Home খবর যুদ্ধের আঁচ এবার হেঁশেলে, এলপিজি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র

যুদ্ধের আঁচ এবার হেঁশেলে, এলপিজি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র

0 comments 5 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব এবার ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে শুরু করেছে। দেশের হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার তিন সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। আতিথেয়তা খাতের দৈনন্দিন কার্যক্রম এলপিজির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই উদ্যোগকে শিল্পমহল গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কমিটিতে দেশের তিনটি প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার—ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড – একজন করে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ এই তিন সংস্থার উপর নির্ভরশীল। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং দ্রুত সমাধান বের করতে তাদের অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এলপিজি ঘাটতির বিষয়টি প্রথম সামনে আনে ফেডারেশন অব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনস অব ইন্ডিয়া। সংগঠনটি সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের কাছে অভিযোগ জানায় যে দেশের বিভিন্ন শহরে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার পেতে গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের দাবি, সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় রান্নাঘর চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই বিকল্প জ্বালানির কথা ভাবতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে বড় কারণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে তেল ও গ্যাস সরবরাহের পথ এবং মূল্য—উভয়ই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ Strait of Hormuz দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ তৈরি হচ্ছে। আমদানি-নির্ভর দেশ হিসেবে ভারতের বাজারে এর প্রভাব দ্রুত পড়া স্বাভাবিক।
এই পরিস্থিতিতে সরকার শুধু কমিটি গঠনেই থেমে থাকেনি। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশের অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত এলপিজি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের উপর চাপ কমানো যায়। জ্বালানি মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত আমদানি চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
নতুন কমিটির প্রধান কাজ হবে সারা দেশে এলপিজি সরবরাহের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা, কোথায় কী ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। বিশেষ করে আতিথেয়তা শিল্পে বাণিজ্যিক এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে আলাদা নীতিগত ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হতে পারে।
ভারতের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্প অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল এবং শহর থেকে পর্যটনকেন্দ্র—সব জায়গাতেই হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করে। ফলে এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে শুধু ব্যবসা নয়, কর্মসংস্থান এবং পরিষেবা ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই কারণেই সরকারের দ্রুত পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। শিল্পমহলের মতে, এলপিজি সরবরাহ শৃঙ্খল দ্রুত স্থিতিশীল করা গেলে আতিথেয়তা খাতের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে এবং ভোক্তাদের আস্থাও বজায় থাকবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই অনিশ্চিত হোক, অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles