সমীক্ষাকে টপকে ফ্লাভিও

যা জানা জরুরি
- প্রথম দফায় লুলাকে পিছনে ফেলে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় জনমত সমীক্ষার পূর্বাভাস ছাপিয়ে এগিয়ে গেলেন দক্ষিণপন্থী…
- তবে সরাসরি জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি বৈধ ভোট কোনও প্রার্থীই পাননি।
- ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হবেন ফ্লাভিও এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রথম দফায় লুলাকে পিছনে ফেলে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় জনমত সমীক্ষার পূর্বাভাস ছাপিয়ে এগিয়ে গেলেন দক্ষিণপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে সরাসরি জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি বৈধ ভোট কোনও প্রার্থীই পাননি। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হবেন ফ্লাভিও এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষও দ্বিতীয় দফার লড়াই নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৯৭ শতাংশের কিছু বেশি ব্যালট গণনার সময়ে বৈধ ভোটের ৪৭.৪৫ শতাংশ পেয়েছিলেন ফ্লাভিও। লুলার ঝুলিতে ছিল ৪৪.৬৬ শতাংশ। শেষ পর্যন্তও ব্যবধান কাছাকাছিই থাকে। প্রথম দফায় ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ব্রাজিলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি না পেলে সর্বাধিক ভোট পাওয়া দু’জনকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হয়।
সমীক্ষার হিসাব ওলটপালট
এই ফলাফলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, ভোটের আগে প্রকাশিত অধিকাংশ সমীক্ষায় এগিয়ে থাকা লুলাকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন ফ্লাভিও। ভোটের আগের দিন প্রকাশিত সিএনটি/এমডিএ সমীক্ষায় সম্ভাব্য বৈধ ভোটের হিসাবে লুলার সমর্থন ছিল ৪৭.৮ শতাংশ, ফ্লাভিওর ৪২.১ শতাংশ। অন্য সমীক্ষাগুলিতেও প্রথম দফায় লুলাকে এগিয়ে রাখা হয়েছিল।
তবে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য লড়াইয়ে ব্যবধান অনেকটাই কম ছিল। সেপ্টেম্বরের শেষের রয়টার্স-উদ্ধৃত সমীক্ষাগুলিতেও লুলা ও ফ্লাভিওকে সম্ভাব্য রান-অফে প্রায় সমানে সমান দেখা গিয়েছিল। তাই প্রথম দফায় ফ্লাভিওর এগিয়ে যাওয়াকে চূড়ান্ত ফলের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
বাবার ছায়া, ছেলের লড়াই
ফ্লাভিও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য বাবার দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শিবিরকে ফের ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসা। অন্য দিকে, ৮০ বছরের লুলা চাইছেন চতুর্থ বার, যদিও পরপর নয়, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হতে।
ফ্লাভিওর প্রচারের অন্যতম বিষয় ছিল অপরাধ দমন, সরকারি ব্যয়ে সংযম এবং আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা। লুলার প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে সামাজিক সুরক্ষা, শ্রমিকস্বার্থ ও পরিবেশ সংরক্ষণ। ফলে দ্বিতীয় দফায় লড়াই শুধু দুই প্রার্থীর জনপ্রিয়তার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার দুই ভিন্ন অগ্রাধিকারেরও পরীক্ষা হতে চলেছে।
ভোটের ভিতরে জমে থাকা ক্ষোভ
এ বারের প্রচারের কেন্দ্রে ছিল জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ, দুর্নীতি এবং অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ। বেকারত্ব ও বৈষম্য কমলেও বহু পরিবারের ঋণের বোঝা এবং দৈনন্দিন খরচের চাপ লুলার সরকারের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফ্লাভিও সেই অসন্তোষকে প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার করেছেন।
অন্য দিকে, লুলা সামাজিক সহায়তা বাড়িয়েছেন এবং পরিবারের ঋণের চাপ কমানোর জন্য নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিশ্লেষকদের মতে, লুলাকে ঠেকাতে প্রথম দফায় অন্য প্রার্থীদের কিছু ভোটও ফ্লাভিওর দিকে চলে গিয়ে থাকতে পারে।
ফল প্রকাশের পর ফ্লাভিও বলেন, ব্রাজিল পরিবর্তন চাইছে। লুলা ফলাফলকে অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করলেও পরের দিন থেকেই নতুন প্রচার শুরু করার কথা জানিয়েছেন। এখন দুই শিবিরের নজর প্রথম দফায় বাদ পড়া প্রার্থীদের ভোটারদের দিকে।
তৃতীয় স্থানে থাকা অগুস্তো কুরি কাউকেই সমর্থন করবেন না বলে জানিয়েছেন। রোনালদো কাইয়াদো এবং রেনান সান্তোসও একই অবস্থান নিয়েছেন। ফলে প্রথম দফায় তাঁদের সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগামী তিন সপ্তাহে এই ভোটারদের মনোভাবই প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ হয়ে উঠতে পারে।
ব্রাজিলের বাইরে নজর
নির্বাচনের গুরুত্ব শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। আমেরিকার সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্কও এই ভোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফ্লাভিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর প্রচারে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার কথা গুরুত্ব পেয়েছে। লুলা অন্য দিকে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জোর দিয়েছেন এবং আমেরিকার সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে সতর্ক করেছেন।
এ দিকে দুর্নীতির অভিযোগ, অপরাধ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা প্রচারের নীতিগত বিতর্ককে অনেকটাই ছাপিয়ে গিয়েছে। দুই প্রধান প্রার্থীই শেষ টেলিভিশন বিতর্কে অংশ না নেওয়ায় সেই বিতর্কও বাতিল হয়ে যায়।
প্রথম দফার ফল তাই দুই শিবিরকেই নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করছে। ফ্লাভিওর লক্ষ্য প্রথম দফার গতি ধরে রাখা, আর লুলার সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বিস্তৃত ভোটভিত্তি তৈরি করা। ছোট প্রার্থীদের সমর্থক এবং এখনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া ভোটারদের মনোভাব আগামী তিন সপ্তাহে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
২৫ অক্টোবরের দ্বিতীয় দফার ভোটেই ঠিক হবে, লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির পরবর্তী নেতৃত্ব কার হাতে যাবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



