Home খবর মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট: যুদ্ধের পরেও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই

মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট: যুদ্ধের পরেও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই

0 comments 8 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের টানা বোমা হামলার পরও ইরানের শাসনব‍্যবস্থা আপাতত ভেঙে পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে উঠে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো এখনও মোটামুটি অক্ষত এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে।

সূত্রগুলির মতে, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সমন্বিত বিশ্লেষণে একটি “স্পষ্ট ও ধারাবাহিক” ধারণা পাওয়া গেছে যে ইরানের সরকার পতনের মুখে নেই এবং দেশটির জনগণের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এখনও বজায় আছে। এসব সূত্র পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, কারণ তারা মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি পাননি।

একটি সূত্র জানায়, সর্বশেষ গোয়েন্দা মূল্যায়ন কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেটিতেও একই ধরনের উপসংহার টানা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি খুঁজে পাওয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ক্রমবর্ধমান তেলের দামের কারণে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এটিই আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান এবং তিনি শিগগিরই এটি শেষ করতে চান। কিন্তু ইরানের কট্টরপন্থী নেতৃত্ব যদি দৃঢ়ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকে, তাহলে যুদ্ধের সমাপ্তির পথ সহজ নাও হতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার প্রথম দিন—২৮ ফেব্রুয়ারি—ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরও দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঐক্য বজায় রয়েছে।

একজন প্রবীন ইজরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বন্ধ দরজার আলোচনায় ইজরায়েলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তবে সূত্রগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে পরিস্থিতি এখনও দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিশীলতা ভবিষ্যতে বদলে যেতে পারে।

এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয় (ODNI) এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (CIA)। হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক  এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সদস্যরা।

এই হামলায় খামেনি ছাড়াও ইরানের বহু  কর্মকর্তা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি একটি শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী, যা দেশের অর্থনীতির বড় অংশও  নিয়ন্ত্রণ করে।

তারপরও মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এবং খামেনির মৃত্যুর পর ক্ষমতা নেওয়া অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব এখনও দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

ইতিমধ্যে শিয়া আলেমদের একটি প্রভাবশালী পরিষদ—অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস—খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে, ইজরায়েলের অবস্থান আরও কঠোর। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল কোনোভাবেই ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবশিষ্টাংশকে টিকে থাকতে দিতে চায় না।

তবে বর্তমান মার্কিন-ইজরায়েলি সামরিক অভিযান কীভাবে ইরানের সরকারকে সরাসরি ক্ষমতাচ্যুত করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

একটি সূত্রের মতে, সত্যিকার অর্থে সরকার পতন ঘটাতে হলে সম্ভবত স্থল অভিযান প্রয়োজন হবে—যাতে ইরানের ভেতরের মানুষ নিরাপদে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ইরানে মার্কিন স্থল সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি।

কেন শাসনব্যবস্থা এখনও টিকে আছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে ইরানের সরকার এখনও স্থিতিশীল রয়েছে—

  • রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী: আইআরজিসি এবং নিরাপত্তা বাহিনী এখনও কার্যকরভাবে দেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
  • দ্রুত উত্তরাধিকার মীমাংসা: খামেনির মৃত্যুর পর দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হতে দেওয়া হয়নি।
  • বিরোধী শক্তির দুর্বলতা: সংগঠিত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ বা শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প এখনও স্পষ্ট নয়।
  • যুদ্ধকালীন জাতীয়তাবাদ: বহিরাগত হামলা অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে নাগরিক অসন্তোষকে সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়।

ফলে, যুদ্ধ চললেও ইরানের শাসনব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়বে,এমন ধারণাকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনই সমর্থন করছে না।

 

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles