Table of Contents
বিলের মূল কথা
কেন্দ্র সরকার সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, ২০২৬ প্রস্তাব করেছে। এই বিলে লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে — যার মধ্যে ৮১৫টি আসন রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এই পরিবর্তন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। আসন বণ্টনের ভিত্তি হবে ২০১১ সালের আদমশুমারি।
উত্তর ও মধ্য ভারত: সবচেয়ে বেশি লাভবান
জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলো এই পুনর্বিন্যাসে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে। প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের আসন ৮০ থেকে বেড়ে ১২৮, বিহারের ৪০ থেকে ৭০, মধ্যপ্রদেশের ২৯ থেকে ৪৭, মহারাষ্ট্রের ৪৮ থেকে ৬৮ এবং রাজস্থানের ২৫ থেকে ৪৪ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ ভারত: মিশ্র চিত্র
দক্ষিণের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। কর্ণাটকের আসন ২৮ থেকে ৩৬, তেলেঙ্গানার ১৭ থেকে ২০, অন্ধ্রপ্রদেশের ২৫ থেকে ২৮ এবং তামিলনাড়ুর ৩৯ থেকে ৪১ হতে পারে। তবে কেরালার ক্ষেত্রে চিত্রটা উল্টো — সেখানে আসন ২০ থেকে কমে ১৯ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ ভারতের আপত্তি কেন?
তামিলনাড়ু, কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার অভিযোগ, তারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। অথচ জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন হলে উল্টো তাদেরই প্রতিনিধিত্ব কমবে। সোজা কথায়, উন্নয়নের পুরস্কারের বদলে তারা শাস্তি পাচ্ছে।
কার্নেগি রিপোর্টের হিসাব আরও স্পষ্ট — উত্তরের চারটি রাজ্য মিলিয়ে ২২টি আসন বাড়বে, আর দক্ষিণের চারটি রাজ্য মিলিয়ে ১৭টি আসন হারাবে।
মহিলা ও সংরক্ষিত আসন
নতুন লোকসভায় মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত আসন ৮৪ থেকে বেড়ে ১৩৬ এবং তফসিলি উপজাতির জন্য ৪৭ থেকে বেড়ে ৭০ হবে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার
রাজ্যভিত্তিক চূড়ান্ত আসন সংখ্যা এখনো ডিলিমিটেশন কমিশন নির্ধারণ করেনি। বিলটি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ সংসদে পেশ হচ্ছে — এখনো পাস হয়নি। উপরের সব সংখ্যাই প্রস্তাবিত ও আনুমানিক।