বাংলাস্ফিয়ার: মঙ্গলবার পদত্যাগ করলেন মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা জো কেন্ট। চিঠিতে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইজরায়েলি যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করেন। কিন্তু সেই রাজনৈতিক বক্তব্যের মাঝেই উঠে আসে এক ব্যক্তিগত বেদনার কথা — তার স্ত্রী শ্যাননের কথা, একজন নৌবাহিনীর ভাষাবিদ, যিনি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রাণ হারান চিফ পেটি অফিসার শ্যানন কেন্ট। তিনি নিযুক্ত ছিলেন ‘ক্রিপ্টোলজিক ওয়ারফেয়ার অ্যাক্টিভিটি ৬৬’-এ—মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট, যা National Security Agency এবং সামরিক বিশেষ অভিযানের বাহিনীকে সহায়তা করে। মৃত্যুকালে তিনি এই বিশেষ বাহিনীগুলিকেই সহায়তা করছিলেন।

নিজেও অবসরপ্রাপ্ত আর্মি স্পেশাল ফোর্সেস কর্মকর্তা কেন্ট গত বছর একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তাঁদের প্রথম পরিচয়ের স্মৃতি তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “২০০৭ সালে আমরা মাত্র ১০ মিনিটের জন্য দেখা করেছিলাম। বাগদাদের ‘ভিল’-এ—যেখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা একত্রিত হতেন—সেখানেই প্রথম দেখা।” সেদিন শ্যানন একজন ইরানি জঙ্গি সম্পর্কে ব্রিফিং দিচ্ছিলেন। মাত্র দশ মিনিটের সেই পরিচয়েই কেন্ট বুঝেছিলেন আরও কথা বলতে চান — কিন্তু যুদ্ধের তাড়া দুজনকেই আলাদা করে দিল। “সে অন্য জায়গায় চলে গেল, বহু বছর আর দেখা হয়নি” — স্মৃতিচারণ করেন কেন্ট।
নিউ ইয়র্কের মেয়ে শ্যানন নাইন-ইলেভেনের পর দেশের টানে নৌবাহিনীতে যোগ দেন। ভাষা শেখার অসাধারণ প্রতিভা ছিল তার — নিজে নিজেই রপ্ত করেছিলেন স্প্যানিশ ও ফরাসি। পরে সামরিক প্রশিক্ষণে আরবির ইরাকি উপভাষাও আয়ত্ত করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নেভি সিল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে সক্রিয় অভিযানে যুক্ত হন।