দেশ

বাড়ির কাজ করাতে দুই বন্দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই জেলেই বন্দি জেলার

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • যে কারাগারে বন্দিদের পাহারা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল তাঁর, এখন সেখানেই বন্দি হয়ে ফিরেছেন রাজস্থানের আজমেরের জেলার দিব্যা চৌধুরি।
  • অভিযোগ, নিজের বাড়ির কাজ করানোর জন্য নিয়ম ভেঙে দুই মহিলা বন্দিকে জেলের বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
  • প্রায় দু’মাস আত্মগোপনে থাকার পরে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

যে কারাগারে বন্দিদের পাহারা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল তাঁর, এখন সেখানেই বন্দি হয়ে ফিরেছেন রাজস্থানের আজমেরের জেলার দিব্যা চৌধুরি। অভিযোগ, নিজের বাড়ির কাজ করানোর জন্য নিয়ম ভেঙে দুই মহিলা বন্দিকে জেলের বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দু’মাস আত্মগোপনে থাকার পরে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাঁকে পাঠানো হয়েছে আজমের কেন্দ্রীয় কারাগারেই।

সাঁইত্রিশ বছরের দিব্যা আজমেরে দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। তাঁর স্বামী কারা দফতরে কর্মরত, পোস্টিং কোটায়। জেল থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ছিল দিব্যার বাসা। পুলিশের বক্তব্য, মেয়েদের দেখাশোনা ও ঘর পরিষ্কারের কাজে সাহায্য প্রয়োজন ছিল তাঁর। সেই প্রয়োজন মেটাতেই নিজের হেফাজতে থাকা বন্দিদের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে অভিযোগ।

ঘটনাটি গত ১২ জুলাইয়ের। পুলিশের অভিযোগ, সহকর্মী মহিলা কারারক্ষী সোনিয়া চৌধরিকে সঙ্গে নিয়ে কিরণ ও সানা নামে দুই বন্দিকে বাইরে নিয়ে যান দিব্যা। আদালতের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি, জেলের নথিতেও তাঁদের বেরোনোর তথ্য লেখা হয়নি বলে অভিযোগ। জেলের মূল ফটকে দায়িত্বে থাকা কর্মীরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু দিব্যা ও সোনিয়া তাঁদের ভয় দেখিয়ে বাধা সরানোর চেষ্টা করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

পুলিশের দাবি, দুই বন্দিকে ব্যক্তিগত গাড়িতে দিব্যার বাসায় নিয়ে গিয়ে পরিষ্কারের কাজ করানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হতে বেশি সময় লাগেনি। আজমেরের ডেপুটি পুলিশ সুপার শিবম জোশীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক থেকে দু’ঘণ্টার মধ্যেই ওই দুই মহিলাকে আবার জেলে ফিরিয়ে আনা হয়।

এর পরে কারা কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেন। কারারক্ষী মহিপাল মাঙ্গলোদার অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ আগস্ট আজমেরের সিভিল লাইনস থানায় মামলা রুজু হয়। ঘটনার জেরে দিব্যা ও সোনিয়া দু’জনকেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পুলিশের বক্তব্য, মামলা হওয়ার পরে গ্রেফতারি এড়াতে দিব্যা আত্মগোপন করেন। ফলে তাঁকে খুঁজে বের করতে বিশেষ দল গঠন করতে হয়।

তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন নথি এবং প্রযুক্তিগত তথ্য পরীক্ষা করা হয়। নিয়মিত পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি অভিযানে যুক্ত হয় সাইবার সেল। মোবাইলের সূত্র ধরে দিব্যার অবস্থান চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। ৬ অক্টোবর কোটার একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালত তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠায়। যে প্রতিষ্ঠানে একসময় তিনি দায়িত্ব সামলাতেন, সেখানেই অভিযুক্ত হিসেবে ফিরতে হয় তাঁকে।

তবে পুলিশের কাছে দিব্যা অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘর পরিষ্কারের সাহায্যের জন্য তিনি সোনিয়াকে খোলা জেল থেকে মহিলা আনতে বলেছিলেন। ওই ব্যবস্থায় বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে বলেই এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য। কিন্তু সোনিয়া পরিবর্তে এই দুই বন্দিকে নিয়ে আসেন বলে দাবি করেছেন দিব্যা। এই বক্তব্য তাঁর আত্মপক্ষসমর্থন; অভিযোগের বিচার এখনও বাকি।

রাজস্থানের ২০২২ সালের কারাবিধি অনুযায়ী, বন্দিদের হেফাজত, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জেলারের দায়িত্ব। নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি বা অনিয়ম ঘটলে তা জেল সুপারকে জানাতেও হয়। সেই দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই নিয়ম ভাঙার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই ঘটনায়।

এই ঘটনায় ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য সরকারি ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্ন সামনে এসেছে। বন্দিরা কারা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকেন; তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বও সেই কর্তৃপক্ষের। ফলে তাঁদের বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি, নথিভুক্তি এবং নজরদারির বিষয়গুলি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগই তদন্তের কেন্দ্রে। কর্মীদের আপত্তির পরেও কীভাবে দুই বন্দি বাইরে গেলেন, সেটিও ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সহঅভিযুক্ত সোনিয়ার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তে তাঁর ভূমিকা এবং দুই বন্দিকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাক্রম আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা। আপাতত দিব্যার পরিচয় বদলেছে: তিনি আর ওই জেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে নেই, রয়েছেন মামলায় অভিযুক্ত বন্দি হিসেবে। তবে গ্রেফতার ও জেল হেফাজত মানেই দোষসিদ্ধি নয়; অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে আদালতে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles