বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ-উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমেরিকা ও ভারত পৃথকভাবে একাধিক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত অবমুক্ত
ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আমেরিকা তাদের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে ৪৫.২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ঋণ হিসেবে বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তেলের দামের অস্বাভাবিক উত্থান রোধ এবং সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফেরানোই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয় বলে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করে।
ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ভারতসহ তেল-নির্ভর দেশগুলির উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
ভারতের জন্য বিশেষ উদ্বেগ
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। দেশের মোট তেল আমদানির ৮৫ শতাংশেরও বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। ফলে ওই অঞ্চলে যেকোনো সংঘাত ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলে।
ভারত সরকারের জরুরি পদক্ষেপ
এই প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পরিষেবা খাতের উপর চাপ কমাতে বাণিজ্যিক এলপিজির সরবরাহ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি এলপিজির উপর নির্ভরতা কমাতে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাসের (পিএনজি) ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধ করা সম্ভব হয়। রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দ করে জরুরি পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
স্বস্তি সাময়িক, সমস্যা কাঠামোগত
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, আমেরিকার কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়া কেবল সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে — এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়। তাদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত যতদিন অব্যাহত থাকবে, ততদিন জ্বালানি বাজারে অস্থিরতাও বজায় থাকবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের মুদ্রাস্ফীতি, শিল্পখাত এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ে।
পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সরকার অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে কিনা, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।