নজর কেড়েছে।
মানুষ খুঁজছে।
খবর খুঁজছে।
গুজব খুঁজছে।
কেউ বলছে অমুক নাকি হিমালয়ে।
কেউ বলছে তমুক নাকি সমুদ্রতীরে।
কেউ বলছে আরে না না, তিনি তো পাশের জেলাতেই আছেন।
রাজনীতি কখনও কখনও গোয়েন্দা উপন্যাসকেও হার মানায়।
আর এই উপন্যাসের নায়কেরা খুব অদ্ভুত।
ক্ষমতায় থাকলে তাঁরা সর্বত্র দৃশ্যমান।
ক্ষমতা হারালে তাঁরা সর্বত্র অদৃশ্য।
দুই অবস্থার মাঝখানে কোনও মধ্যপন্থা নেই।
ইতিহাস অবশ্য এসব দেখে মুচকি হাসে।
কারণ ইতিহাস জানে, আত্মগোপন চিরকাল স্থায়ী হয় না।
একসময় সবাইকে বেরোতেই হয়।
একসময় সবাইকে মুখোমুখি হতেই হয়।
কিন্তু সেই দিন আসার আগে পর্যন্ত আত্মগোপন শিল্পের এই স্বর্ণযুগ চলবে।
গুজব চলবে।
অনিশ্চয়তা চলবে।
ফোন বন্ধ থাকবে।
দরজা অল্প ফাঁক থাকবে।
পর্দা টানা থাকবে।
আর রাজ্যের রাজনৈতিক লোককথায় জন্ম নেবে নতুন নতুন কিংবদন্তি।
কে কোথায়?
কেউ জানে না।
অথবা সবাই জানে, কিন্তু কেউ বলছে না।
(চলবে)