মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যে জানিয়েছেন—চলমান উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালী যেকোনও পরিস্থিতিতে খোলা রাখা হবে, “এইভাবে বা অন্যভাবে।” তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল প্রতিদিন এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে। এই কারণেই মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে—কোনও অবস্থাতেই এই জলপথ অবরুদ্ধ হতে দেওয়া হবে না।
রুবিওর এই মন্তব্য মূলত ইরান-কে উদ্দেশ্য করেই বলা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা। দীর্ঘদিন ধরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিয়ে আসছে, বিশেষ করে যখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক চাপ বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কা আবারও সামনে এসেছে, যা উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য কেবল কূটনৈতিক সতর্কবার্তা নয়; এর মধ্যে সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিতও রয়েছে। যদি হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়, তবে তা খুলতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এর ফলে পরিস্থিতি দ্রুত বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার উপর পড়বে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক ক্রমশ তলানিতে পৌঁছেছে। সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণ এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই নতুন মন্তব্য সেই উত্তেজনার কেন্দ্রে আরও আগুন জ্বালানোর মতো কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়—হরমুজ প্রণালী শুধু একটি জলপথ নয়, এটি এখন আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম প্রধান মঞ্চ। আগামী দিনে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, তা অনেকটাই নির্ধারণ করবে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।