International

‘ফায়ারওয়ালে’ প্রথম ফাটল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম জার্মানির কোনও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের স্পিকার হলেন অতি দক্ষিণপন্থী দল অলটারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচলান্ড (এএফডি)-র কোনও নেতা।
  • মঙ্গলবার স্যাক্সনি-আনহাল্টের প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এএফডির টোবিয়াস রাউশ।
  • তাঁর বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ২৯টি, পাঁচজন ভোটদানে বিরত থাকেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম জার্মানির কোনও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের স্পিকার হলেন অতি দক্ষিণপন্থী দল অলটারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচলান্ড (এএফডি)-র কোনও নেতা। মঙ্গলবার স্যাক্সনি-আনহাল্টের প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এএফডির টোবিয়াস রাউশ।

প্রথম দফার ভোটেই জয় পান ৩৫ বছর বয়সি রাউশ। মোট ৮২টি ভোটের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৪৮টি। তাঁর বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ২৯টি, পাঁচজন ভোটদানে বিরত থাকেন।

এদিনের পরবর্তী অধিবেশনে এএফডির আরও কট্টরপন্থী অংশের নেতা হান্স-টোমাস টিলশ্নাইডারও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তিনি পেয়েছেন ৪৪টি ভোট।

পূর্ব জার্মানির এই রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এএফডিকে ‘দক্ষিণপন্থী উগ্রবাদী’ দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গত মাসের নির্বাচনে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পায়। ফলটি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং তাঁর মধ্য-দক্ষিণপন্থী দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটসের (সিডিইউ) জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজ্যের রাজধানী মাগডেবুর্গে নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রথম অধিবেশনেই রাউশ স্পিকার নির্বাচিত হন। পেশাগত জীবনে তিনি একসময় বাড়ি-জমি কেনাবেচার এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন।

পার্লামেন্টে এএফডির আসনসংখ্যা ৩৯—নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে সামান্য কম। ছোট বামপন্থী দল বিএসডব্লিউয়ের পাঁচ সদস্য আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁরা রাউশকে ভোট দেবেন। রাশিয়া ও অভিবাসন প্রশ্নে এই দলের অবস্থানের সঙ্গে এএফডির বেশ কিছু মিল রয়েছে।

গোপন ব্যালটে রাউশের পাওয়া ৪৮টি ভোট থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিএসডব্লিউয়ের পাঁচ ভোটের বাইরে আরও চারজন সদস্য তাঁকে সমর্থন করেছেন।

এখানেই জার্মান রাজনীতিতে উঠে আসছে ‘ফায়ারওয়াল’-এর প্রশ্ন। এএফডিকে রাজনৈতিকভাবে বর্জন করার বিষয়ে মূলধারার দলগুলির দীর্ঘদিনের অলিখিত সমঝোতাকেই ‘ফায়ারওয়াল’ বলা হয়। কিন্তু স্যাক্সনি-আনহাল্টে রাউশের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই রাজনৈতিক প্রাচীরে প্রথম বড় ফাটলের ইঙ্গিত মিলল।

বিএসডব্লিউয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাহরা ভাগেনক্নেখট সম্প্রতি ‘ফায়ারওয়ালের নির্বুদ্ধিতা’ দূর করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দলের উপনেতা ক্রিস্টিয়ান লাইয়েও বলেছেন, ‘ফায়ারওয়াল কাজ করছে না’। তাঁর যুক্তি, প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোটদাতার সমর্থন পাওয়া এএফডিকে উপেক্ষা করা যায় না।

জার্মান সংবাদমাধ্যমকে লাইয়ে বলেন, এএফডির মোকাবিলায় ‘বুদ্ধিদীপ্ত পথ’ খুঁজতে হবে। তাঁর মতে, শুধু রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি না করে দলটির কর্মসূচির বিষয়বস্তু নিয়েই মোকাবিলা করা উচিত।

তবে রাউশের নির্বাচনের পর আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি স্যাক্সনি-আনহাল্টে ভবিষ্যতে এএফডির সরকার গঠনের পথও খুলে দিতে পারে? এতদিন সেই সম্ভাবনাকে তুলনামূলকভাবে ক্ষীণ বলে মনে করা হলেও, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালে পরিস্থিতি অন্য দিকে যেতে পারে।

এদিকে, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত টিলশ্নাইডারের ক্ষেত্রে সমীকরণটি আরও জটিল। বিএসডব্লিউ আগেই জানিয়েছিল, তারা তাঁকে ভোট দেবে না। তা সত্ত্বেও টিলশ্নাইডার পেয়েছেন ৪৪টি ভোট। ফলে তাঁর পক্ষে কারা ভোট দিয়েছেন, তা সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়নি।

এএফডির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম রচয়িতা টিলশ্নাইডার। তাঁকে রাজ্যের সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানমন্ত্রী করার পরিকল্পনাও রয়েছে দলের। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তিনি ‘সুস্থ মূল্যবোধসম্পন্ন একজন প্রকৃত পুরুষ’ বলে বর্ণনা করেছেন। অভিবাসীদের নিয়েও তিনি একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।

ইসলামি বিদ্যার গবেষক টিলশ্নাইডার ইসলামকে ‘জার্মান ওকগাছে’ বেড়ে ওঠা ‘ছত্রাক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অথচ তাঁর নিজের পরিবার ১৯৮০-এর দশকে রোমানিয়া থেকে জার্মানিতে এসে বসতি গড়েছিল।

স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের ভাষণে অবশ্য রাউশ নিজেকে দলমতের ঊর্ধ্বে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ‘ভিন্নমতকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন’ এবং ‘স্বচ্ছভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন’।

তাঁর এই বক্তব্যে হাততালি দেন এএফডি ও বিএসডব্লিউয়ের সদস্যরা। অন্য সদস্যদের মধ্যে অবশ্য বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

স্যাক্সনি-আনহাল্টের এই ভোট তাই শুধু একজন নতুন স্পিকার নির্বাচনের ঘটনা নয়। জার্মান রাজনীতিতে এএফডিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ‘ফায়ারওয়াল’ কতটা অটুট থাকবে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এই ফল।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles