এআইয়ে ভয়াবহ বাড়বাড়ন্ত

যা জানা জরুরি
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে।
- চলতি বছরের প্রথম ছ’মাসেই এমন ৬,৩১০টি ছবি শনাক্ত করেছে ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ)—যা ২০২৫ সালের গোটা বছরের সংখ্যাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।
- ব্রিটেনভিত্তিক এই সংস্থা বিশ্বজুড়ে শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদানের উপর নজরদারি চালায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। চলতি বছরের প্রথম ছ’মাসেই এমন ৬,৩১০টি ছবি শনাক্ত করেছে ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ)—যা ২০২৫ সালের গোটা বছরের সংখ্যাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।
ব্রিটেনভিত্তিক এই সংস্থা বিশ্বজুড়ে শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদানের উপর নজরদারি চালায়। আইডব্লিউএফের বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তাঁরা যে সংখ্যক বাস্তবের মতো দেখতে এআই-নির্মিত ছবি পেয়েছেন, আগের পুরো বছরেও তা পাননি। তাদের পরীক্ষায় ধরা পড়া ৬,৩১০টি ছবি আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল সাড়ে চার হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ, বছরের অর্ধেক সময়েই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
গত কয়েক বছর ধরেই এআইয়ের সাহায্যে তৈরি শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদানের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ভিডিয়োর ক্ষেত্রে বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। তবে আইডব্লিউএফের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানটি শুধুমাত্র স্থিরচিত্রের। বিশ্লেষকদের দেখা ছবিগুলির অধিকাংশেই ছিল মেয়েশিশু। বয়সের হিসাবে সাত থেকে তেরো বছরের শিশুদের ছবিই সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে।
আইডব্লিউএফের মতে, এই পরিসংখ্যান এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে আরও কঠোর আইন তৈরির প্রয়োজনীয়তাই সামনে আনছে।
তবে ব্রিটেনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকার শীঘ্রই এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনও বিল আনছে, এমন ইঙ্গিত এখনও মেলেনি। এআই-বিষয়ক মন্ত্রী কণিষ্ক নারায়ণ জানিয়েছেন, নতুন নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কোনও আইন আনার আগে সরকারের মূল প্রশ্ন হবে, “এতে কি ব্রিটেনের মানুষ আরও নিরাপদ হবেন?”
আইডব্লিউএফের নীতিবিষয়ক প্রধান হান্না সুইরস্কি প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে আরও নিরাপদ এআই মডেল তৈরি করতে বাধ্য করার পক্ষে। তাঁর মতে, এআই নিয়ে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা আইন তৈরির যে দাবি সাংসদেরা তুলেছেন, তা সমর্থনযোগ্য।
তিনি বলেন, “এমন সরঞ্জাম তৈরি করা প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দায়িত্ব, যেগুলির এইভাবে অপব্যবহার করা যাবে না।” তাঁর কথায়, “প্রযুক্তিই এই সমস্যার জন্ম দিয়েছে। আর সংস্থাগুলি যদি গোড়া থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন সরঞ্জাম তৈরি না করে…”
ব্রিটেনে এআই ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান তৈরি করা বেআইনি। এমন উপাদান তৈরির উদ্দেশ্যে কোনও এআই মডেলকে পরিবর্তন করা কিংবা অন্যদের মধ্যে সেই মডেল ছড়িয়ে দেওয়াও নিষিদ্ধ। হুবহু বাস্তবের মতো দেখতে শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি তৈরির জন্য বিশেষভাবে কোনও মডেল তৈরি করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, “ব্রিটেনের আইন স্পষ্ট: শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান বেআইনি, তা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি হোক বা না হোক।” তাঁর বক্তব্য, সরকার আরও এক ধাপ এগিয়ে এমন এআই মডেল নিষিদ্ধ করছে, যেগুলি এই ধরনের নির্যাতনের উপাদান তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। “এগুলি ভয়াবহ, অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করে, যাতে প্রায়ই প্রকৃত শিশুদের চেহারার মিল থাকে।”
এআইয়ের আর একটি বিপজ্জনক দিক হল, শিশুদের আসল ছবি ব্যবহার করে সেগুলিকে বিকৃত করে যৌন ছবি বানানোর সুযোগ। অন্তরঙ্গ ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কাজ করা ‘রিপোর্ট রিমুভ’ পরিষেবায় ইতিমধ্যেই শিশুদের কাছ থেকে ৪২০টি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, তাঁদের আসল ছবি জাল করে বা বিকৃত করে যৌন ছবিতে পরিণত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এমন অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৩৯৭। অর্থাৎ, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে গিয়েছে।
শিশুদের যৌন নির্যাতনে ব্যবহারের জন্য এআই-ভিত্তিক সরঞ্জামের এমন অপব্যবহারের প্রেক্ষিতে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং আইডব্লিউএফ বাবা-মা ও অভিভাবকদের সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের নির্দেশিকায় সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত রাখা এবং শিশুদের ছবি শুধুমাত্র ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ গোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



