Home খবর সংবিধান সংশোধন ও ডিলিমিটেশন বিল আসতে চলেছে

সংবিধান সংশোধন ও ডিলিমিটেশন বিল আসতে চলেছে

0 comments 5 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ করতে চলেছে। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩ জন সদস্য রয়েছেন। আগামী ১৬ ও ১৭ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বিলটি আলোচনার জন্য পেশ করা হবে।

বিলে সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদও সংশোধন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদটি জনগণনার পরে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এতদিন সংবিধান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পরে অনুষ্ঠিত প্রথম জনগণনার ভিত্তিতে পরবর্তী নির্বাচনী কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে হতো। নতুন প্রস্তাবে সেই বাধ্যবাধকতাটি বাতিল করা হচ্ছে, ফলে ২০২৬-২৭ সালের জনগণনার আগের তথ্যের ভিত্তিতেও কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

সংশোধিত ৮১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লোকসভায় রাজ্যগুলি থেকে সর্বোচ্চ ৮১৫ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে নির্বাচিত হবেন আরও সর্বোচ্চ ৩৫ জন।

জনগণনা ও কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার পথও সুগম হবে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী অনুযায়ী, লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের পরে অনুষ্ঠিত প্রথম জনগণনার পরে সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে। বর্তমান বিলে ৩৩৪ক অনুচ্ছেদ সংশোধন করে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা যাবে।

সংবিধান সংশোধনী বিলের পাশাপাশি কেন্দ্র সরকার ২০২৬-এর  পরিসীমানা বিলও পেশ করতে চলেছে।এর উদ্দেশ‍্য ২০০২ সালের পরিসীমানা আইনকে বাতিল করে তার জায়গায় নতুন আইন প্রণয়ন করা।

নতুন বিল অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একটি পরিসীমানা ( ডিলিমিটেশন) কমিশন গঠন করতে পারবে। কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন কোনও বিচারক। পদাধিকারবলে সদস্য হিসেবে থাকবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা তাঁর মনোনীত কোনও নির্বাচন কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। প্রতিটি রাজ্যের জন্য কমিশনের সহায়তায় দশজন সহযোগী সদস্য থাকবেন, যাঁদের মধ্যে পাঁচজন হবেন সংসদ সদস্য এবং পাঁচজন রাজ্য বিধানসভার সদস্য। তবে তাঁদের ভোটাধিকার থাকবে না এবং কমিশনের সিদ্ধান্তে তাঁরা সই করতে পারবেন না।

কমিশন সর্বশেষ জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে লোকসভা ও বিধানসভায় প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আসন বরাদ্দ পুনর্নির্ধারণ করবে এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা নতুনভাবে নির্ধারণ করবে। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে বর্তমানে আসন বন্টন ১৯৭১ সালের এবং নির্বাচনী এলাকার বিভাজন ২০০১ সালের জনগণনার উপর ভিত্তি করে রয়েছে, যা দেশের বর্তমান জনবিন্যাসকে আর সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না।

কমিশন নির্ধারণ করবে লোকসভা ও বিধানসভায় প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আসনসংখ্যা, তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা এবং সংসদীয় ও বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা। নির্বাচনী এলাকা ভৌগোলিকভাবে সংহত হতে হবে এবং প্রশাসনিক সীমানা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনতার সুবিধার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো, লোকসভা ও বিধানসভার মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে, যার মধ্যে তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলারাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন রোটেশন বা আবর্তনের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় বরাদ্দ হবে এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত মহিলা আসনগুলো সেই বিভাগের জন্য ইতিমধ্যে সংরক্ষিত এলাকাগুলোর মধ্যেই আবর্তিত হবে।

পরিসীমানা কমিশনের আদেশ একবার গেজেটে প্রকাশিত হলে তা আইনের মতোই কার্যকর হবে এবং কোনও আদালতে তা নিয়ে আবেদন করা যাবেনা। তবে বর্তমান লোকসভা বা বিধানসভা ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হবে না এবং ভাঙার আগে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনগুলো পুরনো সীমানার ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।​​​​​​​​​​​​​​​​

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles