বাংলাস্ফিয়ার: দেশের অভ্যন্তরীণ উড়ানে অতিরিক্ত চার্জ ও পরিষেবা ফি নিয়ে দীর্ঘদিনের যাত্রী অসন্তোষের জবাবে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি অভ্যন্তরীণ উড়ানে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ আসন যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে বরাদ্দ রাখতে হবে। আগে এই সীমা ছিল মাত্র ২০ শতাংশ।
এই নীতির মাধ্যমে সরকার মূলত বিমান ভ্রমণের ক্রমবর্ধমান ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছে। গত কয়েক বছরে দেশীয় উড়ানের টিকিটের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, যার ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য বিমানযাত্রা অনেকাংশেই নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে, আগে যেখানে মাত্র ২০ শতাংশ আসন এই ধরনের সুবিধার আওতায় ছিল, সেখানে তা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তন।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি উড়ানে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন এমনভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে, যাতে যাত্রীরা অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই বুকিং করতে পারেন। পাশাপাশি, একই পিএনআর (PNR)-এ বুকিং করা যাত্রীদের একসঙ্গে বসার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যা পরিবার বা দলগত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন এই বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল, কারণ আলাদা আসনের জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হত।
মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিমান সংস্থাগুলিকে তাদের ভাড়া কাঠামো সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে হবে। টিকিটের মূল দামের বাইরে অপ্রত্যাশিত চার্জ যুক্ত করার প্রবণতা যা যাত্রীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্তির কারণ হয়ে আসছিল, এই নীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বিমান পরিবহন খাত এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বাজারগুলির একটি। এই অবস্থায় যাত্রীদের আস্থা ধরে রাখা এবং পরিষেবার মান উন্নত করা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশের জন্য অপরিহার্য। সরকারের এই পদক্ষেপকে তাঁরা সেই লক্ষ্যে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, এই নতুন নির্দেশ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি ভারতের আকাশপথে ভ্রমণের ধারণাকেই বদলে দিতে পারে। যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এটি লক্ষ লক্ষ যাত্রীর জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে উঠবে, এবং বিমানযাত্রা আর বিলাসিতা নয়, বরং একটি সহজলভ্য পরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে।