বাংলাস্ফিয়ার: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন এক নীতিগত পদক্ষেপ সামনে এনেছে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতর (DHS)। “প্রজেক্ট হোমকামিং” নামের এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বিনামূল্যে বিমানটিকিট এবং ২,৬০০ মার্কিন ডলারের নগদ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পটি চালু হয় ২০২৫ সালের মে মাসে। তবে সম্প্রতি এটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন প্রশাসন একে “মানবিক ও বাস্তবসম্মত” পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে — যেখানে জোরপূর্বক বহিষ্কারের পরিবর্তে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চিত আইনি অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের জন্য এটিকে বিকল্প পথ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
এই কর্মসূচিতে যোগ দিলে অভিবাসীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন। দেশে পৌঁছানোর পর তাঁদের হাতে দেওয়া হবে ২,৬০০ ডলারের “এক্সিট বোনাস”, যা নতুনভাবে জীবন শুরুর প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারত, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রজেক্ট হোমকামিং মূলত মার্কিন অভিবাসন নীতির একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে—যেখানে “স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন” (voluntary repatriation) একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। কিন্তু এই নীতি কতটা কার্যকর হবে, এবং কতজন অভিবাসী বাস্তবে এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, তা সময়ই বলবে।
এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রণোদনামূলক নীতি কতটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারে? আর একই সঙ্গে, এটি কি সত্যিই অভিবাসীদের জন্য একটি সম্মানজনক বিকল্প, নাকি চাপের এক নতুন রূপ—এই বিতর্ক এখন আন্তর্জাতিক মহলেও গুরুত্ব পাচ্ছে।