হাইলাইটস
- হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের।
- কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
- মার্কিন বাহিনীর দাবি, সব ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
- যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম বাহরাইন সরাসরি হামলার মুখে পড়ল।
- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এখনও চলছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে তারা একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, তবে সেগুলি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলির কোনওটিই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলিকে মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়।
বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম বাহরাইন সরাসরি হামলার আওতায় এল। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এই পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ যুদ্ধবিরতির পরও সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, কেশম দ্বীপ এবং উপসাগরীয় দেশগুলিকে ঘিরে সামরিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক।
তবে উত্তেজনার মাঝেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তাঁর কথায়, “আলোচনা চলছে”, যদিও ময়দানের পরিস্থিতি সেই দাবির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
একদিকে সামরিক হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ—এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে। আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে, দুই পক্ষ সংঘাত প্রশমনের পথে এগোয়, নাকি নতুন করে বৃহত্তর সামরিক মোকাবিলার দিকে পরিস্থিতি গড়ায়।